রাজ্যসভায় একটি আসন বাড়িয়ে জাতীয় স্তরে লাভ নামমাত্র, রাজ্যে জমি হারাল কংগ্রেস

এই ধারা বজায় থাকলে, প্রচারে মমতার বিরুদ্ধে চাঁছাছোলা হতে পারবেন না সোনিয়া-রাহুলরা

 |  3-minute read |   29-03-2018
  • Total Shares

এ রাজ্য থেকে একটি আসনে জিতে রাজ্যসভায় যৎসামান্য শক্তি বৃদ্ধি করেছে কংগ্রেস। নৈতিক লড়াইয়ে ঝাড়খণ্ড থেকেও তারাই জয়ী হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হল, বাংলা থেকে আসন জিতে আখেরে তারা কতটা লাভ করতে পারল।

গত বছর বিধানসভা নির্বাচনে গোয়া ও মণিপুরে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্তহীনতা ও দীর্ঘসূত্রতার জন্য সরকার গড়তে পারেনি কংগ্রেস। উল্টে মণিপুরে বেশ কয়েকজন কংগ্রেস বিধায়ক পরে দল ছেড়ে শাসকশিবিরে যোগ দিয়েছেন।

এক কথায় দু’দুটো রাজ্যে জিতেও শেষ পর্যন্ত সরকার গড়তে পারেনি, সব শেষে জমি হারাতে হয়েছে কংগ্রেসকে। পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের সমর্থন পাওয়ার পরে কংগ্রেস অবশ্য সংসদে সংখ্যা বাড়ানোর আশায় এ নিয়ে দ্বিতীয়বার ভাবেনি, সিদ্ধান্ত নিতেও দেরি করেনি।

পশ্চিমবঙ্গ থেকে রাজ্যসভায় যেতে হলে একটি আসনে জয়ের জন্য ৪৭টি ভোট দরকার ছিল, সেই হিসাবে তৃণমূল সরাসরি চার জনকে পাঠাতে পারছিল, পাঠিয়েওছে। তার পরেও তাদের হাতে বাড়তি বেশ কয়েকটা (২৫) ভোট ছিল। কংগ্রেসের ৪২টি ও বামফ্রন্টের ৩২টি ভোট থাকায় তাদের একার পক্ষে কাউকে জিতিয়ে রাজ্যসভায় পাঠানো সম্ভব হচ্ছিল না। এই অবস্থায় পঞ্চম আসনে ভোটাভুটি নিশ্চিতই ছিল। জয়ের জন্য কংগ্রেসের মাত্র সাতটি ভোট দরকার ছিল। না হলেও, পঞ্চম আসনে এগিয়ে ছিল তারাই। এই অবস্থায় অভিষেক মনু সিংভিকে সমর্থন করে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাতে কংগ্রেসের জয় যেমন পাকা হয়ে যায়, তেমন আগামী লোকসভা ভোটে মমতার বিরুদ্ধে কংগ্রেসের আক্রমণের ধারও ভোঁতা হয়ে যায়। তার অবশ্য দেরি আছে, সামনে পঞ্চায়েত ভোট।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই ইঙ্গিত দিয়ে দিয়েছেন যে রাজ্যে ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত ভোট হবে নির্ধারিত সময়ে, অর্থাৎ জুলাই-অগস্ট মাসে। রাজ্যে এখন খাতায়কলমে প্রধান বিরোধীদল কংগ্রেস এবং তার ঠিক পরেই সিপিএম। তৃণমূলের সমর্থন নিয়ে রাজ্যসভায় আসন বাড়ানো কংগ্রেস এখনই মমতার বিরুদ্ধে সুর চড়াতে পারবে না।

body_032918013631.jpgঅভিষেক মনু সিংভিকে সমর্থন করে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

পঞ্চায়েত ভোটে শেষ পর্যন্ত হয়ত বাম-কংগ্রেস পুরোপুরি সমঝোতা হবে না। কিন্তু যেখানে বামফ্রন্ট প্রার্থী দিতে পারবে না বা নাম-কা-ওয়াস্তে প্রার্থী দেবে, সেখানে ঘুরিয়ে কংগ্রেসকে সমর্থনের কথা আগের মতোই বলে দিতে পারে সিপিএম। অর্থাৎ কংগ্রেসের অবস্থাটা রাজ্যে এই রকম দাঁড়াল, তারা দরকার মতো কখনও তৃণমূলের আবার কখনও সিপিএমের সহায়তা নেয়। তাতে ভোটের প্রচারে নীতি নিয়ে কংগ্রেসকে কাঠগড়ায় তুলতে পারে বিজেপি। কংগ্রেসের পক্ষে তখন জুতসই জবাব দেওয়া মুশকিল হবে।

সাম্প্রতিক সবক’টি উপনির্বাচনের ফলে দেখা যাচ্ছে, বিজেপি ভোট বাড়াতে বাড়াতে নিজেকে দ্বিতীয় স্থানে নিয়ে চলে এসেছে। আগামী বছর লোকসভা ভোটে তারা সর্বত্র দ্বিতীয় স্থানে থাকার বদলে কয়েকটা আসন জিতে নিতে চাইছে। পঞ্চায়েত ভোটেও যে তারা সবক’টি আসনে তৃণমূলের বিরুদ্ধে টক্কর দিতে প্রস্তুত, সে কথাও আগাম জানিয়ে রেখেছে বিজেপি। কে চন্দ্রশেখর রাওয়ের প্রস্তাবিত ফেডেরাল ফ্রন্টের ভবিষ্যৎ যাই হোক, এ রাজ্যে লড়াই যে চতুর্মুখী (তৃণমূল-বিজেপি-সিপিএম-কংগ্রেস) হচ্ছেই, তা একরম বলাই যায়।

দক্ষিণবঙ্গে প্রদেশকংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীর গড় মুর্শিদাবাদে ইতিমধ্যেই ভোট ভেঙেছে তৃণমূল। সেই গড় অধীর হয়ত কিছু রক্ষা করতে পারবেন, কিন্তু উত্তরবঙ্গে বিজেপি শক্তি বাড়ানোয় তারা কী করবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকছে। আর ২০১৯ সাল পর্যন্ত এই ধারায় রাজনীতি বইতে থাকলে, তৃণমূলের থেকে সুবিধা নিয়ে সংসদের এক কক্ষে শক্তি বাড়িয়ে, অন্যকক্ষে ভোটের আগে এ রাজ্যে রাহুল-সনিয়ারা এসে মমতার বিরুদ্ধে চাঁছাছোলা হবেন, এমনটা বোধহয় প্রদেশকংগ্রেসও আশা করবে না।

অর্থাৎ, সংসদে একটা আসন বাড়াতে গিয়ে এ রাজ্যে পরবর্তী লোকসভা ভোটে ৪২টি আসনে প্রচারের ঝাঁঝ কমিয়ে ফেলল কংগ্রেস। আর প্রধান বিরোধীর আসনে বসা দলের পক্ষে সরকারি দলের ভোট নিয়ে জেতায় নৈতিক জয় কতটা হল তা নিয়ে তো প্রশ্নের অবকাশ থেকেই যায়।

If you have a story that looks suspicious, please share with us at factcheck@intoday.com or send us a message on the WhatsApp number 73 7000 7000

Writer

SUMITRO BANDHYOPADHYAY
Comment