ফ্যাক্ট চেক: বিজেপি নেতার বাড়ি থেকে উদ্ধার ৪০ হাজার কোটি?
ফের ভাইরাল পুরনো ছবি সহ মিথ্যা দাবি
- Total Shares
বিজেপি নেতার বাড়ি থেকে উদ্ধার ৪০ হাজার কোটি টাকা? এমনই দাবি করেছে এক ফেসবুক ব্যবহারকারী। ইন্ডিয়া টুডে আন্টি ফেক নিউজ ওয়ার রুম জেনেছে দাবিটি মিথ্যা।

২৪ জুলাই এক ফেসবুক ব্যবহাকারী তিনটি ছবির কোলাজের একটি স্ক্রিনশট পোস্ট করেছেন। স্ক্রিনশটে তিনটি ছবির মধ্যে একটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে অনেক টাকা উদ্ধার করা হচ্ছে এবং সেটি ঘিরে দাঁড়িয়ে আছেন কয়েকজন। বাকি দুটির ছবির মধ্যে একটিতে দেখা যাচ্ছে বান্ডিল বান্ডিল টাকা। অন্য ছবিটিতে একটি গর্ত দেখা যাচ্ছে।
স্ক্রিনশটটি পোস্ট করে ওই সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী লিখেছেন,''ছি বিজেপি ছি।''
ছবিগুলি বহু মানুষ শেয়ার করেছেন। এখানে দেখতে পারেন পোস্টগুলির আর্কাইভ।
ইন্ডিয়া টুডে আন্টি ফেক নিউজ ওয়ার রুম প্রথমে কি-ওয়ার্ড সার্চ করার মাধ্যমে দেখে যে এধরণের কোনও ঘটনা ঘটেনি। কি-ওয়ার্ড সার্চ করার সঙ্গে সঙ্গেই অনেকগুলি লিঙ্ক পাই আমরা। লিঙ্কগুলি থেকে বেশ কিছু নিউজ মিডিয়া রিপোর্টের লিঙ্ক পাওয়া যায়, সেখানে দেখা যায় এই দাবি এর আগেও বেশ কয়েকবার ফেসবুক-এ ঘুরেফিরে এসেছে। এছাড়া তামিলনাড়ুতে বিজেপি নেতার বাড়ি থেকে ৪০ হাজার কোটি টাকা উদ্ধারের কোনও খবর আমরা খুঁজে পাইনা।
এরপর ছবিগুলি নিয়ে রিভার্স সার্চ করে দেখি আমরা। দেখা যায় যে তিনটি ছবিই অনেক পুরনো এবং বিভিন্ন সময়ের নানা ঘটনা থেকে এবং নানারকম জায়গা থেকে সংগৃহিত।
প্রথম যে ছবিটি দেখা যাচ্ছে সেটি নানা সময় নানা ভাবে খবরে এসেছে। দৈনিক ভাস্কর অনলাইন, কাশ্মীর অবজার্ভার এবং আরও কয়েকটি নিউজ মিডিয়া ছবিটি ছাপে ২০১৬ সালে। সেইসব রিপোর্ট অনুযায়ী ভারতের নানা শহরে সে সময় আয়কর বিভাগ বেআইনি টাকা উদ্ধারে নেমে ওই টাকা বাজেয়াপ্ত করে। রিপোর্টে পাওয়া যায় ব্যাসায়ীদের কাছ থেকে ওই টাকা শহর হয়। সেখানে কোথাও বিজেপি নেতাদের কথা উল্লেখ করা হয়নি।
যেমন ইয়েমেনপ্রেস এবং ইয়েমেনএক্সট্রা নামের দুটি ওয়েবসাইট এই টাকার ছবি ছেপে বলেছে, তাদের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট আব্দুল্লাহ সালের গেস্টহাউস থেকে ওই টাকা উদ্ধার হয়েছে, যদিও ইয়েমেনে ভারতীয় টাকা কিভাবে গেলো তার কোনো ব্যাখ্যা সাইটটি দেয়নি। এই খবরগুলি ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসের। মহারাষ্ট্র টাইমসও আবার এই একই ছবি দেখায় আয়কর বিভাগের একটি রেইড সংক্রান্ত খবরে। তাদের ভিডিওটিতে বলা হচ্ছে, দিল্লি, মুম্বই এবং কলকাতায় আয়কর বিভাগ হানা দিয়ে ১১ কোটি টাকা উদ্ধার করে। খবরটি নভেম্বর ১৮, ২০১৭-র।
তৃতীয় ছবিটি ২০১৭- সালের নভেম্বর মাসের একটি ব্যাঙ্ক ডাকাতির ঘটনা। মুম্বাইতে মহারাষ্ট্র ব্যাংক ডাকাতি করতে গিয়ে ডাকাতরা ২৫ ফুট একটি গর্ত খোঁড়ে। সে ঘটনা রিপোর্ট করে প্রায় সমস্ত নিউজ মিডিয়া।
এই দাবি এর আগেও খণ্ডন করে একটি রিপোর্ট করে এবিপি নিউজ।
এমন ঘটনা ঘটলে নিউজ মিডিয়ায় সেই খবর প্রকাশিত হওয়া স্বাভাবিক ছিল, যা হয়নি। তাই উপরোক্ত পোস্টটির দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা।
আগে ইন্ডিয়া টুডে আন্টি ফেক নিউজ ওয়ার রুম (আফওয়া) খবরটি খণ্ডন করেছে।
JHOOTH BOLE KAUVA KAATE
The number of crows determines the intensity of the lie.
- 1 Crow: Half True
- 2 Crows: Mostly lies
- 3 Crows: Absolutely false

