পঞ্চায়েতে বোর্ড গঠন: রাজ্যের এখন লড়াই তৃণমূল বনাম তৃণমূলে
পঞ্চায়েতস্তরে জনপ্রতিনিধি কেনাবেচা চলছে, এর মূলে তৃণমূল
- Total Shares
পঞ্চায়েত নির্বাচন নিয়ে এখন যা পরিস্থিতি তাতে গণতান্ত্রিক পদ্ধতি শুধু বিঘ্নিত হচ্ছে না, চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে। সংসদীয় গণতন্ত্র যে দেশের মূল ভিত্তি সেই দেশের প্রেক্ষিতে কাছে এ এক ভয়ঙ্কর ব্যাপার। আদালতের রায়ে যা দাঁড়াচ্ছে, তা হল রাষ্ট্র সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করবে। আর এখন রাজ্যে বোর্ড গঠনের সময়েও হিংসা দেখা দিচ্ছে।
ইতিহাসে দেখুন, হিটলার ও মুসলিনিও প্রথমে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতেই নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরে যখন গণতান্ত্রিক অধিকার তাঁরা সঙ্কুচিত করে দিচ্ছেন তন বিচারবিভাগ তাঁদের সাহায্য করছে। এখানে প্রাদেশিক সরকারের ক্ষেত্রে সেটাই হচ্ছে। তারা যা চাইছে, তাতেই মোহর দেওয়া হয়েছে। তা হলে আমরা কোথায় প্রতিকার পাব?
এই খণ্ডচিত্র গুলোই তৃণমূলের শাসনে বাংলার তথাকথিত 'অবাধ ও শান্তিপূর্ণ' পঞ্চায়েত নির্বাচনের মুখোশ উন্মোচন করে দেয়। সুপ্রিম কোর্টের যে রায় মমতা ব্যানার্জির প্রশান্তির কারণ হয়েছে, তা গণতন্ত্রের পক্ষে বিপজ্জনক হলো কি? লুম্পেনদের আরও দুঃশাসন হয়ে ওঠায় উৎসাহিত করল কি? pic.twitter.com/41FtXyivIw
— CPI(M) WEST BENGAL (@CPIM_WESTBENGAL) August 25, 2018
আদালতের জয়ে এখন তৃণমূল কংগ্রেস উচ্ছ্বসিত। তাঁরা এখন বলছেন যে হাঁটুগেড়ে ক্ষমা চাইতে হবে। কিন্তু এর পরিণতি কী? গণতান্ত্রিক পদ্ধতি একবার আক্রান্ত হতে শুরু করলে সকলের অধিকার হৃত হয়। আর এরই পরিণতি হল মেখলিগঞ্জ, রায়গঞ্জ, মাথাভাঙা, নারায়ণগড়, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪পরগনা সর্বত্র হিংসা—পুলিশ নিরাপত্তা দিতে পারছে না। পুলিশকে ঠুঁটো জগন্নাথ করে রেখেছিল।
ইসলামপুরে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর লড়াইয়ে বোমা-পিস্তল নিয়ে সংঘর্ষে দুই গোষ্ঠীর লড়াইয়ে মৃত্যু হয়েছে। বাঁকুড়ার পাত্রসায়রে তৃণমূলের অফিসে মজুত করা বোমা ফেটে তিন জন আহত হয়েছেন। বিরোধীদের সঙ্গে নয়, এখন তৃণমূলকর্মীদের মৃত্যু হচ্ছে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে।
রাজ্যের গ্রাম পঞ্চায়েত বোর্ড গঠন নিয়ে হয় বিরোধীদের সঙ্গে নয় গোষ্টিদ্বন্দ্বে লিপ্ত হচ্ছে তৃনমূল। সোমবার মালদহ জেলার মানিকচকের গোপালপুরে বোর্ড গঠন নিয়ে অশান্ত হয়ে ওঠে এালাকা। চলে বোমা, গুলি। নিহত হয় দুজন, আহত হয়। তৃণমূলের শাসনে তৃণমূল কর্মীরাই নিরাপদ নয়। #TMCJungleRaj pic.twitter.com/4GCBD1fiv0
— CPI(M) WEST BENGAL (@CPIM_WESTBENGAL) August 28, 2018
