ব্যক্তির কাছে শেষ পর্যন্ত মাথা নোয়াল দল, সোমনাথের কাছে হারল সিপিএম

সোমনাথ ব্যতিক্রম নাকি এমনটাই হয়েছে অন্যদের ক্ষেত্রেও?

 |  3-minute read |   14-08-2018
  • Total Shares

স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে সংসদের অধ্যক্ষ কত জন হয়েছেন? এক কথায় উত্তর দেওয়া মুশকিল। কিন্তু সংসদের ইতিহাস নয়, দেশের সাধারণ মানুষ যে সব সাংসদকে দীর্ঘদিন মনে রাখবে, তেমন একজন হলেন সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়। তাই দল থেকে বহিষ্কৃত নেতাকে শ্রদ্ধা জানাতে এলেন এক সময়ের সহকর্মীরা। মালা দিলেন অপমানিত হওয়ার পরেও। এখানেই জয়ী সোমনাথ।

কিন্তু যাঁর জন্য তাঁর দল শোকবার্তা জানানোর সময়ে কমরেড শব্দটি পর্যন্ত লিখল না? তাঁকে নিয়ে খুব একটা লেখালেখি হল না কোথাও। আগে লেখালিখি হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে, তাঁর নাকি একটি পঞ্চায়েত ভোট জয়ের ক্ষমতাও নেই!

একটি ছবি দেওয়ার সৌজন্যও দেখায়নি এক সময় যে দলের তিনি সদস্য ছিলেন এবং দশ বারের সাংসদের। কমরেড বলে উল্লেখ না করলেও ছবিটি অবশ্য দিয়েছে রাজ্য সিপিএম।

খবরে প্রকাশ, সীতারাম ইয়েচুরি চাপ দিয়েছিলেন দলকে, যাতে সম্মানজনক কথা লেখা হয় লোকসভার প্রয়াত অধ্যক্ষ সম্বন্ধে। দল লিখেছে, কিন্তু কোথাও তাঁকে নিজের দলের বলে সম্বোধন করেননি। ইয়েচুরি নিজে এসেছিলেন কলকাতায়, প্রয়াত নেতাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে।

body3_081418090731.jpgসোমনাথ চট্টোপাধ্যায়কে শেষ শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন সিপিএম সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি (ছবি: সুবীর হালদার)

বাংলা থেকে কেরল, সিপিএম দলের কোনও নেতাই এ দিন বহিষ্কৃত নেতা সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়কে কমরেড বলে বা এক সময় তাঁদের দলে ছিলেন বলে উল্লেখ করেননি। বড়জোর তাঁর ক্ষেত্রে মনেপ্রাণে বামপন্থী বলে ধরি মাছ না ছুঁই পানি ধরনের অবস্থান গ্রহণ করেছেন কেউ।  

সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়ের পরিবার রাজি হননি তাঁর দেহ রাজ্য সিপিএমের সদর দপ্তর আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে নিয়ে যেতে, তাঁর দেহ সিপিএেমর লাল পতাকায় মুড়ে দিতে। সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়কে তাঁর দল যে ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছিল, তাঁর পরিবারও একই ভাবে প্রত্যাখান করল সেই দলকে। খবরে প্রকাশ, বামফ্রন্ট সভাপতিকে স্বাগত জানায়নি প্রয়াত সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়ের পরিবার, উল্টে তাঁর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়ের পুত্র।

body1_081418090749.jpgসোমনাথ চট্টোপাধ্যায়কে শেষ শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন বিমান বসু (সুবীর হালদার)

পরে বিমান বসু বলেন যে, এই রকম শোকের সময় মাথার ঠিক থাকে না। আচ্ছা, যাঁর জন্য জ্যোতি বসু প্রধানমন্ত্রী হতে পারেননি, সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়ের মতো ব্যক্তি দল থেকে বহিষ্কৃত হন এবং মৃত্যুর পরেও কমরেড শব্দটি দল লিখতে পারে না, তাংর মস্তিস্ক নিয়ে কখনও প্রশ্ন তুলেছেন বিমান বসু?

শুনেছি রাশিয়া কখনও ইতিহাস মুখে ফেলে না। এখনও সেখানে রয়েছে জারের নথি, যে জার বা সম্রাটের পতন ঘটিয়েই নতুন শাসনতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল লেনিনের হাত ধরে। এ দেশের কমিউনিস্ট নেতারা রাশিয়ার নেতাদের মানেন। তাঁদের সংস্কৃতি কতদূর মেনে চলেন তা নিয়ে সন্দেহের অবকাশ তৈরি করে দিলেন। কার্ল মার্ক্সের জন্মভূমি জার্মানির ট্রিয়ারে তাঁর ২০০ বছর উপলক্ষে মূর্তির আবরণ উন্মোচন হয়েছে। তা হলে এ দেশের কমিউনিস্টরা এত ভুলে যান কী করে?

ওঁরা ভুলেই যান। ১৯৮৭ সালে মনে ছিল মানবেন্দ্রনাথ রায়ের কথা? কিংবা ২০১২ সালে? তাঁর জন্ম শতবর্ষ কিংবা জন্মের ১২৫ বছরে? কে জানে এই নেতাদের প্রতি উদাসীনতা তাঁদের সমর্থকদের উপরেও চেপে বসছে কিনা!

If you have a story that looks suspicious, please share with us at factcheck@intoday.com or send us a message on the WhatsApp number 73 7000 7000

Writer

SUMITRO BANDYOPADHYAY
Comment