মমতা বিরোধী জোটের যে সলতে পাকিয়েছিলেন কর্নাটকে তার প্রদীপ জ্বললো
শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে বিরোধীদের চাঁদের হাট, মমতার চাঁদের হাসি তাই বাঁধ ভেঙেছে
- Total Shares
টেলিভিশনের পর্দায় এইচ ডি কুমারস্বামীর কর্নাটকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানটি দেখছিলাম। বিস্তর টানাপোড়েনের পর সেই রাজ্যে ক্ষমতায় এল কংগ্রেস-জেডি(এস) জোট। কর্নাটকে সরকার গঠন নিয়ে নাটক কম হয়নি। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও, রাজ্যপালের আহ্বানে দু'দিনের জন্য সরকার চালাবার দায়িত্ব বর্তেছিল বি এস ইয়েদ্যুরাপ্পার নেতৃত্বাধীন বিজেপির উপর। অবশেষে রাজনৈতিক অঙ্কের খেলায় বিজেপিকে পরাস্ত করে ক্ষমতা দখল করে নিল কংগ্রেস-জেডি(এস)। স্বভাবতই, এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান নিয়ে রাজনৈতিক মহলের আগ্রহ ছিল তুঙ্গে।
অনুষ্ঠান দেখতে দেখতে আমার নজরে পড়ল এক ষাটোর্ধ মহিলা। মঞ্চে বেশ ফুরফুরে মেজাজে ছিলেন তিনি। গোটা অনুষ্ঠান জুড়েই যুদ্ধের জয়ের হাসি তাঁর ঠোঁটের কোণে। মনে হচ্ছিল যুদ্ধটা আদতে তিনিই জিতেছেন। মহিলার নাম মমতা বধ্যোপাধ্যায়। তিনি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী।
এই যুদ্ধের সেনাপতি বা নন-প্লেয়িং ক্যাপ্টেন তো মমতাই
কুমারস্বামীর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে যুদ্ধ জয়ের হাসি হাসবেন তা তো স্বাভাবিক ছিল। বলতে গেলে এই যুদ্ধের সেনাপতি বা নন-প্লেয়িং ক্যাপ্টেন তো তিনি-ই। নিজের রাজ্যে বসে অদৃশ্য রিমোট কন্ট্রোলে তিনি কর্নাটকের মসনদ নিয়ন্ত্রণ করে গেলেন।
বহুদিন ধরেই কংগ্রেস সহ আঞ্চলিক দলগুলোর সঙ্গে জোট বেঁধে ২০১৯ নির্বাচনে বিজেপির বিরুদ্ধে কোমর বেঁধে লড়াই করবার দাবি করছিলেন তিনি। তিনি যে বিরোধী জোটের সলতে পাকিয়েছিলেন, আজ কর্নাটকে সেই সলতে দিয়েই প্রদীপ জ্বললো। এখন দেখতে হবে সেই প্রদীপের আলো ২০১৯ নির্বাচনে বিজেপিকে ছারখার করে দিতে পারে কিনা।
কিছুদিন আগেই কলকাতায় এসে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে গেছেন তেলঙ্গনার মুখ্যমন্ত্রী তথা টিআরএস নেতা কে চন্দ্রশেখর রাও। কলকাতায় এসে তিনি শক্তিশালী আঞ্চলিক দলগুলোকে নিয়ে জোট গড়ার প্রস্তাব পেশ করেন। তবে কংগ্রেসকে বাইরে রেখে।
বেঙ্গালুরুতে বিরোধীদের চাঁদের হাট বসেছিল
মমতা অবশ্য সেই প্রস্তাবে রাজি হননি। তিনি চাইছেন বিজেপি বিরোধী একটি জোট। তার জন্যে কংগ্রেসকে দলে টানতেও আপত্তি নেই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর। তাঁর 'এক বনাম এক' ফর্মুলাটা বেশ পরিষ্কার। প্রতিটি রাজ্যের শক্তিশালী বিরোধী দলগুলো এক হয়ে জোট বেঁধে বিজেপির বিরোধিতা কর। যে রাজ্যে কংগ্রেসেরও শক্তি রয়েছে সেই রাজ্যে কংগ্রেসও এই জোটে সামিল হোক। কর্নাটক নির্বাচনেও তো প্রথম থেকে সেই দাবিই জানিয়ে আসছিলেন তৃণমূল নেত্রী।
এখানেই আসল জয়টা পেলেন তিনি। কংগ্রেসকে জোটে চাননি কে চন্দ্রশেখর রাও। অথচ, আজ কংগ্রেস-জেডি(এস) জোট সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে চন্দ্রশেখর রাও উপস্থিত ছিলেন। ছিলেন আর এক কংগ্রেস বিরোধী, অন্ধ্রের মুখ্যমন্ত্রী তথা টিডিপি নেতা চন্দ্রবাবু নাইডু। অখিলেশ যাদব থেকে শুরু করে মায়াবতী, চন্দ্রবাবু নাইডু থেকে শরদ পাওয়ার - স্বীকার করে নিতেই হচ্ছে কুমারস্বামীর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে কর্নাটকের রাজভবনে বিরোধীদের চাঁদের হাট বসেছিল।
উপস্থিত ছিলেন সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি
বিহারে যখন কংগ্রেস-আরজেডি-জেডিইউ-র মহাগঠবন্ধন সরকার গঠন করেছিল তখন শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান বয়কট করেছিল বামফ্রন্ট। তখন ফ্রন্টের তরফ থেকে কংগ্রেস-বিরোধী লাইন নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কুমারস্বামীর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরির সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পি বিজয়ন। অনুষ্ঠানে এসেছিলেন সিপিআইয়ের জাতীয় সম্পাদক ডি রাজাও।
সব মিলিয়ে আজ দেশের তথ্যপ্রযুক্তি শহর বেঙ্গালুরুতে বিরোধীদের চাঁদের হাট বসেছিল।
আর, তাই তো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চাঁদের হাসি বাঁধ ভেঙেছে।

