ফ্যাক্টচেক: বামপন্থী প্রতিরোধ বাহিনীর সব ছবিগুলি বিজেপি আমলে মানুষকে অত্যাচারের নয়
বেশ কিছু ছবি অনেক পুরনো এবং অন্যান্য পার্টির সময়েও ঘটনাগুলি ঘটেছে।
- Total Shares
লোকসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে ততই সোশ্যাল মিডিয়ায় রাজনৈতিক দলগুলি একে ওপরের বিরুদ্ধে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।
গত ৭ এপ্রিল বামপন্থী প্রতিরোধ বাহিনী নামের একটি গ্রুপ তাদের ফেসবুক পেজএ একটি পোস্ট করে, যেখানে তারা অনেকগুলি ছবি দিয়ে দাবি করে, গত পাঁচ বছরে বিজেপি শাসিত রাজ্যে মানুষ কিভাবে অত্যাচারিত হয়েছে। ইন্ডিয়া টুডে আন্টি ফেক নিউজ ওয়ার রুম তদন্ত করে দেখেছে যে খবরটি পুরোপুরি সত্যি নয়।
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পোস্টটি ৩০০-র বেশি শেয়ার হয়ে গেছে। এখানে দেখতে পারেন পোস্টটির আর্কাইভ।
বামপন্থী প্রতিরোধ বাহিনীর ছবিগুলি পোস্ট করে লিখেছে, ''এই ছবিগুলো বিগত ৫ বছরের মধ্যে নানা সময়ে ভারতের বিভিন্ন বিজেপি শাসিত রাজ্যে তোলা। BJP র হাতে দলিত ও অন্তজ হিন্দুদের লাঞ্ছনার দলিল এই ছবিগুলো।যারা ভাবেন বিজেপি-আর।এস।এস শুধু মুসলমান বিদ্বেষী,তারা হিমশৈলের চূড়া দেখছেন শুধু। আসলে এরা মধ্যযুগীয় বর্বরতার কৃমি-কীট বহন করে চলেছে এদের চেতনায়।ছবিগুলো খুঁটিয়ে দেখলেই বুঝবেন,প্রকাশ্য দিবালোকে নারী-পুরুষ-শিশু, এমনকি গোটা পরিবারকে দলবদ্ধভাবে আক্রমণ করে উলঙ্গ করে নির্যাতন করা হচ্ছে। উলঙ্গ স্বামীকে কাঁধে নিয়ে পথ চলতে বাধ্য করা হচ্ছে স্ত্রীকে।মুখে কখনো গো-রক্ষার নামে,কখনো উচ্চবর্ণের অন্যায় দাবি মানাতে নৃশংসভাবে মারধর, দলিত বস্তি পুড়িয়ে দেওয়া,ধর্ষণ এখানে নিত্য ঘটনা।রাজ্য সরকারগুলির প্রত্যক্ষ মদতে ঘটা এই ঘটনাগুলিতে নির্যাতিত মানুষেরা ন্যায় বিচারের আশা করার সাহসও পায়না।''

এই ছবিগুলির মধ্যে সব ছবি বিজেপি শাসিত রাজ্যের নয় এবং কয়েকটি ছবি পাঁচ বছরেরও পুরনো। ইন্ডিয়া টুডে ছবিগুলি রিভার্স সার্চ করে দেখেছে। পোস্টের প্রথম ছবিটি একটি কোলাজ। ছবিগুলি সবই বিজেপি শাসিত রাজ্যের নয়। এই কোলাজে একজন মহিলার ছবি রয়েছে যাঁকে বেশ কিছু মানুষ তাড়া করছে আর তিনি দৌড়োচ্ছেন, এই ছবিটি ২০০৭ সালে আসামের গুয়াহাটির ঘটনা। সেসময় বিজেপি নয় অসমে কংগ্রেস রাজ্ ছিল। মুখ্যমন্ত্রী ছিলে তরুণ গগৈ। ওই মহিলাকে রাস্তায় বেশকিছু উগ্রবাদী নগ্ন করে তল্লাশি করে। তারপর মহিলাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এই ছবি সহ ঘটনাটি সমস্ত নিউজ মিডিয়া রিপোর্ট করে। খবরে প্রকাশ যে তিনজন পুরুষ ওই মহিলাকে নগ্ন করান। মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ পরে ওই তিনজনকে গ্রেফতার করার আদেশ দেন।
