লাল কিল্লায় খালিস্তানের নয়, নিশান সাহিবের পতাকা উত্তোলন করা হয়েছিল

ফেসবুক পোস্টে দাবি, কৃষকদের মিছিলে জাতীয় পতাকা সরিয়ে খালিস্তানের পতাকা ওড়ানো হয়েছিল

 |  2-minute read |   27-01-2021
  • Total Shares

কৃষকদের ট্র্যাক্টর মিছিলকে কেন্দ্র করে এখন দেশজুড়ে বিতর্ক তুঙ্গে। সেই উত্তেজনার আঁচ সোশ্যাল মিডিয়াতেও পৌছিয়ে গিয়েছে। বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়াতে সেই মিছিলকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ধরণের পোস্ট করা হচ্ছে।

'নরেন্দ্র মোদি ফ্যান ক্লাব ওয়েস্ট বেঙ্গল' নামের একটি ফেসবুক পেজে এমনই একটি পোস্টে দাবি করা হয়েছে যে ট্র্যাক্টর মিছিল চলাকালীন লাল কেল্লাতে খালিস্তানি পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। 

সেই পোস্টে দুটি ছবি পোস্ট করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি ছবিটি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকে কোনও একটি জনসভায় ভাষণ দিতে দেখা যাচ্ছে। পোস্টের তলায় লেখা রয়েছে, "নেতাজি জন্মদিবসে মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী 'জয় বাংলা' স্লো গান দিয়ে বাংলাদেশকে হাসলেন।" পোস্টটির দ্বিতীয় ছবিটি লাল কেল্লার পতাকা উত্তোলনের ছবি। সেই ছবিটির সঙ্গে ইনসেটে একটি টুইটার হ্যান্ডেলের ছবি যেখানে লেখা রয়েছে, "ভারতের পতাকা সরিয়ে, লাল কেল্লায় খালিস্তানের পতাকা উড়ছে।" দ্বিতীয় ছবিটির তলায় লেখা রয়েছে "ভুয়ো কৃষকরা ভারতের পতাকাকে অবমাননা করে খালিস্তানের পতাকা গেরে পাকিস্তান কে হাসালেন।"

body_012721060518.jpg

এখানে পোস্টটির আর্কাইভ দেখতে পাবেন।

ঘটনাটি নিন্দনীয় হলেও, ইন্ডিয়া টুডের অ্যান্টি-ফেক নিউজ ওয়ার রুম (আফয়া) অনুসন্ধান করে দেখেছে এই পোস্টের দাবি অর্ধ সত্য।

বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত এই পতাকা উত্তোলনের ছবিগুলোকে জুম করলে পতাকার উপর ছাপা প্রতীক চিহ্ন পরিষ্কার দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। পতাকার উপর একটি খান্দা ছাপানো রয়েছে। এই খান্দা কিন্তু শিখদের প্রতীক যার প্রচলন গুরু গোবিন্দ সিংয়ের সময়কালে। পতাকাটি হালকা হলুদ রঙের।

body1_012721060544.jpg

এই ধরণের প্রতীক বিশিষ্ট হালকা হলুদে রঙের পতাকাটি আসলে নিশান সাহিবের। এর সঙ্গে খালিস্তানের পতাকার কোনও সম্পর্ক নেই।

এখানে উল্লেখযোগ্য, ইন্ডিয়াটুডে এর পরে @apmlofficial_নামের টুইটার হ্যান্ডেলটি খুলে, যে টুইটটি এই ছবিটির ইনসেটে ব্যবহার করা হয়েছিল সেই টুইটটিকে খোঁজার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু সেই হ্যান্ডেল থেকে ইতিমধ্যেই সেই টুইটটি মুছে ফেলা হয়েছে।

ইন্ডিয়াটুডের প্রতিনিধি নভজ্যোৎ কৌর সেই সময়ে লাল কিল্লায় উপস্থিত ছিলেন। তিনিও নিশ্চিত করেন যে লাল কেল্লায় উত্তেলিত পতাকাটি নিশান সাহিবের।

ইন্ডিয়া টুডের পক্ষ থেকে দিল্লির শিখ গুরুদ্বার ম্যানেজমেন্ট কমিটির বর্ষীয়ান সদস্য হরিন্দর পাল সিংয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। পতাকাটি নিশান সাহিবের বলে নিশ্চিত করার পাশাপাশি এই সমগ্র ঘটনাটি নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন হরিন্দর।

এর পর, এই পতাকা উত্তোলনের ভিডিও পরীক্ষা করে  দেখতে পাওয়া যায় যে এই পতাকাটি যে পোলে লাগানো হয়েছিল সেই পোলে কোনও জাতীয় পতাকা ছিল না। লাল কিল্লার মূল পোলের উপর উড়তে থাকা জাতীয় পতাকাকে কোনও ভাবেই স্পর্শ করেননি আন্দোলনকারীরা।

অন্যদিকে, তথ্য যাচাই করে দেখা গিয়েছে প্রথম ছবিটির দাবি সত্য। মমতা বন্দোপাধ্যায় নেতাজির জন্মজয়ন্তী উদযাপনের সময় ভাষণ দিতে উঠে "জয় বাংলা" স্লোগান দিয়েছিলেন।

সুতারং, বলা যেতেই পারে ‘নরেন্দ্র মোদি ফ্যান ক্লাব ওয়েস্ট বেঙ্গল’ ফেসবুক পেজে করা এই দাবি অর্ধ সত্য। যদিও ঘটনাটি যারপরনাই নিন্দনীয়।

আপডেট

এই প্রতিবদেনটি প্রকাশ হওয়ার পরে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়াতে আরও ভিডিও প্রকাশ করে দাবি করা হয়েছে যে ২৬শে জানুয়ারি খালিস্তানি পতাকা লাল কিল্লায় উত্তোলন করা হয়েছিল। আফওয়া এই প্রতিবেদনে যে ফ্যাক্টচেক করেছে তা শুধুমাত্র এই ছবিটির উপর যেখানে একজনকে খুঁটির উপর উঠে পতাকা উত্তোলন করতে দেখা যাচ্ছে। অন্য কোনও ভিডিও বা ছবির সঙ্গে এই প্রতিবেদনের সম্পর্ক নেই। 

লাল কিল্লায় খালিস্তানের নয়, নিশান সাহিবের পতাকা উত্তোলন করা হয়েছিল
Claimখালিস্তানের পতাকা উত্তোলন করে ভারতকে পাকিস্তানের কাছে হাসির খোরাক করে তুলেছে ভুয়ো কৃষকরা Conclusion পতাকাটি নিশান সাহিবের, এর সঙ্গে খালিস্তানের কোনও সম্পর্ক নেই
JHOOTH BOLE KAUVA KAATE

The number of crows determines the intensity of the lie.

  • 1 Crow: Half True
  • 2 Crows: Mostly lies
  • 3 Crows: Absolutely false
If you have a story that looks suspicious, please share with us at factcheck@intoday.com or send us a message on the WhatsApp number 73 7000 7000

Writer

ARPIT BASU ARPIT BASU @virusfound007

Arpit Basu is the Special Correspondent with the India Today Group’s fact check team. With more than one-and-a-half decade's experience in print and digital media, he has reported on aviation, transport, crime, civic and human interests issues. His sting operation on how precious Aviation Turbine Fuel, meant for Kolkata airport, was pilfered and sold in local market as ‘white kerosene’ received widespread acclaim. Arpit has worked with reputed media houses like The Times of India and Hindustan Times and had received letter of appreciation for reporting during the Phalin cyclone in Odisha in 2013.

Comment