ফ্যাক্ট চেক: আত্মহত্যার এই ঘটনার সঙ্গে লকডাউনের কোনো সম্পর্ক নেই
বিভ্রান্তিকর দাবীর সাথে ভাইরাল দুবছরের পুরোনো ছবি
- Total Shares
লকডাউনের জন্য দেশজুড়ে বিভিন্ন মানুষের নানা দুর্দশার ছবি অনেকে তুলে ধরছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়।
এরই মধ্যে ফেসবুকে ভাইরাল আত্মহত্যার এক ছবি।ভাইরাল সেই পোস্টটিতে দাবী করা হচ্ছে, ছবিতে গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলতে থাকা পুরুষটি এক মহিলা ও শিশুসহ লকডাউনের কারণে আত্মহত্যা করেন।
মর্মান্তিক সেই ছবিটি "মানবিক দায়িত্ব" নামের একটি ফেসবুক পেজ পোস্ট করে লেখে, "লক ডাউন কেড়ে নিলো তিন তিনটে তাজা প্রাণ #আমিন"।

আপনারা পোস্টটির আর্কাইভ ভার্শন এখানে দেখতে পাবেন।
ইন্ডিয়া টুডে অ্যান্টি ফেক নিউজ ওয়ার রুম (আফয়া) তদন্তে দেখেছে ভাইরাল এই পোষ্টের দাবীটি বিভ্রান্তিকর ও এর সাথে লকডাউনের কোনো সম্পর্ক নেই।আত্মহত্যার এই ছবিটি আদতে ২০১৮ সালের।
ভাইরাল এই ছবিটির সত্যতা জানতে আমরা প্রথমে এটিকে রিভার্স সার্চ করি।সেখান থেকে আমরা ২০১৮ সালের জুন মাসের "দ্য লাল্লনটোপের" একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাই যেখানে এক দম্পতির করা এই আত্মহত্যার ঘটনাটির উল্লেখ রয়েছে।
ওই প্রতিবেদন থেকে আমরা জানতে পারি, ঘটনাটি মহারাষ্ট্রের ওয়ার্ধা জেলার।সেখানকার অস্তি পুলিশ স্টেশনের এক পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, মধ্য প্রদেশের এক কোম্পানিতে ৩৭ বছর বয়সী অনিল নারায়ণ ওয়াংখেডে বিদ্যুৎকর্মী হিসেবে কাজ করতেন।পরে কোম্পানিটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কাজ হারিয়ে তিনি পরিবারকে নিয়ে তার ওয়ার্ধার অরভি গ্রামের বাড়িতে ফিরে আসেন।
কাজ হারানোর জন্য অনিলকে সেখানে প্রায় আড়াই মাস ধরে তার বাবা মা ও বোনের গঞ্জনা শুনতে হত।প্রতিবেশীরাও জানান তারা এই পরিবারের ঝগড়া প্রায়ই শুনতে পেতেন।এরপর অনিলের বাবা তাকে তার স্ত্রী ও মেয়ে সমেত একদিন বাড়ি থেকে বের করে দিলে অনিল তার শ্বশুরবাড়িতে যেতে চাননি।বাড়ী ফেরার রাস্তা না থাকায় তিনি তার স্ত্রী ও মেয়েকে কীটনাশক খাওয়ান ও পরে তাদের গাছে ঝুলিয়ে নিজেও গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেন।
এই প্রতিবেদনটি ছাড়াও ঘটনাটির কথা দৈনিক ভাস্করের দিব্যা মারাঠি ও নাগপুর টুডের প্রতিবেদনগুলি থেকে জানা যায়।
অতএব, এর থেকে পরিষ্কার যে ভাইরাল এই ফেসবুক পোস্টের দাবীটি বিভ্রান্তিকর এবং আত্মহত্যার এই ছবিটির সাথে লকডাউনের কোনো সম্পর্ক নেই।
JHOOTH BOLE KAUVA KAATE
The number of crows determines the intensity of the lie.
- 1 Crow: Half True
- 2 Crows: Mostly lies
- 3 Crows: Absolutely false

