একলা বলো রে

English   |   Bangla

যে মাটিতে ধরাশায়ী হয়েছিল সেই সিঙ্গুর থেকেই ফিনিক্সের মতো ফিরতে চাইছে সিপিএম

সিঙ্গুরে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের শিল্পের স্বপ্ন রাজ্যে সিপিএমের ভিতটাই উপড়ে ফেলল

 |   Long-form |   02-12-2018
  • Total Shares

কৃষক আত্মহত্যা করছে। ঋণের জালে জড়িয়ে পড়ছে। ফসলের দাম পাচ্ছে না। কাজ নেই খেতমজুরের। তাহলে তারা বাঁচবে কী করে?

কোনও বছর বৃষ্টি না হলে আমন ধান মাঠেই মরে যায়। কোনও বার ফসল হলেও তার ঠিকঠাক দাম পায় না কৃষক। এ সব কথা তো নতুন নয়, গত কয়েক বছর ধরে নানা ভাবেই বলা কওয়া হচ্ছে- কাজ চাই খেতমজুরদের। মাঠের কাজ কাড়ছে মেশিন। ১০০ দিনের কাজ নেই। কোথায় যাবে খেতমজুরের ঘরের ছেলে?

৪০ লক্ষ বেকার ছেলে খেটে খাওয়ার জন্য রাজ্যের বাইরে। সেখানেও কী তারা খুব নিশ্চিন্তে আছে? গুজরাটে, অসমে যা ঘটছে, তাতে তো অভিভাবকদের নিশ্চিন্তে থাকার কথা নয়! গত কয়েক বছরের মধ্যে গোটা দেশে কৃষক আত্মহত্যা বেড়ে গেল। এ পর্যন্ত গোটা দেশে ৪ লক্ষ কৃষক আত্মহত্যা করেছেন। পশ্চিমবঙ্গেও গত সাত বছরে ১৭৯ জন কৃষক আত্মঘাতী হয়েছেন। ফ্রান্সেও কৃষকরা আত্মহত্যা করছেন, আমেরিকাতেও। এত আত্মহত্যা কেন?

farmer_647_102815035_120218081546.jpg মন্দির, তালাক, সমকামিতা নিয়ে সকলে চর্চা করলেও দীর্ঘদিন কৃষকদের সমস্যা নিয়ে কোনও দলকেই মাথা ঘামাতে দেখা যায়নি (ছবি: ইন্ডিয়া টুডে)

বাইরের কথা আপাতত থাক, ঘরের কথাতেই ফিরি। আসলে ভয়াবহ সঙ্কটে কৃষক। প্রথমত  কৃষক আত্মহত্যা করছেন ফসলের দাম না পাওয়ার জন্য। দ্বিতীয় কারণ হল, ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ না মেলায় সুদখোরদের কাছ থেকে চড়া সুদে টাকা ধারের জন্য। তৃতীয়ত, বন্যা-খরায় ফসল নষ্টের পর উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ না মেলায়। আর সর্বশেষ কারণ হল ফসলে বিমার ব্যবস্থা না থাকা। হালে এই সঙ্কট তীব্র হয়েছে। কৃষক আত্মহত্যার ঘটনা সম্প্রতি বেড়েছে ৪২ শতাংশ।

পরিসংখ্যান বলছে, ১৯৭০ সালের পর গোটা দেশে যত সরকার এসেছে তারমধ্যে সবচেয়ে কৃষকবিরোধী নীতি নিয়ে চলেছে কেন্দ্রের বর্তমান সরকার। গোটা দেশে যখন তীব্র সঙ্কটে কৃষক, তখন নবান্ন থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলছেন, গত সাত বছরে এ রাজ্যে তিনগুণ আয় বেড়েছে কৃষকের। তাহলে এ রাজ্যে কৃষক আত্মহত্যার ঘটনাগুলি কি স্রেফ গল্প? বহু গরিব মানুষ ঋণের জালে জড়িয়ে পড়ে কিন্তু কেবল কৃষক কেন আত্মহত্যা করে? মাঠে ফসল ফলাতে কাজ করে বহু লোক তারা কি সবাই কৃষক। এরকম আরও বহু প্রশ্ন কৃষকের আত্মহত্যা প্রসঙ্গে উঠে আসছে কিন্তু তাতে সমস্যা মিটছে কই?

