লক্ষ্য বাংলা দখল, ফের সর্বভারতীয় স্তরে শ্রমিক সংগঠনে জোর দিচ্ছে বিজেপি
ত্রিপুরার পরে বাংলার দিকে নজর দিতেই বিজেপির চোখে পড়েছে, তাদের কোনও শ্রমিক সংগঠন নেই
- Total Shares
বিভিন্ন রাজ্য থেকে রাজ্যস্তরের ৭০০ জন কর্মীকে নিয়ে এপ্রিলের গোড়ায় বিজেপি যে বৈঠক করতে চলেছে, সেখানে নতুন করে দলের শ্রমিক সংগঠনের জোরদার পথচলা একরকম স্থির হয়েই গিয়েছে। ইতিমধ্যে এ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারও শুরু করে দিয়েছে তারা। নিতিন গড়করী বিজেপির সভাপতি থাকার সময় ২০১১ সালের মে মাসে মজদুর মহাসঙ্ঘ গঠন করলেও, গড়করীর জমানা শেষ হওয়ার পরেই তা মিশে যায় ভারতীয় মজদুর সঙ্ঘ বা বিএমএসের সঙ্গে। পশ্চিমবঙ্গও ব্যতিক্রমী ছিল না।
ত্রিপুরার পরে বাংলার দিকে নজর দিতেই বিজেপির চোখে পড়েছে, তাদের কোনও শ্রমিক সংগঠন নেই। তাতে সমস্যা বিস্তর। মূল সমস্যা ভোটব্যাঙ্ক। স্বামী বিএমএস করেন, সাদা চোখে সঙ্ঘ ও বিজেপি একই মুদ্রার দুই পিঠ হলেও স্ত্রীর ভোট পড়ে না পদ্মফুলে। বিজেপির একাংশের ধারনা অন্তত তেমনই। আবার বিজেপির নেতা-কর্মী আক্রান্ত হলে বিএমএস কর্মীরা এসে ঝাঁপিয়ে পড়ছেন উদ্ধারে, এমন উদাহরণও দেখা যাচ্ছে না। তাই দলের শীর্ষ নেতারাও এ নিয়ে ভাবনা-চিন্তা শুরু করেন।
শ্রমমন্ত্রী সন্তোষকুমার গাঙ্গোয়ারের সঙ্গে বৈঠককে বিজেপির শ্রমিক নেতারা
রাহুল সিনহা পশ্চিমবঙ্গে রাজ্য সভাপতি থাকাকালীন অসংগঠিত শ্রমিকদের নিয়ে সংগঠনে জোর দিয়েছিলেন। কিন্তু সিটু, আএনটিইউসি এবং আইএনটিটিইউসি-র মতো কলকারখানায় এমন কোনও শ্রমিক সংগঠন নেই যাদের পতাকায় বিজেপির পদ্মফুল আছে। ২০১৯ সালের কথা মাথায় রেখে এটাই হতে চলেছে বিজেপির অন্যতম পদক্ষেপ। তবে পঞ্চায়েত ভোটে এই ফর্মুলা আদৌ কার্যকরী হবে না।
ভারতীয় জনতা মজদুর ট্রেড ইউনিয়ন কাউন্সিল (বিজেএমটিইউসি) নামে নতুন এই সংগঠনের সর্বভারতীয় সভাপতি হয়েছেন মন্মথনাথ বিশ্বাস এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন অর্ণব চট্টোপাধ্যায়। ইতিমধ্যেই তাঁরা কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রী সন্তোষকুমার গাঙ্গোয়ারের সঙ্গে বৈঠক করে সংগঠনের অনুমোদন পাকা করে ফেলেছেন, যার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এপ্রিলের গোড়ায়। বিজেপি চাইছে, আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষণার দিনই এ রাজ্যে অন্য শ্রমিক ইউনিয়ন থেকে বিজেএমটিইউসি-তে বেশ কয়েক হাজার শ্রমিক যোগ দিক। তাতে প্রচারও হবে পুরোমাত্রায়।
এ বছরের গোড়ায় ৫০০ শ্রমিক নিয়ে নতুন সংগঠন পথচলা শুরু করেছে, তাই খুব একটা পাত্তা পাচ্ছে না মিডিয়ার কাছে, তা ছাড়া এখনও পর্যন্ত বিজেপি বিভিন্ন ভোটে দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও, তৃণমূলের সঙ্গে সংখ্যা ও শতকরা হিসাবে তারা বেশ অনেকটাই পিছনে। এই অবস্থায় পঞ্চায়েত ভোট এবং তার পরে লোকসভা ভোটে ভালো ফল করার কথা মাথায় রেখে সংগঠিত ও অসংগঠিত শ্রমিকদের দলীয় শ্রমিক ইউনিয়নের ছত্রছায়ায় আনা বিজেপির কৌশলগত পদক্ষেপ হতে চলেছে, যা দলের সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ এবং শীর্ষনেতা তথা দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পুরোমাত্রায় সায় ছাড়া সম্ভব নয়।

