প্রিয়াঙ্কা গান্ধী কী ভাবে ২০১৯ লোকসভায় কংগ্রেসের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারবেন

বহুদিন ধরেই উত্তরপ্রদেশে কংগ্রেস একটি 'মুখের' সন্ধান করছিল, প্রিয়াঙ্কা যোগ দেওয়ায় সেই অভাব এবার পূর্ন হবে

 |  4-minute read |   24-01-2019
  • Total Shares

সাধারণ নির্বাচন যতই এগিয়ে আসছে রাজনৈতিক চাপানউতোর ততই পাল্লা দিয়ে বেড়ে চলেছে। এই তালিকার নবতম সংযোজন প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর রাজনৈতিক মঞ্চে প্রবেশ। ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনের জন্য প্রিয়াঙ্কাকে সর্বভারতীয় কংগ্রেস কমিটির পূর্ব উত্তরপ্রদেশের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।

সব দেখে শুনে মনে হচ্ছে, নির্বাচনে লড়তে কংগ্রেস রীতিমত আদা জল খেয়ে প্রস্তুত হচ্ছে।

যদিও বহুদিন ধরেই দলের অন্দরে প্রিয়াঙ্কাকে নির্বাচনে প্রার্থী করার জন্য দাবি করা হচ্ছিল, দলের তরফ থেকে এ বিষয় এখনও অবধি কোনও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি। তবে সাম্প্রতিককালের পরিস্থিতির ফলে কংগ্রেস নিশ্চয়ই এ বিষয় নতুন করে চিন্তাভাবনা করতে বাধ্য হচ্ছে।

প্রিয়াঙ্কাকে পূর্ব উত্তরপ্রদেশের দায়িত্ব দেওয়ার পাশাপাশি জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়াকে পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রিয়াঙ্কার দায়িত্ব যে বেশ গুরুত্বপূর্ণ তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। বিশেষ করে, স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর যেখানে ২০১৯ লোকসভায় বেনারস কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

সম্প্রতি হিন্দু বলয়ের নির্বাচনগুলোতে অসাধারণ ফল করলেও বর্তমানে দুটি বিষয়ে নিয়ে চিন্তার অন্ত নেই কংগ্রেসের। এক, সম্প্রতি নরেন্দ্র মোদী সরকারের আর্থিক অনগ্রসর শ্রেণীর জন্য ১০ শতাংশ সংরক্ষণের কথা ঘোষণা। দুই, উত্তরপ্রদেশে এসপির সঙ্গে বিএসপির জোট বাঁধা।

body_012419035029.jpgএবার কি নির্বাচনেও লড়বেন প্রিয়াঙ্কা [ছবি: ইন্ডিয়া টুডে]

৪৭ বছরের প্রিয়াঙ্কা সেই ২০৪ সাল থেকে নিজেকে শুধুমাত্র আমেঠি (ভাই রাহুল এই কেন্দ্রের সাংসদ) ও রাই বেরেলি (মা সোনিয়া এই কেন্দ্রের সাংসদ) আসন দুটিতে আবদ্ধ রেখেছে। কিন্তু পাকাপাকিভাবে রাজনীতিতে প্রবেশ করেননি।

কিন্তু লোকসভা নির্বাচনের মাত্র কয়েক মাস আগে সরকারিভাবে কংগ্রেসে যোগ দেওয়ায় ইতিমধ্যেই গুঞ্জন শুরু হয়ে গিয়েছে যে আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে তাঁর মায়ের আসনটিতে প্রার্থী হতে পারেন প্রিয়াঙ্কা।

এনডিএ কিংবা ইউপিএ যদি ম্যাজিক সংখ্যায় পৌঁছাতে না পারে তাহলে দেশের দুই বর্ষীয়ান মহিলা রাজনীতিবিদ - বিএসপির মায়াবতী ও তৃণমূলের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় - প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে রয়ে যাবেন। এই পরিস্থিতিতে প্রিয়াঙ্কার রাজনৈতিক মঞ্চে প্রবেশ কিন্তু আঞ্চলিক দলগুলোর স্ট্রাটেজির উপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

রাহুল যতই মোদী বিরোধিতা করুক না কেন, কংগ্রেস সভাপতি কিন্তু এখনও অবধি আঞ্চলিক দলগুলোর আস্থা অর্জন করতে ব্যর্থ। উল্টোদিকে, মায়াবতী ও মমতা কিন্তু দ্রুতই বিরোধী ঐক্যের মুখ হয়ে উঠছেন।

এখন সরকারিভাবে প্রিয়াঙ্কা দলে যোগ দেওয়ায় কংগ্রেস নতুন শরিক জোগাড় করা ও উত্তরপ্রদেশে ভালো ফল করার বিষয়ে আশাবাদী হয়ে উঠেছে।

অসাধারণ বক্তা প্রিয়াঙ্কা কিন্তু বিভিন্ন বয়সের নারী পুরুষের মধ্যে জনপ্রিয়। তিনি দেখতে শুনতে অনেকটা ঠাকুরমা ইন্দিরা গান্ধীর মতো। উত্তরপ্রদেশে রাজনৈতিক ভারসাম্য কংগ্রেসের দিকে ঘোরাতে একমাত্র তিনিই পারেন বলে অনেকেই মনে করছে।

উত্তরপ্রদেশে মোট ৮০টি লোকসভা আসন রয়েছে। আর, এই ৮০টি আসনই যে ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনের ভাগ্য নির্ধারণ করে দিতে পারে তা সকলেই জানে।

