না, দিলীপ ঘোষ ও মুকুল রয়ের অনুগামীদের মধ্যে ব্যারাকপুরে কোনও হাতাহাতি হয়নি

ছবিগুলি ২০১৬ সালের, উত্তর হাওড়ায় বিজেপির দুই গোষ্ঠীর মধ্যে হাতাহাতির

 |  2-minute read |   03-04-2019
  • Total Shares

 

body_040319033001.jpg

পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ ও দলের অন্যতম শীর্ষ নেতা মুকুল রয়ের অনুগামীদের মধ্যে ব্যারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রে তীব্র হাতাহাতি হয়েছে বলে ছবি সহ একটি খবর সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। ইন্ডিয়া টুডের অ্যান্টি ফেক নিউজ ওয়ার রুম তদন্ত করে দেখেছে যে খবরটি পুরোপুরি সত্যি নয়।

১ এপ্রিল শেখ আসির বলে জনৈক ফেসবুক ব্যবহারকারী NEWS FAITH ওয়েব পোর্টালের একটি খবর পশ্চিমবঙ্গ মুসলিম বুদ্ধিজীবী মহলের ফেসবুক পেজে পোস্ট করেছেন। তাঁর দাবি ব্যারাকপুরে বিজেপি-র দুই গোষ্ঠীর মধ্যে মারামারি হয়। এই দাবি করে পোস্টটিতে লেখা হয়েছে, "রাজ্য বিজেপির দুই শীর্ষ নেতৃত্বের অনুগামীদের হাতাহাতি, ভাংচুর চেয়ার-টেবিল। একদিকে রাজ্য বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষ এর অনুগামী, অন্যদিকে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব মুকুল রায়ের অনুগামী। দুই নেতৃত্বের অনুগামীদের হাতাহাতিতে ধুন্ধুমার ব্যারাকপুর কেন্দ্র। বিজেপির দুই পক্ষের হাতাহাতির ছবি ইতিমধ্যেই সোস্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল।"

এখানে দেখতে পাবেন সেই পোস্টটির আর্কাইভ

এ ছাড়া, শেখ শরীফুদ্দিন বলে আর একজন ফেসবুক ব্যবহারকারীও এই সংক্রান্ত একটি পোস্ট করেছেন। এই পোস্টে অবশ্য দাবি করা হয়েছে, "ব্যারাকপুরে বিজেপির সভায় ব্যাপক ক্যালাকেলি"। মুকুল রয় কিংবা দিলীপ ঘোষের কোনও উল্লেখ কিন্তু এই পোস্টে নেই।

body1_040319040120.jpeg

এখানে দেখতে পাবেন সেই পোস্টটির আর্কাইভ

খবরের সঙ্গে ব্যবহৃত ছবিগুলো আমরা রিভার্স সার্চ করে দেখতে পাই,  আনিস আহমেদ ইদ্রিসি বলে একজন ২০১৬ সালের ৮ এপ্রিল একটি ছবি  টুইট করেছিলেন।  টুইটার প্রোফাইলে ইদ্রিসি নিজেকে রাষ্ট্রবাদী কংগ্রেস পার্টির মুম্বাই পরদেশের সচিব বলে দাবি করেছেন।

ওই টুইট থেকে একটা জিনিস স্পষ্ট, এই ছবিটিতে ফুটে ওঠা ঝামেলার সঙ্গে মুকুল রয়ের কোনও যোগাযোগ থাকতে পারে না। কারণ মুকুল রয় ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। এই খবর প্রায় সমস্ত সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়।

এর পর আমরা সেই টুইট করা ছবিটিকে আবার রিভার্স সার্চ করি এবং @scotchism বলে একটি টুইটার প্রোফাইলে গিয়ে NEWS FAITH-এর খবরে ব্যবহৃত তিনটি ছবিরই সন্ধান পাই।  এই টুইটটি ২০১৬ সালের ৫ এপ্রিল করা হয়েছিল। টুইটে দাবি করা হয়েছে, 'অভিনেত্রী তথা উত্তর হাওড়ার বিজেপি প্রার্থী রুপা গঙ্গোপাধ্যায়ের একটি সম্মেলনে বিজেপি কর্মীরা নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে লিপ্ত'।

এরপর আমরা গুগল সার্চে গিয়ে ‘বিজেপি ক্ল্যাশ ইন বেঙ্গল + নর্থ হাওড়া + ২০১৬’ কি-ওয়ার্ড সার্চ করে টাইমস অফ ইন্ডিয়ার একটি খবর খুঁজে পাই। ২০১৬ সালের ৪ এপ্রিল প্রকাশিত হওয়া খবরে বলা হয়েছে, শ্যাম গার্ডেনে অনুষ্ঠিত বিজেপির একটি কর্মী সভায় দলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে ঝামেলা বাধে। টাইমস অফ ইন্ডিয়ার এই খবরের সঙ্গে একটি ছবিও প্রকাশ করেছে যে ছবিটি NEWS FAITH-এ প্রকাশিত খবরেও ব্যবহার করা হয়েছে।

সুতারং, শেখ আসির পশ্চিমবঙ্গ মুসলিম বুদ্ধিজীবী মহলের ফেসবুক পেজে NEWS FAITH ওয়েবপোর্টালের যে খবর পোস্ট করেছেন সেই খবর পুরোপুরি সত্যি নয়।

 

না, দিলীপ ঘোষ ও মুকুল রয়ের অনুগামীদের মধ্যে ব্যারাকপুরে কোনও হাতাহাতি হয়নি
Claimবিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ ও দলের অন্যতম শীর্ষ নেতা মুকুল রয়ের অনুগামীদের মধ্যে ব্যারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রে তীব্র হাতাহাতি হয়েছে Conclusion খবরে যে ছবিগুলি ব্যবহার করে এই দাবি করা হয়েছে, সেগুলি ২০১৬ সালের। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে, উত্তর হাওড়া বিধানসভা কেন্দ্রের।
JHOOTH BOLE KAUVA KAATE

The number of crows determines the intensity of the lie.

  • 1 Crow: Half True
  • 2 Crows: Mostly lies
  • 3 Crows: Absolutely false
If you have a story that looks suspicious, please share with us at factcheck@intoday.com or send us a message on the WhatsApp number 73 7000 7000

Writer

ARPIT BASU ARPIT BASU @virusfound007

Arpit Basu is the Special Correspondent with the India Today Group’s fact check team. With more than one-and-a-half decade's experience in print and digital media, he has reported on aviation, transport, crime, civic and human interests issues. His sting operation on how precious Aviation Turbine Fuel, meant for Kolkata airport, was pilfered and sold in local market as ‘white kerosene’ received widespread acclaim. Arpit has worked with reputed media houses like The Times of India and Hindustan Times and had received letter of appreciation for reporting during the Phalin cyclone in Odisha in 2013.

Comment