ফ্যাক্ট চেক: ওজোন স্তরের ক্ষত সারার সাথে লকডাউনের সম্পর্ক নেই
বিভ্রান্তিকর এই দাবীটি ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়ায়
- Total Shares
করোনা মহামারীর কারণে প্রায় সারা বিশ্বের মানুষ এখন ঘরবন্দী।এর পাশাপাশি বেশ কিছু পৃথিবীর সেরে ওঠার কাহিনী ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।তারই মধ্যে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন আর্কটিক অঞ্চলের উপর থাকা সবচেয়ে বড়ো ওজোন স্তরের ক্ষত সেরে উঠেছে।
ওজোন স্তর পৃথিবীর বেশিরভাগ সূর্যের অতিবেগুনী রশ্মির বিকিরণ থেকে রক্ষা করে যা ত্বকের ক্যান্সারের একটি প্রধান কারণ। নেটিজেনরা অবশ্য দাবি করেছেন ওজোন স্তরের এই নিরাময় লকডাউনের অন্যতম ইতিবাচক প্রভাব।
আপনারা এর আর্কাইভ ভার্শনটি এখানে দেখতে পাবেন।
ইন্ডিয়া টুডে অ্যান্টি ফেক নিউজ ওয়ার রুম (আফয়া) দেখেছে দাবীটি বিভ্রান্তিকর। কোভিড-১৯ লকডাউনের সাথে ওজোন স্তর গর্তটি বুজে যাওয়ার কোনও সম্পর্ক নেই। বিজ্ঞানীদের মতে, ঘটনাটি একটি অস্বাভাবিক শক্তিশালী এবং দীর্ঘকালীন পোলার ঘূর্ণি কারণে ঘটেছে। বায়ুর গুণমান পরিবর্তনের সাথে এটি সম্পর্কিত নয়।
বেশ কয়েকজন ফেসবুক ব্যবহারকারীও লকডাউনের কারণে ওজোন স্তরের ফাঁক বন্ধ হওয়ার অনুরূপ দাবী করেছেন।

অনেক ফেসবুক ব্যবহারকারী "উইয়ন" নিউজ চ্যানেলের একটি ইউটিউব লিঙ্ক শেয়ার করেছেন।পোস্টের ক্যাপশনে লেখা, "বিশ্বজুড়ে হওয়া লকডাউনের ইতিবাচক প্রভাব, পৃথিবীর ওজোন স্তর নিজেই নিরাময় হচ্ছে । বিশ্বব্যাপী লকডাউন ”। নিউজ ক্লিপটি আরও দাবি করেছে যে বিশ্বব্যাপী লকডাউন ওজোন স্তর নিরাময়ের ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
আর্কাইভ ভার্শনটি আপনারা এখানে দেখতে পাবেন।
বেশ কয়েকজন টুইটার ব্যবহারকারীও দাবী করেছেন যে এই ঘটনার পিছনে কোভিড -১৯ লকডাউনের হাত রয়েছে।
রহস্যের পিছনে কারণ
এপ্রিল ২৩, ২০২০ তে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পৃথিবী পর্যবেক্ষণ কর্মসূচী কোপার্নিকাস এটমোস্ফিয়ার মনিটরিং সার্ভিস (সিএএমএস) ঘোষণা করে যে আর্কটিকের ওজোন স্তরটিতে এ পর্যন্ত দেখা সবচেয়ে বড় গর্তটি বন্ধ হয়ে গেছে।আর্কটিকের উপর মার্চ মাসে তৈরি হওয়া দশ মিলিয়ন বর্গকিলোমিটার প্রশস্ত ওজোন স্তরের গর্তটির উপর সিএএমএস তীক্ষ্ণ নজর রেখে চলেছে।
অনেকে সিএএমএস টুইটার হ্যান্ডেলে বলেছেন, ঘটনাটি বিশ্বব্যাপী কোভিড -১৯ লকডাউনের ফলাফল।যদিও সেই এজেন্সি তখন স্পষ্ট করে জানিয়েছিল লকডাউনের সাথে এর কোনও যোগসূত্র নেই।
“আর্কটিকের ওজোন গর্তটির সাথে করোনা ভাইরাসের কারণে হওয়া লকডাউনগুলির কোনো সম্পর্ক নেই, বরং এটি অস্বাভাবিকভাবে শক্তিশালী এবং দীর্ঘকালীন পোলার ঘূর্ণির জন্য তৈরি হয়েছিল,” সিএএমএস টুইট করে।
সিএএমএস ওজোন স্তর নিরাময়ের পিছনে কারণ ব্যাখ্যা করে জানিয়েছিল এই বছর পোলার ঘূর্ণি অত্যন্ত শক্তিশালী হয়েছে এবং এর আভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা খুব ঠান্ডা ছিল। বিজ্ঞানীরা অবশ্য বলেছিলেন জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য এই ঘটনাকে দায়ী করাটা খুব তাড়াহুড়ো হবে।
সিএএমএসের বিজ্ঞানী আন্টজি ইননেস "ইউরোনিউজ" কে বলেন, "এই শীতে এতটা অস্বাভাবিক গতিশীলতা কেন হয়েছিল তা আমরা এই মুহুর্তে জানি না। আমি নিশ্চিত যে এর কারণগুলি জানতে অনেক বিজ্ঞানী মডেলিং স্টাডিজ করবেন ”।
তাই, এর থেকে পরিষ্কার দেখা যায় যে আর্কটিক অঞ্চলের ওজোন স্তরের গর্তটি করোনভাইরাস লকডাউনের কারণে বন্ধ হয়নি।
JHOOTH BOLE KAUVA KAATE
The number of crows determines the intensity of the lie.
- 1 Crow: Half True
- 2 Crows: Mostly lies
- 3 Crows: Absolutely false

