অটলবিহারী বাজপেয়ী: তিনি কেন আধুনিক ভারতের রূপকার
টেলিযোগাযোগ, সড়ক যোগাযোগ, বিনামূল্যে প্রাথমিকে শিক্ষা থেকে পোখরান, কার্গিল জয়...
- Total Shares
হাওড়ার উদয়নারায়ণ পুরে আমাদের গ্রামের বাড়িতে তখনও বিদ্যুৎ আসতে অন্তত পাঁচ বছর দেরি। বাড়িতে চলে এল টেলিফোন লাইন। ট্রাঙ্ক বুক করে যেখানে সারা দিন অপেক্ষা করে যেতে হত, জরুরি খবর দিতে হলে যেখানে প্রায় ৫০ কিলোমিটার পাড়ি দিতে হত ভাঙাচোরা রাস্তা দিয়ে, সেখানে টেলিফোন! গ্রামের মানুষ নাম করেছিলেন তখন টেলিযোগাযোগের প্রতিমন্ত্রী তপন শিকদারের। আসল কথা হল, ভারতের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির নেপথ্যেও ছিলেন বাজপেয়ীই তা সে টেলি-যোগাযোগ ব্যবস্থা সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হোক বা সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি। স্বর্ণ চতুষ্কোণ প্রকল্প তাঁর জমানারই। টেলি যোগাযোগের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী গ্রামসড়ক যোজনাও তাঁরই ভাবনার ফল।
সংসদের ভিতরে ও বাইরে সুবক্তা ছিলেন বাজপেয়ী
বাজপেয়ীর জমানায় সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনা হল কারগিলের সংঘর্ষ জয়ী হওয়া এবং সফল ভাবে পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা করা। ১৯৯৮ সালে পরপর পাঁচটি পরীক্ষামূলক পরমাণু বিস্ফোরণ ঘটায় ভারত। তারপর সংসদে বাজপেয়ী সওয়াল করেন নিরাপত্তা নিয়ে দেশের আত্মনির্ভরতার প্রয়োজন নিয়ে।
উনি পাকিস্তানে গিয়ে ভোটে দাঁড়ালে সেখানেও জিতবেন। অটলবিহারী বাজপেয়ীর সম্বন্ধে এটাই ছিল এক কথায় পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের মূল্যায়ন। তিনটি রাজ্যের চারটি লোকসভা কেন্দ্র থেকে তিনি দশ বার জয়ী হয়েছেন। ভারতীয় জনসঙ্ঘ ও বিজেপির হয়ে ভোটে লড়ে জয়ী হয়েছেন মুসলমান-প্রধান লখনৌ বিধানসভা কেন্দ্র থেকে। প্রথম জনতা সরকারের সময়ে তিনি বিদেশমন্ত্রীও ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী।
पूर्व प्रधानमंत्री व भारतीय राजनीति की महान विभूति श्री अटल बिहारी वाजपेयी के देहावसान से मुझे बहुत दुख हुआ है। विलक्षण नेतृत्व, दूरदर्शिता तथा अद्भुत भाषण उन्हें एक विशाल व्यक्तित्व प्रदान करते थे।उनका विराट व स्नेहिल व्यक्तित्व हमारी स्मृतियों में बसा रहेगा—राष्ट्रपति कोविन्द
— President of India (@rashtrapatibhvn) August 16, 2018
End Of An Era, A Leader With No Enemies.We Lost A Great Son Of Mother India.Bharat Ratna Shri #AtalBihariVaajpayee Ji.
— Narendra Modi (@narendramodi177) August 16, 2018
Today India lost a great son. Former PM, Atal Bihari Vajpayee ji, was loved and respected by millions. My condolences to his family & all his admirers. We will miss him. #AtalBihariVajpayee
— Rahul Gandhi (@RahulGandhi) August 16, 2018
ধীর-স্থির বাজপেয়ী তিন বার দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলেছেন, যদিও প্রথমবার মাত্র দু-সপ্তাহেরর জন্য। সে বার সংসদে আস্থা ভোটে পরাজয়ের পরে কেঁদে ফেলেছিলেন বাজপেয়ী। বছর দেড়েক পরে আবার ভোট, আবার প্রধানমন্ত্রী হলেন বাজপেয়ী। কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠতাহীন সেই সরকারেরও পতন ঘটে, মাত্র ১ ভোটে, এডিএমকে সমর্থন তুলে নেওয়ায়। তার পরের বারে অবশ্য টানা পাঁচ বছর প্রধানমন্ত্রী ছিলেন বাজপেয়ী। তিনিই প্রথম অকংগ্রসী প্রধানমন্ত্রী যিনি পুরো পাঁচ বছরের মেয়াদ সম্পূর্ণ করতে পেরেছিলেন।
প্রথম অকংগ্রেসি প্রধানমন্ত্রী যিনি পুরো পাঁচ বছরের মেয়াদ সম্পূর্ণ করেন
মাত্র দুটি আসন থেকে সরকার গড়ার অবস্থায় দলতে নিয়ে যাওরা কারিগর ছিলেন লালকৃষ্ণ আডবাণী। তিনি ছিলেন বাজপেয়ী সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও উপপ্রধানমন্ত্রী।
ব্রিটিশ শাসনের বিরোধিতা করে জেল খেটেছেন বাজপেয়ী, তবে সেই যুগেও জেল খেটেছিলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের হয়ে। পরে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সংস্পর্শে আসেন এবং ভারতীয় জন সঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন। কাশ্মীরে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পরে ১৯৫৭ সালে নির্বাচনে জয়ী হয়ে সংসদে প্রবেশ করেন।
Deeply saddened at the passing away of Shri Atal Bihari Vajpayee. A reasoned critique in opposition and a seeker of consensus as PM, Atal Ji was a democrat to the core. In his passing away, India has lost a great son and an era has come to an end. My deepest condolences.
— Pranab Mukherjee (@CitiznMukherjee) August 16, 2018
জনতা সরকারের বিদেশমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলানো অটলবিহারী বাজপেয়ীর সময়ে ভারতের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কেরও উন্নতি হয়েছিল। ভারতের চন্দ্রাভিয়ানের সূচনা, দিল্লিতে মেট্রোরেলের সূচনা এবং দেশের প্রধান চার শহরের মধ্যে সড়ক যোগাযোগের উন্নতি হয়েছিল তাঁর সময়েই। ভারতের জাতীয় উৎপাদন সূচক তাঁর সময়ে যে ঊর্ধ্বমখী হতে শুরু করে, তা বেশ কিছুদিন বজায় ছিল। প্রাথমিক স্তরে বিনামূল্যে শিক্ষাপ্রদানও ছিল বাজপেয়ীরই ভাবনার ফসল।
অটলবিহারী বাজপেয়ী ও লালকৃষ্ণ আডবাণী
সাফল্যের পাশাপাশি ব্যর্থতাও ছিল। তাঁর সময়ে মুশারফের সঙ্গে সাড়া জাগানো আগ্রা বৈঠক শেষ পর্যন্ত কাশ্মীর সমস্যা মেটাতে পারেনি। তবে তাঁর সময়ে সমোঝোতা এক্সপ্রেস চালু হয় ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে। আবার সংসদে আক্রমণের ঘটনাও ঘটে তাঁরই জমানায়।