মনে করা হয় ওই মহিলা সম্ভবত আদিবাসী মিছিলে ছিলেন। ওই মিছিল থেকে আদিবাসীদের তফসিলি উপজাতি স্টেটাস দেওয়ার দাবি ওঠে।
এর আগেও এই ছবিটিকে নিয়ে ভুয়ো খবর বেরিয়েছে। এর আগে হিন্দু অখিলেশ গুপ্ত নামের একটি ফেইসবুক গ্রুপও এই একই ছবি নিয়ে ভুয়ো খবর প্রকাশ করে।
দ্বিতীয় যে মহিলার ছবি ব্যবহার করা হয়েছে, যাঁকে গাছের সামনে রেখে চুল কেটে দেওয়া হচ্ছে সেটি বিহারের ঘটনা। ছবিতে দেখা যাচ্ছে একজন মহিলাকে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে এবং তাঁর চুল কেটে দেওয়া হচ্ছে। মহিলাকে ডাইনি সন্দেহে ঘটনাটি ঘটানো হয়েছিল বলে খবরে প্রকাশ। ঘটনাটি রিপোর্টেড হয় ওমেন্স নিউজ নেটওয়ার্ক-এ ২১ মার্চ, ২০১০ সালে । ৪৫ বছর বয়সী বিহারি দলিত মহিলা লালপরী দেবীকে ডাইন সন্দেহে এভাবেই জনসমক্ষে হেয় করা হয়। পরে এই ছবিটি বিভিন্ন নিউজ মিডিয়ায় বেরোয়। সে সময় বিহারে জনতা দল ইউনাইটেডের সঙ্গে যুগ্মভাবে ক্ষমতায় ছিল বিজেপি।
ডেকান হেরাল্ড-এ ২০১৫ সালে এই ছবি ফাইল ফটো হিসেবে বেরোয়। অর্থাৎ ছবিটি কোনোভাবেই গত পাঁচ বছরের নয়।
কোলাজের আরও একটি ছবি উত্তরপ্রদেশের, ২০১৫ সালের ঘটনা। একটি দলিত পরিবারকে নগ্ন অবস্থায় রাস্তায় ঘোরানো হয়। সেই ঘটনা রিপোর্টেড হয় মিডিয়াতে। সে সময় বিজেপি নয়, উত্তরপ্রদেশের ক্ষমতায় ছিল সমাজবাদী পার্টি।
কলেজের পরে দ্বিতীয় যে ছবিটি ব্যবহার করা হয়েছে সেটি বিহারের ভোজপুর জেলার ২০১৮ সালের ঘটনা। দামোদরপুর গ্রামের একটি ১৯ বছর বয়সী ছেলের মৃত্যুর সঙ্গে জড়িত সন্দেহে এক মহিলাকে নগ্ন করে রাস্তায় হাঁটানো হয়, মারা হয় এবং শারীরিক নির্যাতন করা হয়।
পরের ছবিটিও সেই একই ২০০৭ সালের অসমের ঘটনা।
তাই পোস্টটিতে নানা সময়ের ছবি ব্যবহার করে শেষ পাঁচ বছরে বিজেপি আমলের ছবি বলে দাবি করা হয়েছে, তাই পোস্টটি পুরোপুরি সত্য নয়।
JHOOTH BOLE KAUVA KAATE
The number of crows determines the intensity of the lie.
- 1 Crow: Half True
- 2 Crows: Mostly lies
- 3 Crows: Absolutely false