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় পঞ্চায়েতের জয় নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায় বেরোতে না বেরোতেই তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা সি পি আই (এম)-র জেতা গ্রাম পঞ্চায়েতেরও দখল নিতে নেমে পড়েছে। বাংলায় পঞ্চায়েত নির্বাচনের নামে প্রহসনের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে গতকাল থেকেই।দলদাস পুলিশ নীরব দর্শক। pic.twitter.com/TFx8ee5qmI
— CPI(M) WEST BENGAL (@CPIM_WESTBENGAL) August 25, 2018
উত্তর দিনাজপুর জেলার ইসলামপুরে গ্রাম পঞ্চায়েতের বোর্ড গঠনকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেসের এর দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সকাল থেকে বোমা, পিস্তল নিয়ে মারপিটে মৃত ১। আহত বেশ কয়েকজন। পুলিশ নীরব দর্শক। @AITCofficial-র রাজত্বে খোদ তৃণমূল কর্মীরাও এই বাংলায় নিরাপদ নয়। #TMCJungleRaj pic.twitter.com/6KKjtTCOZS
— CPI(M) WEST BENGAL (@CPIM_WESTBENGAL) August 25, 2018
এখন তৃণমূলের সঙ্গে তৃণমূলের লড়াই বাধছে। ভোটের আগেও তাই হয়েছিল। পঞ্চায়েত ভোটের সময় ৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে, তাতে যদি সবচেয়ে বেশি কোনও দলের ক্ষতি হয়ে থাকে, তা হলে সেই দলের নাম তৃণমূল কংগ্রেস, তাদের অভ্যন্তরীণ লড়াইয়ে এর ফলে এটা ঘটেছে।
এখন আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়িতে কী হয়েছে? আমাদের সামান্য কয়েকটি আসন, সেখানে আমাদের বোর্ড গড়তে দিচ্ছে না। উত্তর ২৪ পরগনার ২টো পঞ্চায়েত আমরা জিতেছি। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধরা সাত দিন ধরে বাড়ি থাকতে পারছে না, গুন্ডাদের সঙ্গে নিয়ে গিয়ে পুলিশ বাড়ি ভেঙে দিচ্ছে।
পুলিশী জুলুম ও শাসক @AITCofficial-র জবরদখলের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে নকশালবাড়ি পঞ্চায়েতে বামফ্রন্টের প্রতি আস্থা জ্ঞাপনের জন্য, জনগণ কে অভিনন্দন জানিয়ে, মহামান্য কোলকাতা হাইকোর্টের রায় কে স্বাগত জানিয়ে গতকাল নকশালবাড়িতে দার্জিলিং জেলা বামফ্রন্টের দৃপ্ত মিছিল। #WestBengal pic.twitter.com/Oe4wVcZTUE
— CPI(M) WEST BENGAL (@CPIM_WESTBENGAL) August 27, 2018
ইতিমধ্যে তৃণমূল হারতেও শুরু করেছে গোষ্ঠীকোন্দলের ফলে, কারণ তৃণমূলের লোকই বিজেপিকে সমর্থন করে দিয়েছে। তৃণমূলের টাকা আছে, তারা বামপন্থীদের কিনে নিচ্ছে, বিজেপির টাকা আছে তাই তারা তৃণমূলকে কিনে নিচ্ছে। ২০১৩ সালে তৃণমূলই এই পথ দেখিয়েছিল। ৩জন সদস্য নিয়ে ১৮ আসনের বোর্ড দখল করেছিল। এখন ৭ জন নিয়েও সেই বোর্ড গড়তে পারছে না, বিজেপির জন্য।
প্রথমে মনোনয়ন দিতে দেয়নি, তারপরে ভোট দিতে দেয়নি, এমনকি গণনার সময়েও ফল বদলে দিয়েছে। আমাদের ক্ষেত্রেই দু’জায়গায় এমন হয়েছে। জয়ী প্রার্থী শংসাপত্র আনতে গিয়ে দেখছেন ফল বদলে গেছে। ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া তো দেখিয়েছে ভোট গণনার দিনও ছাপ্পা হচ্ছে। নন্দকুমারেও জোর করে জিতেছে, গণনার সময়ে নতুন করে ব্যালট দেওয়া হয়েছে। ব্যালটের অ্যাকাউন্ট মেলাতে পারবে না।

