চার বছরে মোদী: কংগ্রেস ভাবধারার বদল হল কিনা সেটাই বিচার্য
পরিসংখ্যান ও প্রকল্প দিয়ে সরকারের সাফল্য-ব্যর্থতা বিচার করা মূর্খামি
- Total Shares
মোগল সাম্রাজ্যের পতনের কারণ কী? আজকের ইতিহাস পড়ুয়াদের এটা একটা অবশ্যপাঠ্য বিষয়। তিনশো বছর বাদে নিশ্চিত ভাবে আরও একটি অধ্যায়ের সংযোজন হবে: অটলবিহারী বাজপেয়ী সরকারের পতনের কারণ কী। ঘটনার ১৫ বছর পরেও আপামর ভারতবাসীর অনুশোচনা, কেন বাজপেয়ী সরকারের বিরুদ্ধে তাঁরা ভোট দিয়েছিলেন। মানুষ কাকে এবং কেন ভোট দেয়, এর সঠিক ব্যাখ্যা কেউ দাবি করতে পারবে না।
দেশজুড়ে ফিলগুড ফ্যাক্টরের মধ্যেও হারতে হয়েছিল বাজপেয়ী সরকারকে
চারি দিকে আলোচনা মোদী সরকারের চার বছর নিয়ে। চলছে কাটা-ছেঁড়া। কোথাও পাস, কোথাও ফেল। এখন থেকেই নিদান হাঁকা হচ্ছে জয় বা পরাজয়ের। সব হিসাব যদি ঠিকঠাক হত, তা হলে ঝাড়গ্রাম এলাকায় বিজেপির উত্থান ঘটল কী করে? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বপ্নের ২ টাকা কিলো চাল মুখ থুবড়ে পড়েছে। সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে একটা অন্যতম চালিকাশক্তি পরিসংখ্যান। আর এই পরিসংখ্যানকে বলা হয় ‘সর্বৈব মিথ্যা’। তাই পরিসংখ্যান দিয়ে ভোট হয় না। সাফল্য-ব্যর্থতার খতিয়ান দিয়েও হয় না। বিশেষ করে ৬০ বছরের কংগ্রেস শাসনের অবসান ঘটিয়ে যখন একটা বিপরীতধর্মী দল নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় সরকার পরিচালনা করছে।
মোদী সরকারের চার বছরের মূল্যায়ন কোনও পরিসংখ্যানের কোনও পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে করতে যাওয়াটা মূর্খামি। হিন্দুত্বই ভারতীয়ত্ব, এই তত্ত্বকে সামনে রেখে গত ১০০ বছর ধরে যে লড়াই আরএসএস করে এসেছে, তার একটা স্ফূরণ ঘটেছে ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচন। নরেন্দ্র মোদী একটা নিমিত্ত মাত্র।
পেট্রলের দাম ও প্রকল্প দিয়ে মোদী সরকারের বিচার করা ঠিক নয়
অভিজ্ঞরা বলেন, প্রমোদ মহাজন জীবিত থাকলে সরকারের কাণ্ডারী মোদী না হয়ে মহাজনই হতেন। কমিউনিস্ট প্রভাবে প্রভাবিত কংগ্রেসি শাসনব্যবস্থা যে ছয় দশক ধরে ভারতে একটা নির্দিষ্ট ভাবধারার অভ্যাস তৈরি করেছে, মোদী সরকার তার উল্টো পথে যাবে এটাই স্বাভাবিক। ঘরানার বদল। ১০০ বছর ধরে একটা ঘরানা তৈরি করে এসেছে আরএসএস এবং তার সহযোগী সংগঠনগুলি। দেশের মানুষ দুটি ঘরানায় বিভক্ত। সেখানে পেট্রলের দাম, ২ টাকা কিলো চাল, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, উজ্জ্বলা যোজনা, এ সবের কোনও মূল্য নেই।
গেল গেল রব উঠেছে, দেশে অসহিষ্ণুতার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বাস্তব হচ্ছে, অবদমিত অসহিষ্ণুতার বহিঃপ্রকাশ ঘটছে। এটা অবশ্যই কাম্য নয়। কিন্তু যদি সমস্যাগুলির মূলে যেতে হয়, তা হলে খতিয়ে দেখতে হবে এই অহিষ্যুতা কেন এবং কোথা থেকে পুঞ্জীভূত হয়েছে। প্রতিটি উন্নত দেশের একটি জাতীয় চরিত্র আছে। ভারতে বিবিধের মাঝে ছয় দশক ধরে কোনও জাতীয় চরিত্র তৈরি করতে পারেনি কংগ্রেস।
পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ক্রিকেট খেলাতেও সারা ভারত এক সুরে ভারত মাতা কি জয় বলে না। এটা কংগ্রেসি আর কমিউনিস্ট ঘরানার ব্যর্থতা। ২০১৪ সালে মোদীকে ভরতবাসীর সমর্থন ২টাকা কিলো চাল পাওয়ার জন্য নয়, একটা পৃথক ভাবনা, একটা পৃথক দর্শন, একটা আদর্শকে চোখে দেখে নেওয়ার জন্য। ২০১৯ সালে ভোট দাতারা ভোটকেন্দ্রে যাবেন এক ভাবনাকে মাথায় রেখে, মোদী যদি সেই ভাবনার সঙ্গে একাত্ম হতে পারেন তা হলে তিনি পারবেন, না হলে পতন ঘটবে।
পেট্রলের দাম আগেও বেড়েছে, নিত্যনতুন প্রকল্প আগেও এসেছে। সেই সব প্রকল্পের সাফল্য-ব্যর্থতা নিয়ে আগেও বিতর্ক হয়েছে। কিন্তু মোদীর চার বছরের এক মাত্র প্রতিপাদ্য বিষয়, তিনি কি ঘরানার বদল আনতে পারলেন।

