২০১৯ লোকসভা নির্বাচন: বিজেপি ও কংগ্রেসের এখন কী করণীয়
ভোটে জিততে বিজেপি ও কংগ্রেস -- দুই দলকেই বেশ কয়েকটি ব্যাপারে প্রস্তুত হতে হবে
- Total Shares
সম্প্রতি শেষ হওয়া বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল যদি আসন্ন ২০১৯ লোকসভার সম্ভাব্য ফলাফলের ইঙ্গিত দিয়ে থাকে, তা হলে বলতেই হচ্ছে, বিজেপি ও কংগ্রেস উভয় দলকেই বেশ কয়েকটি ব্যাপারে প্রস্তুত হতে হবে। এই মুহূর্তে কংগ্রেসকে বেশ ফুরফুরে মেজাজে দেখতে পাওয়া গেলেও কংগ্রেস এখন শরিক সংক্রান্ত সমস্যায় ভুগছে। কংগ্রেসের থিঙ্কট্যাঙ্ক এখনও পুরোনো পন্থায় বিশ্বাসী যে পন্থা বর্তমান যুগের রাজনীতিতে বিলুপ্তির পথে।
মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিসগড় ও রাজস্থানে বহুজন সমাজ পার্টির সঙ্গে জোট বাঁধতে পারেনি কংগ্রেস। তার মানে এই তিন রাজ্যে আসনের বিচারে খুবই স্বল্প ব্যবধানে জয়ে পেয়ে শেষ পর্যন্ত সরকার গঠন করেছে কংগ্রেস। এর ফলে কংগ্রেস না আরও বেশি করে বর্ষীয়ান নেতাদের উপর ভরসা করে বসে। সে ক্ষেত্রে ফল হিতে বিপরীত হতে পারে।
শরিক-সমস্যায় ভুগছে কংগ্রেস [ছবি: পিটিআই]
দেশের সবচেয়ে পুরোনো রাজনৈতিক দল সফলভাবে একটি চেষ্টা করেছিল - বেশ কয়েকটি নির্বাচনে ভরাডুবি হওয়ার পর ঘুরে দাঁড়ানোর প্রচেষ্টা। হিন্দুত্বের হাওয়ার কথা মাথায় রেখে দলের সর্বময় নেতা নির্বাচনী প্রচারে বেশ কয়েকটি মন্দির দর্শনে গিয়েছিলেন। কিন্তু এর পরেও বর্তমান শাসক দল যে দ্বিতীয়বারের জন্য সরকার গঠনের সুযোগ পাবে না তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। কংগ্রেসের মনমোহন সিংকেও তো দু'বার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।
তাই শুধু বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল দেখে ফুরফুরে থাকলে চলবে না। কংগ্রেস নেতাদের এবার তৃণমূল স্তরে ভোটারদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করতে হবে। ভারতের অধিকাংশ ভোটারই ক্রমেই অধৈর্য্য হয়ে পড়ছেন।
কংগ্রেসের সমালোচনা বন্ধ করুক বিজেপি [ছবি: পিটিআই]
উল্টোদিকে, বিজেপিকেও এখন বেশ অনেকগুলো ব্যাপারের উপরে মনোনিবেশ করতে হবে। বিধানসভা নির্বাচনগুলোতে দেখা গিয়েছে প্রতিষ্ঠানবিরোধী ভোটের মুখে দাঁড়িয়ে বিজেপি কর্মীরা কিন্তু ভোটারদের আস্থা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে। বিজেপির ফল আরও খারাপ হত। কিন্তু শেষ মুহূর্তের মরিয়া প্রচার কিছুটা হলেও বিজেপিকে 'বাঁচিয়ে দিয়েছে'। মধ্যপ্রদেশে তো বিজেপি তো প্রাপ্ত ভোটের হারে ০.১ শতাংশ ভোটে এগিয়ে রয়েছে।
হিন্দি বলয়ের তিনটি রাজ্যে ৩-০ ফলাফলে হেরেছে বিজেপি। বিজেপির এখন ভোটারদের চাহিদাগুলোর দিকে নজর দেওয়া উচিত। রামের থেকে 'কাম'-এ (কাজে) বেশি মনোনিবেশ করে বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে প্রকৃত অর্থে 'উন্নয়নের' উপর মনোনিবেশ করা উচিত। বেকারত্ব দূর করার চেষ্টা করার পাশাপাশি বিজেপির উচিত কৃষক তরুণ ও পিছিয়ে পড়া শ্রেণীর লোকেদের উন্নয়নের দিকে নজর দেওয়া।
সবচেয়ে বেশি করে গান্ধী পরিবারের মানহানি বা কংগ্রেসের সমালোচনা বন্ধ করা উচিত। এই কাজটি করতে গিয়ে বিজেপি তাদের ২০১৪ নির্বাচনে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো রক্ষা করতে পারছে না। বিজেপির ক্ষেত্রে এই কাজটি করা সহজ কারণ এখনও ক্ষমতায় আছে বলে তাদের কাছে যে কোনও প্রকল্প রূপায়ণ করা খুব একটা কঠিন হবে না।
২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে জয়ের লক্ষ্য নিয়ে লড়াই করতে নামবে বিজেপি। সে ক্ষেত্রে ৬০ বছর ধরে দেশকে শাসন করা একটি দলের নিন্দা করে যাওয়াটা কোনও কাজের কথা নয়।
লেখাটি পড়ুন ইংরেজিতে

