শিয়রে ভোট, এখন কী অঙ্ক নিয়ে ব্যস্ত রাজনৈতিক নেতারা?
বিরোধী ঐক্যে কী ভাবে ফাটল ধরাচ্ছে বিজেপি, কংগ্রেসের সমস্যা কী
- Total Shares
১৯৭৭ সালের লোকসভা নির্বাচন অথবা ২০০১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন অথবা এই রকম অনেক রাজ্যের অথবা অনেক স্তরের নির্বাচন বার বার প্রমাণ করেছে যে ভারতের গণতন্ত্রের শিকড় অনেক গভীরে।
ভোট কারচুপির অভিযোগ যতই হোক না কেন, মানুষ যখন যাকে চেয়েছে তাকেই নির্বাচিত করেছে। এই বিতর্কে ভোট মেশিন অথবা ব্যালট পেপার—এ সবের কোনও মূল্য নেই। ভারতের গণতন্ত্রের প্রতি একদল মানুষের চূড়ান্ত হতাশা থাকলেও এই নির্বাচনী গণতন্ত্র বার বার প্রমাণ করেছে মানুষই শেষ কথা।
দিল্লিতে কেন্দ্রীয় পদাধিকারীদের ব্যস্ত অমিত শাহ (নিজস্ব চিত্র)
আবার নির্বাচন আসন্ন, বহু কাটা-ছেঁড়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। তথাকথিত বিশেষজ্ঞরা নিজের নিজের পছন্দ মতো অঙ্ক কষাও শুরু করেছেন। কিন্তু ভোটবাক্স কী বলবে, সেটার জন্য ২০১৯ সালের মে মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতেই হবে।
এই অনিশ্চয়তাটাই গণতন্ত্রের মজা। এই অনিশ্চয়তার কারণেই রাজনেতারাও নির্বাচন নামক অগ্নিপরীক্ষার নাম শুনলেই থরহরিকম্প হন। এই মুহূর্তে ভারতে নান উথালপাথাল চলছে। প্রত্যেক নেতা নিজের নিজের অঙ্ক কষার চেষ্টা করছেন। আর তার সর্বশেষ উদাহরণ তেলাঙ্গনা ও ওড়িশা।
তেলাঙ্গনা বিধানসভা ভাঙার সুপারিশ হয়ে গেছে। নবীন পট্টনায়কও তেমন কিছু ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন। এখন প্রশ্ন হচ্ছে কেন? অন্যদিকে অন্ধ্রপ্রদেশে আরেক অঙ্ক কষতে ব্যস্ত মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু। মানস সরোবরে ব্যস্ত রাহুল ব্যস্ত। দিল্লিতে কেন্দ্রীয় পদাধিকারীদের ব্যস্ত অমিত শাহ ও নরেন্দ্র মোদী।
It is so humbling to be walking in the shadow of this giant. #KailashYatra pic.twitter.com/SGbP1YWb2q
— Rahul Gandhi (@RahulGandhi) September 6, 2018
The waters of lake Mansarovar are so gentle, tranquil and calm. They give everything and lose nothing. Anyone can drink from them. There is no hatred here. This is why we worship these waters in India.#KailashYatra pic.twitter.com/x6sDEY5mjX
— Rahul Gandhi (@RahulGandhi) September 5, 2018
রাজনৈতিক দলগুলি এবং রাজনেতাদের রণনীতি এবং কৌশল শেষ পর্যন্ত কী দাঁড়াবে এবং তার কতটা মানুষের মনকে প্রভাবিত করবে সেটা পুরোটাই ভবিষ্যতের ব্যাপার। কিন্তু একটা বিষয়ে নিশ্চিত যে প্রতিটি সংশ্লিষ্ট পক্ষ এই মুহূর্তে নিজের আসনসংখ্যা বাড়াতে এবং প্রতিপক্ষের আসনসংখ্যা কমাতে মস্তিস্ক প্রক্ষালন করে চলেছেন।
তেলাঙ্গনা অথবা ওড়িশা অথবা অন্ধ্রপ্রদেশ তারই উদাহরণ মাত্র। এটা ঠিক যে এই তিনটি রাজ্যেই শাসকদল আপাত ভাবে বেশ কোণঠাসা। অন্যদিকে মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগঢ় ও রাজস্থান – সেখানেও শাসকদল বেশ স্বস্তিতে আছে এমন ভাবার কোনও কারণ নেই। গুজরাটেও তাদের টালমাটাল অবস্থা। কর্নাটক তথৈবচ। এমন অবস্থায় কেন্দ্রের শাসকদলের মূল উদ্দেশ্য তাদের সম্ভাব্য সংখ্যার চুলচেরা বিশ্লেষণ করা এবং বিরোধী ঐক্যে ফাটল ধরানো।
কেসিআর, মোদী ও চন্দ্রবাবু তখন একসঙ্গে, এখন বিরোধী ঐক্যে ফাটল ধরাতে চায় শাসকদল (পিটিআই ফাইল চিত্র)
তেলাঙ্গনা এবং ওড়িশা শাসক দলের এই কৌশলেরই একটা অংশ। আবার এটাও ঠিক যে দুটি রাজ্যেই যেহেতু স্থানীয় শাসকদল বেকায়দায় রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে, তাই তারাও আপ্রাণ জল মাপার চেষ্টা করছে।
প্রধান বিরোধীপক্ষ কংগ্রেসের কৌশল একেবারেই স্পষ্ট। বিজেপির সাফল্যের চাবিকাঠিকে পাল্টা হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করার জন্য মরিয়া চেষ্টা করে যাচ্ছেন রাহুল গান্ধী। একদিকে মুসলিম ভোট নিজের পক্ষে সুসংহত করা, অন্যজিকে বিজেপির নিশ্চিত সমর্থনভিত্তি -- ধর্ম ও জাতির ভিত্তিতে বিভাজিত করা।
নবীন পট্টনায়ক: তিনি কোন দিকে তা এখনও স্পষ্ট নয় বিরোধীদের কাছে (ইন্ডিয়া টুডে)
এইরকম একটা অবস্থায় বিজেপি যতক্ষণ না তাদের চূড়ান্ত কৌশল নিয়ে জনসমক্ষে আত্মপ্রকাশ করছে তার আগে এটা কল্পনা করা বেশ কঠিন যে ২০১৯-এর লড়াইটা ঠিক কোন দিকে মোড় নেবে।
রাজ্যস্তরে আঞ্চলিক দলগুলির এক একমাত্র কৌশল নিজেদের আসন সংখ্যা বাড়ানো। ঠিক এই জায়গাটাতেই প্রধান প্রতিপক্ষ কংগ্রেসের সঙ্গে আঞ্চলিক দলগুলির অন্তর্নিহিত সংঘাত, কারণ কংগ্রেসকেও আসনসংখ্যা বাড়াতে হবে। এবং এই সবকিছুই সম্ভব এনডিএ জোটের সংখ্যা কমানর মধ্য দিয়ে। এই বাড়াকমার খেলা শেষ পর্যন্ত কী বাস্তব রূপ নেবে সেটা পুরোটাই নির্ভর করছে মানুষের ব্যক্তি ও সমষ্টিগত মনস্তত্ত্বের উপরে।

