পঞ্চায়েতে বোর্ড গঠন: রাজ্যের এখন লড়াই তৃণমূল বনাম তৃণমূলে

পঞ্চায়েতস্তরে জনপ্রতিনিধি কেনাবেচা চলছে, এর মূলে তৃণমূল

 |  3-minute read |   28-08-2018
  • Total Shares

পঞ্চায়েত নির্বাচন নিয়ে এখন যা পরিস্থিতি তাতে গণতান্ত্রিক পদ্ধতি শুধু বিঘ্নিত হচ্ছে না, চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে। সংসদীয় গণতন্ত্র যে দেশের মূল ভিত্তি সেই দেশের প্রেক্ষিতে কাছে এ এক ভয়ঙ্কর ব্যাপার। আদালতের রায়ে যা দাঁড়াচ্ছে, তা হল রাষ্ট্র সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করবে। আর এখন রাজ্যে বোর্ড গঠনের সময়েও হিংসা দেখা দিচ্ছে।

ইতিহাসে দেখুন, হিটলার ও মুসলিনিও প্রথমে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতেই নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরে যখন গণতান্ত্রিক অধিকার তাঁরা সঙ্কুচিত করে দিচ্ছেন তন বিচারবিভাগ তাঁদের সাহায্য করছে। এখানে প্রাদেশিক সরকারের ক্ষেত্রে সেটাই হচ্ছে। তারা যা চাইছে, তাতেই মোহর দেওয়া হয়েছে। তা হলে আমরা কোথায় প্রতিকার পাব?

আদালতের জয়ে এখন তৃণমূল কংগ্রেস উচ্ছ্বসিত। তাঁরা এখন বলছেন যে হাঁটুগেড়ে ক্ষমা চাইতে হবে। কিন্তু এর পরিণতি কী? গণতান্ত্রিক পদ্ধতি একবার আক্রান্ত হতে শুরু করলে সকলের অধিকার হৃত হয়। আর এরই পরিণতি হল মেখলিগঞ্জ, রায়গঞ্জ, মাথাভাঙা, নারায়ণগড়, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪পরগনা সর্বত্র হিংসা—পুলিশ নিরাপত্তা দিতে পারছে না। পুলিশকে ঠুঁটো জগন্নাথ করে রেখেছিল।

ইসলামপুরে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর লড়াইয়ে বোমা-পিস্তল নিয়ে সংঘর্ষে দুই গোষ্ঠীর লড়াইয়ে মৃত্যু হয়েছে। বাঁকুড়ার পাত্রসায়রে তৃণমূলের অফিসে মজুত করা বোমা ফেটে তিন জন আহত হয়েছেন। বিরোধীদের সঙ্গে নয়, এখন তৃণমূলকর্মীদের মৃত্যু হচ্ছে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে।

এখন তৃণমূলের সঙ্গে তৃণমূলের লড়াই বাধছে। ভোটের আগেও তাই হয়েছিল। পঞ্চায়েত ভোটের সময় ৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে, তাতে যদি সবচেয়ে বেশি কোনও দলের ক্ষতি হয়ে থাকে, তা হলে সেই দলের নাম তৃণমূল কংগ্রেস, তাদের অভ্যন্তরীণ লড়াইয়ে এর ফলে এটা ঘটেছে।

এখন আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়িতে কী হয়েছে? আমাদের সামান্য কয়েকটি আসন, সেখানে আমাদের বোর্ড গড়তে দিচ্ছে না। উত্তর ২৪ পরগনার ২টো পঞ্চায়েত আমরা জিতেছি। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধরা সাত দিন ধরে বাড়ি থাকতে পারছে না, গুন্ডাদের সঙ্গে নিয়ে গিয়ে পুলিশ বাড়ি ভেঙে দিচ্ছে।

ইতিমধ্যে তৃণমূল হারতেও শুরু করেছে গোষ্ঠীকোন্দলের ফলে, কারণ তৃণমূলের লোকই বিজেপিকে সমর্থন করে দিয়েছে। তৃণমূলের টাকা আছে, তারা বামপন্থীদের কিনে নিচ্ছে, বিজেপির টাকা আছে তাই তারা তৃণমূলকে কিনে নিচ্ছে। ২০১৩ সালে তৃণমূলই এই পথ দেখিয়েছিল। ৩জন সদস্য নিয়ে ১৮ আসনের বোর্ড দখল করেছিল। এখন ৭ জন নিয়েও সেই বোর্ড গড়তে পারছে না, বিজেপির জন্য।

প্রথমে মনোনয়ন দিতে দেয়নি, তারপরে ভোট দিতে দেয়নি, এমনকি গণনার সময়েও ফল বদলে দিয়েছে। আমাদের ক্ষেত্রেই দু’জায়গায় এমন হয়েছে। জয়ী প্রার্থী শংসাপত্র আনতে গিয়ে দেখছেন ফল বদলে গেছে। ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া তো দেখিয়েছে ভোট গণনার দিনও ছাপ্পা হচ্ছে। নন্দকুমারেও জোর করে জিতেছে, গণনার সময়ে নতুন করে ব্যালট দেওয়া হয়েছে। ব্যালটের অ্যাকাউন্ট মেলাতে পারবে না।

If you have a story that looks suspicious, please share with us at factcheck@intoday.com or send us a message on the WhatsApp number 73 7000 7000

Writer

RABIN DEB RABIN DEB

Member, CPI(M) State Secretariat

Comment