হপ্তা দুই আগেও রাজ্যের এক কৃষক ৯ কুইন্টাল ধান বিক্রি করে কুইন্টাল পিছু দাম পেয়েছেন ১০৫০ টাকা। ধানের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য ১৭৫০ টাকা। তার মানে ৬৩০০ টাকা কম দামে তিনি ধান বেচেছেন। অথচ চাষ করতে তার দ্বিগুণ খরচ হয়েছে। ধান তো সরকার কিনবে সহায়ক মূল্য দিয়ে। কিন্তু গ্রামে ধান কেনার কেন্দ্র কোথায়, কিষান মান্ডি?  

কৃষকরা ধান বিক্রি করছেন আড়তদারের গোলায়। একই সময় রাজ্যের আরেক কৃষক এক কুইন্টাল পাট বেচেছেন তিন হাজার টাকায়। এক কিলো লঙ্কা তুলতে মজুরি দিতে হয়েছে ৭ টাকা। সেই লঙ্কা বাজারে গিয়ে বিক্রি করতে হয় ৬ টাকা দরে। তো এই হল এ রাজ্যের কৃষকদের তিনগুণ আয় বাড়ার নমুনা! বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে এটাই চলছে রাজ্যজুড়ে। কোনও ফসলের লাভজনক দর তো দূরের কথা, খরচটুকু তুলতে পারছেন না কৃষক।

বিগত বিশ-ত্রিশ বছর গোটা দেশের কৃষকদের খোঁজ রাখেনি কেউই। খবরের কাগজ, টিভি, রেডিয়ো কেউ যেমন বলেনি কৃষকের কথা তেমনই ডান বাম কোনও রাজনৈতিক দলও কৃষকদের অবস্থা, কৃষি ব্যবস্থা নিয়ে মাথা ঘামানোর দরকার মনে করেনি। যত কথা মন্দির নিয়ে, যত তর্ক তালাক নিয়ে, যত চিন্তা সমকামিতা নিয়ে, তার একটি ছিটেফোঁটাও কৃষকদের নিয়ে ভাবা কিংবা বলা হয়নি।

চলতি বছরের মার্চ মাসে মহারাষ্ট্রের কৃষকদের পদযাত্রা সাড়া জাগিয়েছিল সারা দেশে। কিন্তু এ রাজ্যে? পশ্চিমবাংলায় গত সাত বছরে কৃষকদের সমস্যা নিয়ে কোনও আন্দোলনই হয়নি। সম্প্রতি গেরুয়া শিবিরের কৃষক মোর্চা বিধানসভা অভিযান করেছিল। পুরোটাই একটা ফ্লপ শো। এই অবস্থায় সিপিএম ঘুরে দাঁড়াতে চাইছে কৃষকদের উপরে ভর করেই।

গত পঞ্চায়েতের ফলাফলের নিরিখে ব্যালটের বাইরে বেরিয়ে গিয়েছে বামেরা। শাসকদল তৃণমূলের পরেই বাংলার দ্বিতীয় রাজনৈতিক শক্তি বলতে আপাতত বিজেপি-ই। মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর বক্তৃতায় যদি দশ মিনিট বিজেপি-র জন্য খরচ করেন; দেড় মিনিট খরচ করেন না বামেদের জন্য।

এ বঙ্গের রাজনীতি থেকে প্রায় ফেড আউট হয়ে যাওয়া বামেরা প্রাসঙ্গিকতা ফিরে পাওয়ার চেষ্টা মাঝেমধ্যে যে করেনি তা নয়। কিন্তু ধারাবাহিকতার অভাব, দলে তরুণ নেতা কর্মীর অভাব, নতুন প্রজন্মের মুখ ঘুরিয়ে থাকা, দলের প্রতি সাধারণ মানুষের বিশ্বাস-আস্থা না থাকা ইত্যাদি-প্রভৃতির পর বার বার ব্যর্থ হয়েও পথে নামল গত ২৮ নভেম্বর। সিপিএমের কৃষক ও ক্ষেতমজুর সংগঠনের ডাকে সিঙ্গুর থেকে পদযাত্রার কর্মসূচি শুরু করে পরের দিন রাজভবন পৌঁছে শেষ হল সেই পদযাত্রা।

