ফ্যাক্ট চেক: এই ছবির পিছনে যে গল্প সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল সেটি কি সত্যি?
ছবিটি তোলার পর কি ফটোগ্রাফার হতাশায় ভুগছেন?
- Total Shares

দুটি চিতা বাঘ একটি হরিনের গলা ধরে আছে মারার জন্য। হরিণটির দৃষ্টি শূন্য। এমনই একটি ছবি পোস্ট করে এক ফেসবুক ব্যবহারকারী দাবি করেছেন যে চিতা দুটি হরিণটিকে ধাওয়া করে। হরিণটি তার বাচ্ছাদের বাঁচাতে গিয়ে নিজেকে চিতাগুলির সামনে আত্মসমর্পণ করে। ইন্ডিয়া টুডে অ্যান্টি ফেক নিউজ ওয়ার রুম (আফওয়া)এর পাওয়া তথ্য অনুযায়ী এই পোস্টটির দাবি সঠিক নয়।
গত ১১ অক্টোবর এই পোস্টটি করেন নিলয় চৌধুরী। পোস্টকার্ড সাইজ ছবিটির উপরেই লেখা রয়েছে, ''এ ছবিটা শ্রেষ্ঠ ছবির পুরস্কার পেয়েছে। ফটোগ্রাফার এই ছবিটা তোলার পর থেকে ডিপ্রেশনে চলে যান।'' মা ইম্পালা তার সন্তানদের চিতার হাত থেকে বাঁচিয়ে নিজে আত্মসমর্পণ করছে এই দাবি করার সঙ্গে সঙ্গে ফটোগ্রাফার ছবিটি তোলার পর ডিপ্রেশনে চলে গেছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।

পোস্টটি আড়াই হাজার বারের কাছাকাছি শেয়ার হয়েছে। এখানে দেখতে পারেন পোস্টটির আর্কাইভ।
ইন্ডিয়া টুডে অ্যান্টি ফেক নিউজ ওয়ার রুম (আফওয়া) খোঁজ খবর করতে শুরু করে দেখে পোস্টটিতে যে দাবি করা হয়েছে তা ভুল। ছবিটি রিভার্স সার্চ করে আমরা জানতে পারি ছবিটি তুলেছিলেন এলিসন বাটিজি নামের এক ফটোগ্রাফার। কেনিয়ায় ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এই ছবিটি তোলেন তিনি। তাঁর ওয়েবসাইট-ও ছবিটি রয়েছে। ছবিটির নাম ''দি স্ট্রাংহোল্ড''।
আমরা দেখি ২০১৭ সাল থেকে এই ছবিটি এই একই দাবি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবিটি ছড়িয়েছে। এখানে এলিসনের ওয়েবসাইটেই রয়েছে ছবিটি তোলার পিছনের গল্প যা বর্ণনা দিয়েছেন স্বয়ং এলিসন নিজেই। এই গল্পে তিনি বলেছেন মা চিতা তার দুই সন্তানকে শিকার ধরা শেখাচ্ছিলো।
এছাড়াও যখন ২০১৭ সাল থেকে এই পোস্টটি যখন ভাইরাল হয় সে সময়েই ফটোগ্রাফার এলিসন একটি ফেসবুক পোস্ট করে তাঁর হতাশার কথা জানান।
এর আগে ইন্ডিয়াটুডে সহ অনেকগুলি মেইনস্ট্রিম মিডিয়া বিষয়টি নিয়ে খবর করে।
তাই ছবিটির সঙ্গে যে দাবি করা হয়েছে তা সঠিক নয়।
JHOOTH BOLE KAUVA KAATE
The number of crows determines the intensity of the lie.
- 1 Crow: Half True
- 2 Crows: Mostly lies
- 3 Crows: Absolutely false

