ফ্যাক্টচেক: অমর্ত্য সেন কি নোবেল পাননি?

ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টটি কতদূর সত্যি?

 |  3-minute read |   02-08-2019
  • Total Shares

গরীবি এবং উন্নয়ন, সেখানে অর্থনীতির ভূমিকা কি হতে পারে এই নিয়েই কাজ করেছেন সারাজীবন। আর এইজন্যই তাঁকে ডেভেলপমেন্টাল ইকোনমিক্স বা উন্নয়নের অর্থনীতির অন্যতম কারিগর বলা হয়। আর এই বিষয়ে তাঁর গবেষণা ইউনাইটেড নেশনস ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্র্যাম (ইউএনডিপি)-র কাজেও লেগেছে। ইউএনডিপি-র ''হিউমান ডেভেলপমেন্ট রিপোর্ট'' তৈরিতে অমর্ত্য সেনের কাজ গভীরভাবে প্রভাব ফেলে। আর এই উন্নয়নমূলক কাজের জন্যই ১৯৯৮ সালে অমর্ত্য সেন নোবেল পান।

বিজেপি, সংঘ পরিবার এবং নরেন্দ্র মোদীর কট্টর সমালোচক অমর্ত্য সেনের নোবেল পাওয়া নিয়েও এবার কিছু সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী সরব।

গত ২৮ জুলাই হিন্দ সেনা নামের এক ফেসবুক ব্যবহারকারী একটি খবরের কাগজের কাটিং পোস্ট করেছেন। তার সঙ্গে ক্যাপশন দিয়েছেন, ''অমর্ত্য সেন মহাশয় আদেও কোনো দিন নোবেল পান নি।''

ওই খবরের কাগজ কাটিং-এ দেখা যাচ্ছে দক্ষিণ আন্দামানের পোর্ট ব্লেয়ার থেকে অনাদিরঞ্জন বিশ্বাস নামের একজন কোনও খবরের কাগজে সম্ভবত চিঠি লিখেছেন। তাঁর বক্তব্য, ''অমাত্য সেনকে বহু লেখায় নোবেল জয়ী বলা হয়। প্রকৃতপক্ষে তিনি নোবেলজয়ী নন।'' তিনি প্রমান করার চেষ্টা করতে থাকেন যে ব্যাঙ্ক অফ সুইডেন প্রাইজ ইন ইকোনমিক্স সাইন্স ইন মেমরি অফ আলফ্রেড নোবেল পান অমর্ত্য, নোবেল পুরস্কার পাননি।''

 

nobel-prize_080219074702.jpg

পোস্ট করা মাত্রই ভাইরাল হয়ে গাছে পোস্টটি। দু হাজারের বেশি মানুষ শেয়ার করে ফেলেছেন।

পোস্টটির আর্কাইভ এখানে দেখতে পারেন।

ইন্ডিয়া টুডে আন্টি ফেক নিউজ ওয়ার রুম এই পোস্টটির সত্যতার ব্যাপারে খোঁজ খবর শুরু করে দেখে যে পোস্টটি চূড়ান্ত বিভ্রান্তিকর এবং অসত্য।

আফওয়া প্রথমে খবরটির সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সরাসরি নোবেল প্রাইজ কমিটির ওয়েবসাইট যায়। সেখানে দেখা যায় যে একেবারে বা দিকের কলামে রয়েছে ''অল নোবেল প্রাইজেস এন্ড লরিয়েটস'', সেখানে সাল অনুযায়ী যে ব্রাকেট রয়েছে সেখানে রয়েছে অমর্ত্য সেনের নাম।

amartya-sen-nobel_080219074743.jpg

ওয়েবসাইটের সবথেকে উপরে বা দিকে রয়েছে নোবেল প্রাইজেস এন্ড লরিয়েটস নামের একটি কলাম। তার মধ্যে রয়েছে নানা বিভাগের নাম যে যে বিভাগে প্রাইজটি দেওয়া হয়। সেখানে ক্লিক করলেই দেখা যায় যে, ছটি বিভাগে নোবেল দেওয়া হয় সেই বিভাগে অর্থনীতিও রয়েছে। অর্থনীতির বিভাগে ক্লিক করলেই ''এবাউট দা প্রাইজ রয়েছে।'' সেখানে লেখা আছে ঠিকই যে সুইডেনএর সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক ১৯৬৮ সালে আলফ্রেড নোবেলের নাম এই প্রাইজটি চালু করে।

দ্বিতীয় প্যারাগ্রাফে স্পষ্টই লেখা আছে রয়েল সুইডিশ একাডেমী অফ সাইন্সেস স্টোকহোম প্রাইজটি দেয় ঠিকই কিন্তু নোবেল প্রাইজের সমস্ত আদর্শ মেনে এই প্রাইজটি দেওয়া হয়। ১৯০১ সাল থেকে যে আদর্শের উপর ভিত্তি করে নোবেল প্র্রাইজ দেওয়া হচ্ছে সেই আদর্শ মেনেই এই সম্মান পাবেন প্রাপকরা।

এই একই পেজে দেখা যায় ছটি বিভাগ রয়েছে তার মধ্যে অর্থনীতি বিভাগের প্রাইজের অন্য কোনও নাম নয় নোবেল প্রাপক হিসেবেই নাম রয়েছে অমর্ত্য সেনের। এখানে নোবেল কমিটি প্রাপক হিসেবে অমর্ত্য সেনের জীবনীও প্রকাশ করেছে।

এটা ঠিকই যে ব্যাঙ্ক অফ সুইডেন প্রাইজটি দেওয়া চালু করেন কিন্তু যেখানে নোবেল কমিটির ওয়েবসাইটেই অমর্ত্য সেনকে নোবেল প্রাপক হিসেবে দেখানো হয়েছে সেখানে অন্য কোনও যুক্তি বা তর্কের কোনও অবকাশ থাকে না।

এছাড়াও বিশ্বের সমস্ত সরকারি এবং বেসরকারি বড় প্রতিষ্ঠান অমর্ত্য সেনকে নোবেল জয়ী অর্থনীতিবিদ নামেই উল্লেখ করেছে। যেমন ইন্টারন্যাশনাল লেবার অর্গানাইজেশন, ইউনাইটেড নেশনস, ইউনিসেফ ইত্যাদি।

এছাড়াও সমস্ত মিডিয়া প্রতিষ্ঠান যেমন গার্ডিয়ান, নিউ ইয়র্ক টাইমস, ওয়াশিংটন পোস্ট-এর মতো তাবড় নিউজ মিডিয়াতেও অমর্ত্য সেন ''নোবেল জয়ী'।

 

 

 

ফ্যাক্টচেক: অমর্ত্য সেন কি নোবেল পাননি?
Claimনোবেল পুরস্কার পাননি অমর্ত্য সেন Conclusion নোবেল কমিটির ওয়েবসাইটেই নোবেল প্রাপক হিসেবে উল্লেখ আছে অমর্ত্য সেনের নাম
JHOOTH BOLE KAUVA KAATE

The number of crows determines the intensity of the lie.

  • 1 Crow: Half True
  • 2 Crows: Mostly lies
  • 3 Crows: Absolutely false
If you have a story that looks suspicious, please share with us at factcheck@intoday.com or send us a message on the WhatsApp number 73 7000 7000

Writer

RATNA RATNA @blowinindwind

The writer is citizen of planet earth, journalist, documentary filmmaker

Comment