ফ্যাক্ট চেক: ইনি কি দিল্লি পুলিশের লোক, একই সঙ্গে এবিভিপি-র সদস্য?
বিভ্রান্তিকর দাবি নিয়ে পোস্ট টি ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়ায়
- Total Shares
জামিয়া কাণ্ডের পর থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়ো খবরের সুনামি থামছেই না। সম্প্রতি একটি ছবি ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। সিএএ -র বিরুদ্ধে প্রতিবাদে পুলিশ যখন ছাত্রদের মারছে তখন একজনকে দেখা যায় সিভিল ড্রেসে, নীল রঙের জিন্স এবং লাল রঙের টি-শার্ট পরে এক ছাত্রকে মারছে। সেই ভিডিও ভাইরাল হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় পরে একটি ছবি পোস্ট করেন কিছু ফেসবুক ব্যবহারকারী। যেখানে একটি ফেসবুক প্রোফাইলের স্ক্রিনশট দেওয়া হয়। সেখানে দেখা যায় এনার নাম ভারত শর্মা। সেখানে দেখা যায় তাঁর প্রোফাইল নাম লেখা ভারত শর্মা। তিনি এবিভিপি-র রাজ্য এক্সিকিউটিভ কমিটির সদস্য এবং আরএসএস-র স্বেচ্ছাসেবক-ও। ১৬ ডিসেম্বর ভাস্কর বক্সী নাম এক ফেসবুক ব্যবহারকারী এই ছবিটি পোস্ট করে লেখেন, ''পুলিশের পোশাকে RSS-এর সদস্য !!!''আফওয়া খুঁজে দেখেছে যে এটি একটি বিভ্রান্তিকর পোস্ট।

ছবিটি বহু মানুষ ফেসবুকে শেয়ার করেছেন। এখানে দেখতে পারেন পোস্টটির আর্কাইভ।
আফওয়া দেখেছে যে, যিনি দিল্লি পুলিশের হয়ে ছাত্রদের টার্গেট করছেন আর যে লোকটির ফেসবুক প্রোফাইল একই বলে দাবি করা হয়েছে তা ঠিক নয়। আর একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী আর একটি ছবি পোস্ট করেছেন যেখানে দেখা যাচ্ছে একজন নীল জিন্স, কালো জ্যাকেট পরা একটি লোক একজনকে পা উঁচিয়ে লাথি মারছেন। তাঁর দাবি ইনিই ভারত শর্মা।
আমরা ফেসবুকে গিয়ে আসল ভারত শর্মাকে খুঁজে বার করার চেষ্টা করি। আমরা দেখি ভারত শর্মা তাঁর ফেসবুক প্রোফাইল মুছে দিয়েছেন। আমরা এবিভিপি র সঙ্গে যোগাযোগ করে ভারত শর্মাকে খুঁজে বার করি। তিনি স্বীকার করেন দ্বিতীয় ভিডিওতে যেখানে একজনকে লাথি মারতে দেখা যাচ্ছে সেটা তিনিই। তিনি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র। তাঁর দাবি, তিনি তখনই লাথি মারতে উদ্যত হন যখন কিছু 'বাইরের' ছেলে তাঁদের কলেজে ঢুকতে বাধা দেয়। এই ঘটনা ১৬ তারিখ দুপুরের বলে দাবি ভারত শর্মার। তিনি আরও দাবি করেন যে তিনি মারছেন কিন্তু কি কারণে তা ভিডিওটির এই ছোট ভার্সন দেখা যাচ্ছে না। তাঁর দাবি লম্বা ভিডিওটিতে বোঝা যাবে ঠিক কি কারণে তিনি আর একজনকে আক্রমণ করেছিলেন। আমরা তাঁর কাছ থেকে লম্বা ভিডিওটি চাই। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তিনি ভিডিওটির লম্বা ভার্সন দিতে পারেননি। তবে ইন্ডিয়া টুডেকে তিনি জানান যে তিনি একজন সক্রিয় এবিভিপি কর্মী।
কিন্তু এই ভারত শর্মাই কি অন্য ভাইরাল ভিডিওটিতে লাল টি-শার্ট, নীল জিন্স এবং পুলিশের সুরক্ষা পোশাকে ছাত্র পেটাচ্ছিলেন? তিনি এই অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাঁর দাবি প্রমান করতে তিনি একটি নিজের ছবি আমাদের পাঠান। কিন্তু ভারত তাঁর ফেসবুক প্রোফাইল ডিলিট করলেন কেন। এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান যে ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্রমাগত হুমকি পাচ্ছিলেন। হুমকি দেওয়া হচ্ছিলো তাঁর পরিবারকেও। তাই তিনি সোমবার রাত্রে তাঁর ফেসবুক একাউন্ট ডিএক্টিভেট করে দেন।
কিন্তু লাল টি শার্ট, নীল জিন্স-এ ইনি কে? দিল্লি পুলিশ কি এরকম কোনো বাহিনীকে রাখেন যাঁরা সিভিলড্রেসে কাজ করেন? এব্যাপারে জানতে আমরা দিল্লি পুলিশের ডিসিপি সেন্ট্রাল এমএস রান্ধাওয়াকে যোগাযোগ করি। তিনি দিল্লি পুলিশের জন-সংযোগ আধিকারিকও। তিনি জানান, দিল্লি পুলিশের কয়েকটি স্পেশাল স্কোয়াড আছে। যেমন আন্টি অটো থেফট স্কোয়াড। এনারা সিভিল ড্রেসেই কাজ করেন। তিনি জানান এই কনস্টবল-র নাম অরবিন্দ। ইনি আন্টি অটো থেফট স্কোয়াড-এর সদস্য। তাঁকে নিউ ফ্রেন্ডস কলোনিতে ডিউটি করতে পাঠানো হয়।
তাই এটা বলা যায় যে, ভাইরাল ভিডিওর লাল টি শার্ট, নীল জিনসের লোকটি দিল্লি পুলিশের। লোক। কিন্তু অন্য ভিডিওয় জনকে দেখা যাচ্ছে যে একজনকে লাথি মারছেন তিনি ভারত শর্মা।
JHOOTH BOLE KAUVA KAATE
The number of crows determines the intensity of the lie.
- 1 Crow: Half True
- 2 Crows: Mostly lies
- 3 Crows: Absolutely false