শাসক দল বিজেপি ২০১৪ লোকসভা নির্বাচনে উত্তরপ্রদেশে ৮০টির মধ্যে ৭১টি আসনে জয়লাভ করেছিল। কিন্তু এসপি-বিএসপি জোটের পর এবার যে গতবারের পারফর্মেন্স পুনরায় করা সম্ভব নয় সে বিষয় যথেষ্ট ওয়াকিবহাল বিজেপির নেতা মন্ত্রীরা।

body1_012419035126.jpgএসপি-বিএসপি জোট কংগ্রেসকে চিন্তায় ফেলেছে [ছবি: পিটিআই]

এই পরিস্থিতিতে প্রিয়াঙ্কার প্রবেশ বিজেপি ও এসপি-বিএসপি জোট উভয়েরই চিন্তা বৃদ্ধি করবে।

বহুদিন ধরেই উত্তরপ্রদেশে একটি 'মুখের' সন্ধান করে আসছিল কংগ্রেস। অবশেষে, প্রিয়াঙ্কা যোগ দেওয়ায় সেই অভাব পূরণ হবে বলে মনে করছে কংগ্রেস কর্মীরা।

প্রিয়াঙ্কার কংগ্রেস দলে যোগ দেওয়ার কোনও প্রভাব পড়বে না বলে জানিয়ে বিজেপির অভিযোগ পরিবারতন্ত্রের জন্যই প্রিয়াঙ্কা এই সুযোগ পেয়েছেন।

body2_012419035219.jpgপ্রিয়াঙ্কার স্বামীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে [ছবি: ইন্ডিয়া টুডে]

কিন্তু এর ফলে অবশ্যই দলের কর্মী সমর্থকদের মনোবল বাড়বে। এসপি-বিএসপি জোটের ফলে তারা কিন্তু বেশ ভেঙে পড়েছিল।

২০১৭ সালে অখিলেশ যাদবের এসপির সঙ্গে কংগ্রেসের জোট হওয়ার পিছনে মুখ্য ভূমিকা ছিল প্রিয়াঙ্কার। এ বারও, এসপি ও বিএসপির সঙ্গে কংগ্রেসের 'বোঝাপড়া' প্রিয়াঙ্কা গড়ে তুলতে পারেন বলেই অনেকে মনে করেছেন। এর ফলে, রাহুল গান্ধীও অন্যান্য রাজ্যগুলোর উপর মনোনিবেশ করতে পারবেন।

২০১৪ লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি ও শরিক আপনা দল ৪৩.৩ শতাংশ ভোট পেয়ে ৭৩টি আসন দখল করেছিল। ২২.৪ শতাংশ ভোট পেয়ে এসপি শুধুই পাঁচটি আসন জিতেছিল। ১৯.৮ শতাংশ ভোট পেলেও বিএসপি কোনও আসনেই জয়লাভ করতে পারেনি। অন্যদিকে, কংগ্রেস ৭.৫৩ শতাংশ ভোট পেয়ে আমেঠি ও রাই বেরেলি আসন দুটি পেয়েছিল। এই দুটি আসন কিন্তু প্রথাগত ভাবে গান্ধী পরিবারের সদস্যারাই পেয়ে এসেছেন।

২০১৯ সালে উত্তরপ্রদেশে সবকটি আসনে একাই লড়বে বলে ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছিল কংগ্রেস। আর, তাই ভোটারদের আস্থা অর্জন করতে প্রিয়াঙ্কাকে নিয়ে আসা।

এই স্ট্রাটেজিতে অবশ্য একটা সমস্যা রয়েছে। প্রিয়াঙ্কার স্বামী রবার্ট ভদ্রার দুর্নীতি অভিযোগ রয়েছে। আর, সেই অভিযোগকে হাতিয়ার করতে চায় বিজেপি।

body3_012419035345.jpgমোদী যে এখনও এক শ্রেণীর ভোটারদের কাছে জনপ্রিয় তা বিলক্ষণ জানে কংগ্রেস [ছবি: পিটিআই]

রাহুল এমনিতেই মোদী সরকারের বিরুদ্ধে একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগ এনে চলেছেন। এই পরিস্থিতিতে বিজেপিও পাল্টা অস্ত্র পেয়ে গেল।

কংগ্রেস নিশ্চয়ই বুঝতে পারছে যে এক শ্রেণীর ভোটারদের মধ্যে মোদীর জনপ্রিয়তা এখনও তুঙ্গে এবং বিজেপিকে গদিচ্যুত করা মোটেও সহজ হবে না।

নির্বাচন যত এগিয়ে আসবে ততই রাজনৈতিক হাওয়া আরও গরম হবে।

কিন্তু, তাও, সক্রিয় রাজনীতিতে প্রিয়াঙ্কাকে নিয়ে আসা হয়েছে।

কংগ্রেস হয়ত বুঝেছে যে স্বামীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের থেকে প্রিয়াঙ্কার উঁপস্থিতির প্রভাব অনেকটাই বেশি।

লেখাটি পড়ুন ইংরেজিতে

If you have a story that looks suspicious, please share with us at factcheck@intoday.com or send us a message on the WhatsApp number 73 7000 7000

Writer

SAIF ULLAH KHAN SAIF ULLAH KHAN @saifizm

Deputy Editor, DailyO

Comment