বহুদিন পর ধর্মতলা চত্বরে কয়েক হাজার লাল ঝান্ডা দেখল মানুষ। লেনিন মূর্তি প্রাঙ্গণ থেকে শহিদ মিনার, রানি রাসমণি রোড থেকে ডোরিনা ক্রসিং জুড়ে সোনামুখী, পিংলা, গোঘাট, লক্ষ্মীকান্তপুর, জগৎবল্লভপুর, ভাতার, গলসী থেকে আসা মানুষের মিছিল দেখল কলকাতা। রাজ্যের প্রাণকেন্দ্র ধর্মতলা যেন নদী নালা খাল বিল পুকুর চর বাদাবন আলপথে ভরে গিয়েছে। সেখানে কেবল গ্রামের মানুষের ফুসফুস শ্বাস ফেলছে  এমনটাও ঘটল বহুকাল পর।

নীল সাদা পমেটম মাখা শহরের অলিন্দে মানুষের হাতে শত শত লাল ঝান্ডা এ শহরে প্রথম। সিঙ্গুর থেকে রাজভবন, দীর্ঘ ৫২ কিলোমিটার পথ হেঁটে এসেছেন কৃষকরা সিপিএমের কৃষক সভার ডাকে। লক্ষ্যনীয় সিপিএম রাজ্য রাজনীতিতে ফিরতে যে আন্দোলনের পতাকা হাতে তুলে নিল তার সূচনা হল সিঙ্গুরে। যে সিঙ্গুরে কৃষকদের নিয়ে আন্দোলন করে বাম সরকারের ভিত ভেঙে দিয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যেখানে টাটাদের নির্মীয়মান ন্যানো কারখানা ভেঙে ফেলতে হয়েছে। সেই সিঙ্গুর থেকেই রাজ্যে শিল্পায়নের ডাক দিয়ে তৃণমূল সরকারকে বিপাকে ফেলতে চাইছে কৃষক সভা।

হুগলির ওই জমিতে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য শিল্পায়নের স্বপ্ন দেখেছিলেন, কিন্তু তাঁর স্বপ্ন সাড়ে তিন দশকের বাম জমানার অবসান ঘটাতে অগ্রণী ভূমিকা নেয় এবং সেখান থেকেই সূচিত হয় বাম সরকারের পতন। শিল্প তো হলই না বরং প্রস্তাবিত কারখানা তৈরির জন্য জমি নেওয়ার বিতর্কিত কারণে শুরু হয় তুমুল বিক্ষোভ। সেই থেকেই  রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের উত্থান শুরু।

কিন্তু বাম জমানার পতনের সাত বছর পর ফের সেখান থেকেই শুরু হল সিপিএমের ঘুরে দাঁড়ানোর আর এক আরম্ভ। সিঙ্গুরে কৃষকদের জমিতে শিল্পের বিরোধিতা করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। কৃষিজমিতে শিল্প নয়, এই দাবিতে লাগাতার আন্দোলন চলে। কলকাতায় ২৬ দিনের অনশন কর্মসূচি পালন করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ রাজ্যে সাড়ে তিন দশকের বাম সরকারের পতনের নেপ্যথ্যে অনেকেই সিঙ্গুরের ছায়া দেখতে পান। কৃষি জমিতে শিল্প করতে গিয়েই বামেদের রাজ্য ছাড়া হতে হয়েছে সে প্রসঙ্গ এখনও ওঠে নানা মহলে। আর সেই সিঙ্গুর থেকে কৃষকদের দাবি নিয়ে মিছিল করল সিপিএম।

টাটা গোষ্ঠীকে দিয়ে ন্যানো গাড়ি তৈরির কারখানা গড়ে তুলতে কারখানার জন্য জমি নিতে গেলে অনিচ্ছুক কৃষকরা বাধা দেয়। সেই সময় বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওই অনিচ্ছুক কৃষকদের সমর্থনে আন্দোলনের নেমে পড়েন। যার জেরে সিঙ্গুর থেকে গুজরাটের সানন্দে গাড়ি প্রকল্প সরিয়ে নেন টাটা গোষ্ঠীর তত্‍কালীন চেয়ারম্যান রতন টাটা।

