এ রাজ্যে বিজেপি কোন যুক্তিতে ২৪টি আসনের আশা করছে?
মেরুকরণ নাকি উন্নয়ন, ২০১৯ সালে বঙ্গবিজেপির প্রচার কোন পথে?
- Total Shares
বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরে আমি এক বছর ধরে পুরো বাংলা দেখভাল করছি। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ ২০০৯ সালে যে পরিবর্তন দেখেছিল তা ৩৪ বছর ধরে সিপিএমের উপর বীতশ্রদ্ধ হওয়ার ফল।
বাংলায় তখন গণতন্ত্র ছিল না। তাই আমাদের প্রথম লক্ষ্যই ছিল গণতন্ত্র পুনরায় স্থাপন করা। আজকেও আমাকে সেই একই কথা বলতে হচ্ছে, বাংলায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আমি ৪০ বছর ধরে রাজনীতি করছি, তার মধ্যে ৩৪ বছর সিপিএমের আমল, পরে তৃণমূলের। আমার বিরুদ্ধে কোনও থানায় একটিও সাধারণ ডায়েরি বা জিডি ছিল না কোনও কালে, কিন্তু গত ১১ মাসে ২৭টি ফৌজদারি মামলা দায়ের করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার।
মুকুল রায়: ভোটে তাঁকে বড় দায়িত্ব দিয়েছে বিজেপি (ইন্ডিয়া টুডে)
এ রাজ্যে সংবাদমাধ্যমেরও স্বাধীনতা নেই, কেউ হয়তো কোনও একটি ছবি ছাপল, তখন হুমকি দেওয়া হল যে বিজ্ঞাপন দেওয়া হবে না। এটা পুরোপুরো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে নিয়ন্ত্রণ ও দমন করছেন।
বাংলায় অতিসম্প্রতি পঞ্চায়েত নির্বাচন হয়েছে। আমি তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে পঞ্চায়েত ভোট করেছি, এ বার বিজেপির হয়ে পঞ্চায়েত নির্বাচন করেছি। এ বারে দেখলাম তৃণমূল সমস্ত সীমা ছাড়িয়ে গেছে। ২০০৩ সালে রক্তাক্ত পঞ্চায়েত নির্বাচন হয়েছিল। ৭০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। তখন অনিল বিশ্বাস-সহ সিপিএমের নেতারা বলতেন, “ওরা প্রার্থী দিতে পারে না, আমরা কি ওদের প্রার্থী ধার দেব?”
একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে। এই নির্বাচনে রাজনৈতিক কারণে ৮২ জন মারা গেছেন মনোনয়নের আগে, ভোটের সময় ও ভোটের দিনে, ভোট গণনার সময় ও তারপরে – সব মিলিয়ে। এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই একই কথা বলছেন। পশ্চিমবঙ্গ বাদ দিয়ে অন্য কোনও রাজ্যে দলগত ভাবে পঞ্চায়েত নির্বাচন হয় না।
আমরা একটা বই প্রকাশ করেছি সেখানে দেখিয়েছি ভোট গণনার দিন গণনাকেন্দ্রে ঢুকে লোকে ছাপ্পা ভোট দিচ্ছে।
পঞ্চায়েত ভোটে গণতন্ত্র ধ্বংসের অভিযোগ বিরোধীদের (রয়টার্স)
পশ্চিমবঙ্গ ৭৮,৭৯৮টি বুধ আছে। এই বুথ ধরে হিসাবে ২২ থেকে ২৬টি আসনে তৃণমূল কংগ্রেস মোটেই ভালো জায়গায় নেই। উত্তরবঙ্গে আটটি লোকসভা আসন রয়েছে। এর ছ’টি আসনে তৃণমূল কংগ্রেস ভালো অবস্থায় নেই, যেখানে বিজেপি ভালো অবস্থায় আছে। একই ভাবে নদিয়ায় দু’টি আসনের একটিতেও তৃণমূল কংগ্রেস সুবিধাজনক অবস্থায় নেই।
আমি দেখছি যে পশ্চিমবঙ্গে পরিবর্তনের পরিবর্তন শুরু হয়ে গিয়েছে। একই সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসেরও শেষের শুরু হয়ে গিয়েছে।
পুরুলিয়া জেলায় পঞ্চায়েত নির্বাচনের ফলে দেখা গিয়েছে সর্বনিম্ন স্তরে বিজেপি এখন তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রামেও প্রাথমিক স্তরে বিজেপি এগিয়ে রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ে। যেখানে পঞ্চায়েতে আমাদের ৪০০টা মতো আসন ছিল সেখানে এখন দশ হাজারের মতো আসন হয়ে গিয়েছে।
আমাদের কোনও মিছিলে ২০০ জন লোক হওয়া মানে সেখান থেকে ১০০০ ভোট আসবে, একটি পরিবারে গড়ে পাঁচ জন আছেন এটা ধরে নিয়ে। তবে আমাদের নিশ্চত করতে হবে যে লোকে যেন নির্ভয়ে নিশ্চিন্ত ভোট দিতে পারে। নির্বাচন কমিশন যদি নির্ভয়ে ভোট দেওয়া নিশ্চিত করতে পারে তা হলে পশ্চিমবঙ্গে ভোটের ফলাফল পুরোপুরি ঘুরে যাবে।
ইন্ডিয়া টুডে কনক্লেভ ইস্টের মঞ্চে বাঁ দিক থেকে শতরূপ ঘোষ, অধীররঞ্জন চৌধুরী, মুকুল রায়, সম্বিত পাত্র, চন্দন মিত্র
আমরা দেখছি কর্ণাটকে মন্দিরে মন্দিরে গিয়েছেন রাহুল গান্ধী, এখন মধ্যপ্রদেশেও তিনি মন্দির দর্শন করছেন। পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মন্দিরে যান লুকিয়ে, মসজিদে যান সামনে দিয়ে। এখন উনি সব ধর্ম ও সব সম্প্রদায়ের মানুষকে তুষ্ট করার চেষ্টা করছেন।
তবে হিন্দু ও মুসলমান দুই ধর্মের ভোটই এখন ঝুঁকছে মোদীর সাফল্যের দিকে। গ্রামের যে মহিলা এতদিন রান্না করতেন কাঠের জ্বালে, এখন তিনি উজ্বলা প্রকল্পের গ্যাসে রান্না করছেন। তখন তিনি বাড়িতে বলছেন, ভোটটা এ বারে মোদীকে দেব। যে মানুষ এতদিন রাস্তায় রাত কাটিয়েছেন, এখন তিনি মাথায় ছাদ পেয়েছেন নরেন্দ্র মোদীর জন্য।
ভোটে মেরুকরণ অবশ্যই একটা ব্যাপার, তবে আমরা নরেন্দ্র মোদী যা উন্নয়ন করেছেন তা নিয়েই প্রচার করব। তা ছাড়া ২০১৯ সামনে রেখে লোকসভা ভোটের প্রচার হবে, বিধানসভা ভোটের নয়।

