ভোটের মুখে জ্যোতিষচর্চা ও পুজোয় মেতেছেন দলমত নির্বিশেষে রাজনৈতিক নেতানেত্রীরা

একটা কথা অনস্বীকার্য, লঙ্কা-লেবুর রাজনীতি আসলে ভোটারদেরই কপাল লিখন

 |  2-minute read |   23-11-2018
  • Total Shares

সময় সকলের কাছে সবসময়ই দামি। রাজনৈতিক নেতাদের ক্ষেত্রে সময় এক রকম যায় না, হয় অনুকূল না হয় প্রতিকূল।

ভোট যত এগিয়ে আসবে এই অবস্থা পরিস্থিতি আরও বে'শি করে দেখা যাবে।

ছত্তিসগড়, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, মিজোরাম ও তেলঙ্গনায় এখন নির্বাচনী হাওয়া বইছে। এই সবক’টি রাজ্যেই দলমত নির্বিশেষে রাজনৈতিক নেতানেত্রীরা গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থানের অঙ্ক কষতে শুরু করে দিয়েছেন। লঙ্কা- লেবু কিংবা মাদুলির ব্যবহার উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়েছে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে তো ভোটারদের মন বোঝার চেয়েও জ্যোতিষচর্চা বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

তেলঙ্গনায় যেমন হায়দরাবাদের একটি ছবির দোকানে লাইন লাগিয়েছেন বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক নেতা নেত্রীরা। তাঁদের মনে বদ্ধমূল বিশ্বাস যে অরুণা স্টুডিয়োয় ছবি তোলা মানেই নির্বাচন জয় একপ্রকার নিশ্চিত।

nimbura_112118032500_112318080920.jpgগলায় লেবু-লঙ্কার মালা ঝুলিয়ে প্রচারে জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া (ডেইলি ও)

অরুণা স্টুডিয়োতে ছবি তুলেও ফল প্রকাশের দিন কাদের মুখের হাসি থাকবে তা এখনও নিশ্চিত নয়। কিন্তু এই মুহূর্তে স্টুডিয়োটির মালিক সতীশ অবশ্য বেশ খুশি। তাঁর কথা বিশ্বাস করতে হলে, কেটি রামা রাও, টি হরিশ এবং কাদিয়াম শ্রীহরির মতো নেতারা তাঁকে ফোন করে বাড়িতে ডেকে ছবি তুলিয়েছেন। এই সব হেভিওয়েট নেতারা নিরাপত্তাজনিত কারণে স্টুডিয়োতে যেতে ভরসা পাননি।

 এর আগে অগস্ট মাসে কংগ্রেস নেতা জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়াকে লঙ্কা ও লেবু দিয়ে তৈরি মালা পরে প্রচার করতে দেখা গিয়েছিল। আর ভারতীয়দের তো লঙ্কা লেবুর রাজনীতি নিয়ে আলাদা করে জ্ঞান দিতে হবে না। লেবু-লঙ্কা পরে তার উপরে আসা কুপ্রভাবগুলোকে এড়াতে চেয়েছিলেন সিন্ধিয়া। কিন্তু তিনি তাঁর প্রচেষ্টায় পুরোপুরি ব্যর্থ। উল্টে কুসংস্কারকে প্রশ্রয় দিচ্ছেন বলে তিনি নিন্দিত হন।

এই নিন্দুকদের তালিকায় রয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান। কিন্তু চৌহান নিজেই তো একই পথের পথিক। বহু বছর ধরেই প্রচারের সময়ে সুকৌশলে তিনি অশোক নগর ও ইচ্ছাওয়াড় কেন্দ্র দুটি এড়িয়ে যাচ্ছেন। এবং, তা কুসংস্কারে বিশ্বাস করেই। কথিত আছে যে যে মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনের আগে এই দু’টি কেন্দ্রে পা রেখে ছিলেন, সেই সব মুখ্যমন্ত্রীই নির্বাচন শেষে ক্ষমতা হারিয়েছেন। খবরে প্রকাশ, এবার শেষ মুহূর্তে নিজের মত পরিবর্তন করে এই দুটি কেন্দ্রে গিয়েছেন চৌহান। কারণ উত্তরপ্রদেশের এই প্রথমবার কোনও ভাবী মুখ্যমন্ত্রী (যোগী আদিত্যনাথ) নয়ডা আসন থেকে জিতে যাওয়ায় নরেন্দ্র মোদীর বাহবা পেয়েছিলেন আদিত্যনাথ।

shivraj-singh_112118_112318081017.jpgশিবরাজ সিং চৌহান নিজেও সংস্কারমুক্ত নন, যদিও সমালোচনা করেছেন সিন্ধিয়ার (ডেইলি ও)

মধ্যপ্রদেশে যখন লেবু-লঙ্কার চাহিদা তুঙ্গে তখন অন্য একটি ঘটনার সাক্ষী থাকল রাজস্থান। রাজ্য বিজেপির হেভিওয়েট প্রার্থী ঘনশ্যাম তিওয়ারিকে দেখা গেল মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় রিটার্নিং অফিসারের ঘরের সামনে ঘড়ি ধরে ১৩ মিনিট অপেক্ষা করতে। কেন? তিওয়ারি আসলে সেই মাহেন্দ্রক্ষণের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। ঘরে ঢোকার আগে তিওয়ারি নাকি একটি মন্ত্র উচ্চারণ করেন।

একজন নেতাকে কী ভাবে আপনি দোষ দেবেন যেখানে প্রায় সব নেতানেত্রীর অবস্থাই একই রকম?

ফেব্রুয়ারি মাসে রাজস্থান বিধানসভার শুদ্ধকরণের ব্যবস্থা করা হয় কারণ বিধায়কদের বিশ্বাস সংসদ কক্ষে প্রেতাত্মাদের আনাগোনা বেড়েছে। বিধায়কদের ধারণা ভূত প্রেতের উপদ্রবের জন্য এক টানা বেশিদিন রাজ্যের ২০০জন বিধায়ক থাকতে পারেন না। এক হয় কেউ পদত্যাগ করেন, কেউ জেলে যান বা কেউ মারা যান।

তাঁদের বিশ্বাস হয়তো যথাযথ,  প্রেতাত্মারা যে মানুষকে জেলে পাঠাতে সিদ্ধহস্ত।

এই বিধায়করা 'খারাপ আত্মা' থেকে মুক্তি পেতে মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজেকে পুজোঅর্চনা করার পরামর্শ দেন। খবরের প্রকাশ, বিধাসভার মূল গেটের বাইরেও পুরোহিতকে পুজো করতে দেখা গিয়েছে। আসলে দুই বিজেপি বিধায়কের অকালপ্রয়াণের পর বিধানসভা শুদ্ধিকরণ করছিলেন পুরোহিত।

একটা কথা অনস্বীকার্য। রাজনৈতিক নেতাদের এই জ্যোতিষচর্চা কিন্তু আসলে ভোটারদেরই কপাল লিখন।

If you have a story that looks suspicious, please share with us at factcheck@intoday.com or send us a message on the WhatsApp number 73 7000 7000

Writer

Comment