২০১১ সালে রাজনৈতিক পালা বদলের ফলে এ রাজ্যে ক্ষমতায় আসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল সরকার। মুখ্যমন্ত্রী হয়ে মমতা পূর্ব প্রতিশ্রুতি মতো কৃষকদের জমি ফিরিয়ে দিতে উদ্যোগী হন। কিন্তু তা চ্যালেঞ্জ করে আদালতে যায় টাটা গোষ্ঠী। শেষমেশ আদালত মমতার পক্ষে রায় দেয়। শুরু হয় জমি ফিরিয়ে দিয়ে ফের চাষবাসের প্রক্রিয়া। কিন্তু বাস্তবে তা কি আদৌ চাষ শুরু করা গিয়েছে - প্রশ্ন তুলেছেন বামেরা।

cacaca_120218081842.jpgলালঝাণ্ডায় মুড়ে গিয়েছিল কলকাতা (ছবি: পিটিআই)

রাজনৈতিক দিক থেকে মমতার জয় হলেও সিঙ্গুরের মানুষের জীবনে সুদিন ফেরেনি বলেই অভিমত বামদের। সিঙ্গুরের অনেকেরই মনে হচ্ছে কারখানা হলে চাকরি হত। সিপিএমের কৃষক সংগঠনের দাবি কী? কৃষকসভার দাবি, সিঙ্গুর সহ রাজ্যের সর্বত্র শিল্পের জন্য অধিগৃহীত জমিতে অবিলম্বে শিল্প স্থাপনের ব্যবস্থা করতে হবে। কৃষি ঋণ মকুব করতে হবে। মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা আইন (MGNREGA) বা চলতি কথায় ১০০ দিনের কাজ মোতাবেক বছরে ২০০ দিন কাজ ও ৩৫০ টাকা মজুরি দিতে হবে। ফসলের সঠিক মূল্য দিতে হবে। ৬০ বছরের উর্ধ্বে কৃষক, ক্ষেতমজুর সহ সমস্ত গরীব মানুষকে কমপক্ষে মাসে ৬ হাজার টাকা পেনশন প্রদান করতে হবে। মোট ন’দফা দাবির প্রেক্ষিতে লং মার্চ করে ভোটের বাজারে হাওয়া গরম করার লক্ষেই সিপিএমের পথে নামা।

গ্রাম দিয়ে শহর ঘেরার রাজনৈতিক কৌশল নতুন কিছু নয়,  সিপিএমের বহু পুরোনো কৌশল। সবহারাদের পার্টি হিসাবে আত্মপ্রকাশ করলেও, ৩৪ বছরের শাসনকালের মাঝামাঝি সময় থেকে সিপিএম একটি শহুরে এবং উচ্চ মধ্যবিত্ত দলে পরিণত হয়। যাদের হাত গুঁড়িয়ে দেওয়ার কথা বলত সিপিএম সেই পুঁজিপতিদের কাছেই বেশি গ্রহণীয় হয়ে উঠেছিল।

২০০৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনই আভাস দিয়েছিল সিপিএমের অন্ধকার ভবিষ্যতের। ক্ষমতা হারানোর সাত বছর পরে ফের গ্রাম দিয়ে শহর ঘেরার লক্ষ্য নিয়ে পথে নামল বাম কৃষক ও ক্ষেতমজুর সংগঠন। শাসন ক্ষমতা হারানো সিপিএম কালের বিচিত্র নিয়মে তাদের কৃষক সংগঠন মারফত সেই সিঙ্গুর থেকেই শিল্পের দাবি জানাল। যদিও সঙ্গে কৃষকদের ফসলের ন্যায্য দাম, ৬০ বছরের বেশি বয়সী কৃষক ও ক্ষেতমজুরদের ন্যূনতম ৬ হাজার টাকা পেনশন এবং অন্যান্য দাবিও ছিল।

