একলা বলো রে

English   |   Bangla

গণেশপুজো বাড়ায় তৃণমূল উৎসাহিত, তাও বিজেপির উৎসাহ নেই কেন?

গতবছর পর্যন্ত গণেশপুজোর মণ্ডপে মণ্ডপে তৃণমূল নেতাদের দেখা যায়নি

 |  3-minute read |   14-09-2018
  • Total Shares

দুর্গাপুজোর মতোই এ বারের গণেশপুজোয় একটা ব্যাপার লক্ষ করা গেছে, বিভিন্ন পুজোর সঙ্গে নাম জড়িয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতামন্ত্রীদের। কেউ পৃষ্ঠপোষক, কেউ সভাপতি। পুজো কমিটিগুলির বয়স পাঁচ-সাত বছর, সবে যাত্রা শুরু করেছে। মানে তৃণমূল জমানাতেই শুরু বলা যায়।

শুরুটা যখনই হোক, অন্তত গতবছর পর্যন্ত এই পুজোর মণ্ডপে মণ্ডপে নিয়ে তৃণমূল নেতাদের দেখা যায়নি। পুজো চলছিল পুজোর মতো করে, পাড়ায় পাড়ায় বাড়ছিল গণেশপুজো। এর সঙ্গে তৃণমূল ও বিজেপি — কোনও দলেরই সম্পর্ক ছিল না। এবারও এই পুজোয় বিজেপিকে দেখা গেল না, একই তৃণমূল। কেন?

ganesha1_091418045428.jpgরাজ্যে বাড়ছে গণেশপুজো, মণ্ডপে মণ্ডপে যাচ্ছেন তৃণমূল নেতারা (পিটিঅাই)

পশ্চিমবঙ্গে এখন কলকারখানা প্রায় নেই বললেই চলে। হুগলি শিল্পাঞ্চল ধুঁকছে, কোমায় গিয়েছে কিনা বলা মুশকিল। এই অবস্থায় রাজ্যে বিশ্বকর্মাপুজো কমছিল। পাড়ার ছেলেদের কিছু একটা নিয়ে থাকতে হবে। সেই কিছু একটা নিয়ে থাকার জন্যই ধীরে ধীরে শুরু হয়ে গেল গণেশপুজো – বিশ্বকর্মাপুজো ও গণেশপুজোর সময়টা এ বছর আবার মোটামুটি একই।

লালকৃষ্ণ আডবাণীর যে ভাবে রথযাত্রা করে বিজেপির উত্থান ঘটিয়েছিলেন, সেই ভাবে রথযাত্রা করা এ রাজ্যের বিজেপি-নেতাদের পক্ষে সম্ভব নয়। ভোটের কথা ভেবে তাঁরা দোল ও হোলিকে বেছে নিয়েছিলেন। শুধু কপালে আবিরের তিলক কাটা বা বড়জোর আবির মাখা নয়, একেবারে লোকের সঙ্গে মিশে গিয়ে হোলি হ্যায় করেছিলেন বিজেপি নেতারা। গত বিধানসভা ভোটের আগে হাওড়ায় হোলি খেলে বহু সংবাদপত্রের প্রথম পৃষ্ঠায় জায়গা করে নিয়েছিলেন রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, এখন তিনি রাজ্যসভার সাংসদ।

rupa_091418045554.jpgআমজনতার সঙ্গে পথে নেমে হোলি খেলেন বিজেপিনেত্রী রূপা গঙ্গোপাধ্যায় (ফাইল চিত্র/পিটিআই)

দুর্গাপুজোর বিসর্জন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী দশমীতে বন্ধ করে দেওয়ার পরে যখন আদালত রায় দিল বিসর্জন নির্দিষ্ট দিনে করতে, তখন থেকে হিন্দু ভাবাবেগ বেশি করে টানা শুরু করল বিজেপি। নবি উৎসবের নামে বিভিন্ন স্কুলে সরস্বতী পুজো বন্ধ হওয়ায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের মুসলমান তোষণকে ইস্যু করে বিজেপি। রামনবমী হয়ে উঠল এ রাজ্যের রাজনৈতিক পুজো। তৃণমূল যত তাকে নিজের দিকে টানার চেষ্টা করল, তত বেশি করে প্রচার হল বিজেপির।

দুর্গাপুজোয় পুজোকমিটিকে টাকা দেওয়ার কথা সরকার ঘোষণা করায় ফের তুলনা শুরু হয়, ইফতারের জন্য সরকার কত টাকা খরচ করেছিল, কত দেওয়া হচ্ছে দুর্গাপুজোর জন্য। ইতিমধ্যেই ভেঙে পড়ল মাঝেরহাট সেতু।

মাঝেরহাট সেতু ভাঙায় প্রথমে যে আশঙ্কা করা হচ্ছিল, তা সত্যি হয়নি। এখনও পর্যন্ত তিন জনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। এই সময় গণেশচতুর্থী। তাই সেতু ভাঙার পরে ফিলগুড বার্তা হিসাবে গণেশপুজোর সুযোগ এ বারে হাতছাড়া করতে চায়নি তৃণমূল নেতৃত্ব।

ganesh-chaturthi-2_091418045729.jpgগণেশপুজো নিয়ে এ রাজ্যে এখনও তেমন উৎসাহ নেই বিজেপির (পিটিআই)

গণেশপুজোর জন্য মূলত মহারাষ্ট্রই বিখ্যাত। এ রাজ্যে ধারে বা ভারে তার কাছাকাছি কোনও একটি পুজোও আসতে পারবে না, উন্মাদনাতে তো নয়ই। তবে এই পুজো নিয়ে এখনও বিজেপির কোনও উন্মাদনা দেখা যাচ্ছে না এখনও, তাই তা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। এ বার তো গণেশপুজো উপলক্ষে কলকাতার মহারাষ্ট্র নিবাসে চলে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দলের নেতামন্ত্রীদেরও বিভিন্ন পুজোয় দেখা গেছে।

পাড়ায় পাড়ায় গণেশপুজো বাড়লেও দুর্গাপুজোর ঠিক একমাস আগে এই পুজো খুব বড় আকারের হওয়ার সম্ভাবনা কসম, আর এই পুজো ঘিরে হিন্দু-ভোট টানার সম্ভাবনাও আরও কম। সম্ভবত সেই কারণেই বিজেপিকে গণেশপুজো নিয়ে মাতামাতি করতে দেখা গেল না।

Writer

SUMITRO BANDYOPADHYAY SUMITRO BANDYOPADHYAY @sumitrob

journalist interested in heritage and numismatics

Comment