ভোট যত এগিয়ে আসছে প্রচারে ততই এগোচ্ছে কংগ্রেস
রাহুলের অভিযোগের জবাব দিতেই এখন ব্যস্ত বিজেপি-আরএসএস
- Total Shares
রাজনীতির ময়দানে অ্যাজেন্ডা কে নির্দিষ্ট করছে তার উপরে অনেকটাই নির্ভর করে মানুষ নির্বাচনের সময় কোন পথে চালিত হবে। নির্বাচন যত এগিয়ে আসে ততই লড়াই শুরু হয় অ্যাজেন্ডা নির্দিষ্ট করবার। মাঝের পাঁচটা বছর কে কী ভাবে সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম দখল করে থাকলেন, তার কিছুই খুব একটা কাজে দেয় না নির্বাচনের পাঁচ-ছ’ মাস আগে।
এই মুহূর্তে ভারতে আগামী লোকসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অ্যাজেন্ডা নির্দিষ্ট করার লড়াই চলছে। গত সাড়ে চার বছর ধরে নানা সাহসী পদক্ষেপ করে সংবাদমাধ্যমের শীর্ষস্থানে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কিন্তু নির্বাচন যত এগিয়ে আসতে শুরু করেছে তত যেন কিছুটা হলেও কোণঠাসা শাসকপক্ষ।
রাহুল গান্ধী ও নরেন্দ্র মোদী: ভোটের আগে কংগ্রেসের আক্রমণের তির সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর দিকে (ছবি: ইন্ডিয়া টুডে)
এই পুরো ধারনাটাই তৈরি হচ্ছে সংবাদমাধ্যমে আলোচনার অভিমুখ থেকে। এটা ঠিক যে সংবাদমাধ্যম আদৌ জনমত তৈরি করে কিনা বা আজকের দিনে সোশ্যাল মিডিয়া জনমত তৈরি করছে কিনা সেটা বিশ্বব্যাপী বিতর্কের বিষয়। কিন্তু রাফালকে কেন্দ্র করে রাহুল গান্ধী যে ভাবে আক্রমণ তীব্র করেছেন সেখানে কোথাও একটা বিজেপির জবাব জুৎসই হচ্ছে না বলে একাংশের মানুষ মনে করছেন। বিশেষ করে সদ্যসমাপ্ত বিজেপির কেন্দ্রীয় কর্মসমিতির বৈঠকের পরে।
কেন্দ্রীয় কর্মসমিতির বৈঠকে বিজেপির আলোচনার একমাত্র কেন্দ্রবিন্দু ছিল মহাজোট। কোনও অঙ্কের হিসাবেই মহাজোট পুরো ভারতব্যাপী সম্ভব নয়। শুধু একটিই জায়গায় বিজেপি ভীত এবং তার যাবতীয় রণকৌশল মহাজোটের নাম করে সেই একটিই জায়গায় কেন্দ্রীভূত হবে, সেটি হল উত্তরপ্রদেশ।
রাহুল গান্ধী: রাজীব গান্ধীকে যে ভাবে 'চোর' বলা হয়েছিল, এখন সেই ভাবেই মোদীকে আক্রমণ করছেন তিনি (ছবি: রয়টার্স)
কিছুটা সন্ত্রস্ত বিজেপি নেতৃত্ব মনে করছেন যে মহাজোট নামক বস্তুটি যদি উত্তরপ্রদেশে সম্ভব না হয় তা হলে রাফাল বা পেট্রোপণ্যের দাম বা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম নিয়ে তারা চিন্তা করতে রাজি নয়। তার প্রথম পদক্ষেপ হিসাবে ছত্তীশগড়, রাজস্থান ও মধ্যপ্রদেশে সমাজবাদী পার্টি এবং বহুজন সমাজপার্টির কোনও আসন সমঝোতা হচ্ছে না, অখিলেশ যাদব অন্তত সেই ইঙ্গিত আগেই দিয়ে রেখেছেন। আপাত দৃষ্টিতে রাফাল নিয়ে রাহুল খুবই আক্রমণাত্মক। কিন্তু বিজেপি বোধহয় মনে করছে নরেন্দ্র মোদীকে ‘চোর’ প্রমাণ করার যে প্রচেষ্টা রাহুল চালাচ্ছেন সেটা বরঞ্চ ব্যুমেরাং হবে।
এটা ঠিক যে রাহুল গান্ধীর মনে একটা স্মৃতি বড় দগদগে হয়ে রয়েছে, তা হল গলি গলি মে শোর হ্যায় রাজীব গান্ধী চোর হ্যায়। কিন্তু দুর্নীতির ব্যাপারে ভারতীয় জনমানসে গান্ধী পরিবারের যে নেতিবাচক অবস্থান তার সঙ্গে নরেন্দ্র মোদীকে এক আসনে বসানোর চেষ্টা কতটা বাস্তব হবে সেটা অবশ্যই তর্কের বিষয়। কিন্তু তবুও বিজেপি যেন কোথাও একটু আড়ষ্ঠ। এই আড়ষ্ঠতারই প্রতিফলন ঘটে গেল আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের তিন দিন ধরে একতরফা সাফাইয়ে।
প্রায় শতবর্ষের আরএসএস চিরকাল প্রচার বিষয়টিকে ঘৃণা করে এসেছে এবং প্রচার কতটা নেতিবাচক তা প্রমাণ করার
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী: তাঁর দল বিজেপি এখন বেশ কিছুটা আড়ষ্ঠ (ছবি: রয়টার্স)
চেষ্টা করে এসেছে। প্রচার নামক বিষয়টি নিয়ে কোনও আলোচনা হলে আরএসএস যুক্তি খাড়া করেছে সংস্কৃত শ্লোকের মাধ্যমে: কর্ম্মন্যেবাধিকারস্তে মা ফলেসু কদাচন।
সেই আরএসএস তিন দিন ধরে প্রচারের ডালি সাজিয়ে বসেছিল – এটা যথেষ্ট ইঙ্গিতবাহী। একদিকে বিজেপির আড়ষ্ঠতা, অন্যদিকে আরএসএসের প্রচারমুখীনতা – এই দুই মিলিয়ে পরিস্থিতি এমন একটা জায়গায় দাঁড়িয়েছে তাতে সংবাদমাধ্যমের অভিমুখ অনুয়ায়ী এককদম এগিয়ে রয়েছেন মানস সরোবর-ফেরত রাহুল গান্ধী।