তবে মূল দাবি: সিঙ্গুর সহ রাজ্যের সর্বত্র শিল্পের কারণে অধিগৃহীত জমিতে শিল্প স্থাপনই করতে হবে। অনেক দিন পর সিঙ্গুরে অনুষ্ঠিত হল বামেদের কেন্দ্রীয় কর্মসূচি। প্রায় দশ বছর পর এত লালঝাণ্ডা দেখল সিঙ্গুর। একটা সময় ছিল সিঙ্গুর-কামারকুণ্ডু এলাকায় কর্মসূচি লেগেই থাকত বামেদের। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য থেকে নিরুপম সেন, সুভাষ চক্রবর্তী থেকে গৌতম দেবরা ঘনঘন সভা করতে যেতেন হুগলির এই জনপদে। কিন্তু সে সব অতীত। মাঝে সুপ্রিম কোর্টও সিঙ্গুর মামলার রায়ে বলে দিয়েছে জমি অধিগ্রহণে তৎকালীন বুদ্ধবাবুর সরকারের প্রক্রিয়াগত ত্রুটি ছিল। রাজনৈতিক লড়াই তো বটেই, আদালতের লড়াইতেও বামেদের দশ গোল দিয়েছিলেন মমতা। কিন্তু এখন সেই সিঙ্গুরকেই আঁকড়ে ধরতে চাইছে সিপিএম। দাবি ওই জমিতে শিল্প স্থাপন করতে হবে।

নাসিক থেকে মুম্বাইয়ের পথে কৃষকদের লং মার্চ। তিন বছরের মধ্যে মরুদেশ রাজস্থানে উত্তাপ ছড়িয়েছে কৃষক আন্দোলন। তিন বছরে দেশ দেখেছে, মন্দসৌরে আন্দোলনকারী কৃষকদের ওপর পুলিশের গুলি। ঝাড়খণ্ড, মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, কর্নাটক ঘুরে রাজধানী দিল্লিতেও আছড়ে পড়ছে কৃষক বিক্ষোভ। এখন দেখার, এই লংমার্চ দিয়ে আদৌ বঙ্গ বামেরা চাঙ্গা হতে পারে কি না।

সিপিএম রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেছেন, ঐতিহাসিক সমাবেশ। বিজেপি ও তৃণমূল ব্রিগেড করবে বলছে। তাঁদের ব্রিগেড সমাবেশের আগে ওই দুই সমাবেশ হবে। তৃণমূল ও বিজেপির দুই ব্রিগেড সমাবেশের লোকসংখ্যা যোগ করে যত হয়, সিপিএমের ব্রিগেডে তার থেকে বেশি লোক হবে বলেছেন সিপিএম রাজ্য সম্পাদক। আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি কলকাতা স্তব্ধ হয়ে যাবে বলেও দাবি করেছেন তিনি।

লোকসভা নির্বাচনের আগে হতোদ্যম কর্মীদের রাস্তায় নামাতে মরিয়া হয়ে উঠেছিল আলিমুদ্দিন স্ট্রিট। সেই প্রয়াস যে অনেকটা সফল হয়েছে তা না হয় মানা গেল।  কিন্তু সেদিনের মিছিলে সিঙ্গুরের অনিচ্ছুক চাষিরা কি যোগ দিয়েছিলেন? যদি দিয়েও থাকেন তাঁরা সংখ্যায় কত? তার থেকেও বড় কথা কৃষকদের দাবিদাওয়া নিয়ে এত বড় মিছিলে প্রকৃত কৃষক ছিলেন কতজন? আর পাঁচটা মিছিল কিংবা সমাবেশে যে ভাবে লোক জড়ো করা হয় তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। বাইরে থেকে লোক জোগাড় করে এনে আয়োজিত পদযাত্রায় প্রকৃত কৃষকদের সে ভাবে দেখা মেলেনি। ফলে সিঙ্গুরকে সামনে রেখে সিপিএম লোকসভা নির্বাচনের আগে নিচুতলার কর্মীদের চাঙ্গা করার যে স্বপ্ন দেখছে তা গোড়াতেই ধাক্কা খেল বলে মনে হচ্ছে।

Writer

TAPAN MALLICK CHOWDHURY TAPAN MALLICK CHOWDHURY

The writer is a journalist.

Comment