ফ্যাক্ট চেক: পাকিস্তানের ভুয়ো ভিডিও কাশ্মীরে পুলিশি জুলুম বলে দাবি

ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়

 |  3-minute read |   29-08-2019
  • Total Shares

জম্মু কাশ্মীরে সংবিধানের ৩৭০ এবং ৩৫ এ ধারা বাতিল করার পর থেকেই তর্ক বিতর্ক আর উত্তেজনা চরমে। সেখানকার পরিস্থিতি আদৌ স্বাভাবিক কিনা, তা নিয়ে নানা রকম গুঞ্জন ভেসে বেড়াচ্ছে খবরে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায়। এগুলি সত্যি না মিথ্যে, অনেক ক্ষেত্রেই তা নিয়ে ধন্দ রয়েছে। এর মধ্যেই একটি নতুন ভিডিও থেকে ছড়াল অশান্তির গুজব। সোশ্যাল মিডিয়ায় সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে বেশ কয়েকজন লোক ‘পুলিশ’ লেখা কালো জামা পরে মুখ ঢেকে হাতে লাঠি নিয়ে মহিলাদের ওপর অকথ্য অত্যাচার করছেন। দাবি করা হচ্ছে যে এই ভিডিওটি কাশ্মীরের, যেখানে অবাধে চলছে পুলিশি অত্যাচার।

ইন্ডিয়া টুডের অ্যান্টি ফেক নিউজ ওয়ার রুম (আফওয়া) খতিয়ে দেখে যে, এই ভিডিওটি বিভ্রান্তিকর এবং দাবিও ভিত্তিহীন। ভিডিওটি কাশ্মীরের নয়, পাকিস্তানের সিন্ধু এলাকার।

গত ২৩ অগস্ট ওয়েস্ট বেঙ্গল মিম নামে এক ফেসবুক ভিডিওটি আপলোড করে লেখেন – “মিডিয়া বলছে কাশ্মীরে সব ঠিক আছে। কিন্তু কাশ্মীরের খবর দেখলে চোখে জল চলে আসবে।“

chayan_082919032106.jpg

প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পোস্টটি ৮০০-ও বেশি বার শেয়ার করা হয়।

পোস্টটির আর্কাইভড ভার্শন দেখতে পাবেন এখানে

বিদ্যুৎগতিতে পোস্টটি ভাইরাল হয়ে যায়।

জারিনা বানো নামে এক মহিলা তাঁর ট্যুইটার হ্যান্ডেলে ভিডিওটি পোস্ট করে কাশ্মীরে কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকার তীব্র নিন্দা করেন। এই পোস্টের কমেন্টে অবশ্য অনেকেই ভিডিওর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং বলেন এই লোকগুলি আসল পুলিশ নয়, সাজানো। কেউ কেউ এদের ‘পাকিস্তানের পুলিশ’ বলেও কমেন্ট করেন।

ইন্ডিয়া টুডের অ্যান্টি ফেক নিউজ ওয়ার রুম (আফওয়া) প্রথমেই “acting scene spg commando pakistan police” এই কিওয়ার্ড দিয়ে ইউটিউবে সার্চ করে। তাতে দেখা যায় চলতি বছরের ৬ মে এই ভিডিওটিই ইউটিউবে আপলোড করা হয়েছিল। তাতে লেখা ছিল – নির্দোষ মহিলাদের উপর সিন্ধু প্রদেশের পুলিশি অত্যাচার, পাকিস্তান। “আর্থ সাগর” নামে আরেক ব্যক্তিও তার আগের দিন এই একই ভিডিও আপলোড করেছেন বলেও সার্চে দেখা যায়। কিন্তু ভিডিওতে যাদের পুলিশ বলা হচ্ছে তাদের আচরণ এতই বিসদৃশ এবং অদ্ভুত যে আফওয়া আরও অনুসন্ধান চালায়।

ফেসবুকে কিছু উর্দু কিওয়ার্ড ব্যবহার করে ভিডিওটি সার্চ করা হয়। তাতে দেখা যায় ‘ইংলিশ পাঠান’ নামে এক ব্যক্তি গত ৬ মে এই ভিডিওটিই ফেসবুকে পোস্ট করেছেন। সঙ্গে উর্দুতে কিছু লেখাও রয়েছে যার বাংলা করলে বোঝা যায় যে ভিডিওটি ভুয়ো এবং সিন্ধু প্রদেশের জামশোরো এলাকার পুলিশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাতে এটি ব্যবহার করা হচ্ছে।

এরপর আফওয়া “jamshoro police+viral video” কিওয়র্ড দিয়ে ট্যুইটারে সার্চ করে সিন্ধু পুলিশের একটি ট্যুইট খুঁজে পায়। গত ১১ মে, ২০১৯ সিন্ধু পুলিশ ট্যুইটারে পাকিস্তানি সংবাদ চ্যানেল “আপ নিউজ”-এর একটি ভিডিও ক্লিপ পোস্ট করে জানায় যে এই ভিডিওটি বানানো এবং যারা পুলিশের পোশাকে অত্যাচার করছে তারা কেউই আসলে পুলিশ নয়। সিন্ধুর জামশোরো এলাকার পুলিশকে বদনাম করতেই এই ভিডিওটি প্রচার করা হয়েছে। এ কথা জানিয়ে ‘আপ নিউজ’ চ্যানেলে এই ভিডিওটি সম্প্রচারও করা হয়।

পাকিস্তানের অন্যতম প্রধান সংবাদপত্র “ডন”-এও পরেরদিনই (১২ মে, ২০১৯) সবিস্তার এই খবর প্রকাশিত হয়। তা থেকে জানা যায় এই ভিডিওটি বানানোর এবং প্রচারের অভিযোগে পুলিশ চারজন পুলিশকর্মী ও একজন সাধারণ নাগরিককে গ্রেফতারও করেছে। ডনের রিপোর্টে স্পষ্ট লেখা হয় – জামশোরো-র ভান সায়দাবাদ থানায় এসএসপি তৌকির মহম্মদ নঈম এ নিয়ে একটি সাংবাদিক বৈঠক করেন। তিনি জানান, ভিডিওতে যাদের দেখা যাচ্ছে তাদের মধ্যে চার জন সত্যিই পুলিশকর্মী এবং বাকি চারজন সাজানো পুলিশ।

সুতরাং দেখা যাচ্ছে এই ভাইরাল ভিডিওটি সম্পূর্ণ বানানো এবং কাশ্মীরের নয়, পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের। বিভ্রান্তি ছড়ানোর উদ্দেশ্যেই এটি প্রচার করা হয়েছিল।

  

ফ্যাক্ট চেক: পাকিস্তানের ভুয়ো ভিডিও কাশ্মীরে পুলিশি জুলুম বলে দাবি
Claimকাশ্মীরে পুলিশ সাধারণ মানুষের উপর জুলুম করছে বলে ভিডিও আপলোড করা হয়। Conclusion দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের জামশোরো এলাকার পুলিশকে বদনাম করতে ভিডিওটি বানানো হয়েছিল। কাশ্মীরের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই।
JHOOTH BOLE KAUVA KAATE

The number of crows determines the intensity of the lie.

  • 1 Crow: Half True
  • 2 Crows: Mostly lies
  • 3 Crows: Absolutely false
If you have a story that looks suspicious, please share with us at factcheck@intoday.com or send us a message on the WhatsApp number 73 7000 7000

Writer

CHAYAN KUNDU CHAYAN KUNDU @kunduchayan

Senior Producer, India Today TV.

Comment