শাসক দল ধর্মঘট সমর্থন করছিল না, তা সত্ত্বেও জনজীবন স্বাভাবিক ছিল না
বিজেপির দাবি ইতিহাসে এই প্রথম স্বতঃস্ফূর্ত ধর্মঘট দেখল পশ্চিমবঙ্গ
- Total Shares
রাজ্য জুড়ে মাত্র কয়েকটি বিক্ষিপ্ত ঘটনা। কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকাগুলোতেও হাতে গোনা কয়েকটি বিক্ষিপ্ত ঘটনা। ওই পর্যন্তই। বড় মাপের কোনও গন্ডগোলের খবর নেই। অর্থাৎ, মোটের উপর ধর্মঘট শান্তিপূর্ণ।
এই ধর্মঘটে সায় ছিল না শাসক দলের। সাধারণত শাসক দল ধর্মঘট সমর্থন না করলে সেই ধর্মঘট ব্যর্থ হয়। আর, এই ধর্মঘট তো 'শাসক দলের' ব্যর্থতার প্রতিবাদেই। ইসলামপুরের গুলিতে নিহত দুই ছাত্রদের মৃত্যুর প্রতিবাদে। বিজেপির দাবি, ওই দুই ছাত্র নিহত হয়েছে পুলিশের গুলিতে আর তাই এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চাই।
ইসলামপুরে ছাত্রহত্যার প্রতিবাদে আজ ধর্মঘট ডেকেছিল বিজেপি [ছবি: সুবীর হালদার]
শাসক দলের সায় ছিল না ধর্মঘটে [ছবি: সুবীর হালদার]
কিন্তু বুধবার কলকাতা তথা সমগ্র রাজ্য জুড়ে যে চিত্রটি ধরা পড়ল তাতে কি ধর্মঘটকে ব্যর্থ বলা চলে?
জনশূন্য বলা না গেলেও, মহানগরীর রাজপথ যে অন্য কাজের দিনের মতো ছিল তাও বলা যাচ্ছে না। সরকারি বাস চলাচল অন্যদিনের তুলনায় কিছুটা বেশি চোখে পড়েছে। বেসরকারি বাসের সংখ্যা অবশ্য অন্যদিনের তুলনায় অনেক কম। বাস মিনিবাস চললেও রাস্তায় লোকের সংখ্যা কম থাকায় বেশিরভাগ বাস মিনিবাসকে অনেক কম যাত্রী নিয়ে যাতায়াত করতে হয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, মহানগরীর রাজপথে হলুদ ট্যাক্সির সংখ্যা ছিল ভীষণ ভাবে কম।
শাসক দল ধর্মঘট সমর্থন করছিল না। কয়েকটি বিক্ষিপ্ত ঘটনা ছাড়া ধর্মঘট সমর্থনকারীদের গাজোয়ারি করতে দেখা যায়নি। তাহলে কি অনেকদিন বাদে স্বতঃস্ফূর্ত একটি ধমর্ঘট দেখল বাংলা।
আজকের জনজীবন যে স্বাভাবিক ছিল না তা মেনে নিয়েও তৃণমূল নেতারদের দাবি যে বিজেপির সন্ত্রাসের হুমকিতে ভয় পেয়ে অনেকেই বাড়িতে হাতে পছন্দ করেছেন। তার মানে এই নয় যে বিজেপির এই ধর্মঘট বাংলার জনগণ সমর্থন করেছে।
অন্যদিকে, বিজেপির দাবি ধর্মঘট সফল। দলের তরফ থেকে রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ দাবি করেছেন, "ইতিহাসে এই প্রথম স্বতঃস্ফূর্ত ধর্মঘট দেখল বাংলা।"তাই, নির্দিষ্ট সময়ের দু'ঘণ্টা আগে বন্ধ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয় বিজেপি।

