কতটা স্বাধীন প্রধানমন্ত্রী হবেন ইমরান, ভারতনীতি কী হবে?
ইমরানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার নেপথ্যে রয়েছে সেনা, বলছেন সমালোচকরা
- Total Shares
প্রথমবার ভোটের ময়দানে নেমে যাঁর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছিল, আজ তিনিই দেশের প্রধানমন্ত্রী। ইতিমধ্যে ১৯৯৬ সালের ২৫ এপ্রিল তিনি পাকিস্তান তেহেরিক-ই-ইনসাফ বা পিটিআই দল তৈরি করেন। ১৯৯৯ সালে পাকিস্তানে সামরিক অভ্যুত্থান হওয়ার পর ইমরান খানকে মুসলিম লিগ (কাফ)এ আমন্ত্রণ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার প্রস্তাব দেন সোনাপ্রধান পারভেজ মোশারফ। সে প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে ইমরান একক ভাবে নির্বাচনে লড়ার সিদ্ধান্ত নেন।
২০০২-এর সেই নির্বাচনে অবশ্য ইমরান খান নিজের আসনে জয়ী হলেও, অন্য কোনও আসন থেকে দলের প্রার্থীদের জিতিয়ে আনতে পারেননি। এরপর থেকে জেনারেল মোশারফের আমেরিকা-ঘেঁষা নীতির তীব্র বিরোধিতা করতে থাকেন ইমরান। ২০০৮-এর জাতীয় নির্বাচনকে লোক দেখানো নির্বাচন আখ্যা দিয়ে করে সে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি ইমরান। ধীরে ধীরে সে দেশের শিক্ষিত ও তরুণ সমাজের মধ্যে ইমরানের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পায়। বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট রাজনৈতিক নেতা পাকিস্তান তেহেরিক-ই-ইনসাফে যোগ দেন। ২০১১ সালের ৩০ অক্টোবর লাহোরের মিনারে পাকিস্তান ময়দানে বিশাল জনসভার মাধ্যমে পাকিস্তানের রাজনীতিতে তৃতীয় শক্তি হিসেবে উত্থান ঘটে ইমরান খানের তেহেরিক-ই-ইনসাফের। সেই জনসভার পর থেকে পাকিস্তানের গণমাধ্যম ও সুশীল সমাজে ইমরান খান গুরুত্ব পেতে শুরু করেন।
বিজয়ী ইমরান খান
আমেরিকার সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধে পাকিস্তানের জোরদার বিরোধী অবস্থানের কারণে ইমরান খানের জনপ্রিয়তা সেদেশের শিক্ষিত ও তরুণ সমাজের মধ্যে ব্যাপক ভাবে বৃদ্ধি পায়। তবে ইমরান পাকিস্তানের চিফ এগজিকিউটিভের আসনে বসুন, সেটা আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহল চায়নি।
২০১৩ সালের জাতীয় নির্বাচনে ইমরানের দলের প্রার্থীদের ৮০ শতাংশ ছিলেন অনভিজ্ঞ ও তরুণ। ২০১৩-র নির্বাচনকে ইমরান পাকিস্তানের ইতিহাসে সবচেয়ে জঘন্য ও কারচুপির নির্বাচন হিসেবে আখ্যা দেন। ওই নির্বাচনে জাতীয় পরিষদে প্রায় ৮৪ লাখ ভোট পেয়ে পাকিস্তানের দ্বিতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক দল হিসেবে আবির্ভাব ঘটে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের। বৃহত্তম প্রদেশ পঞ্জাবে প্রধান বিরোধীদল ও খাইবার-পাখতুনখাওয়ায় প্রাদেশিক সরকার গঠন করতে সক্ষম হয় পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ ওরফে পিটিআই।
ওই নির্বাচনে কারচুপি হলেও দেশের স্বার্থ মেনে নিয়ে মাত্র ৪টি আসনের ব্যালট বাক্স ফের গণনার আহ্বান জানান। কিন্তু ক্ষমতাসীন মুসলিম লিগ তা প্রত্যাখ্যান করে। নির্বাচনের এক বছর যেতে না যেতেই ৪টি আসনের ব্যালট বাক্স খুলে দেওয়ার দাবিতে পাকিস্তানের পার্লামেন্টের পাশে রেড জোনে অনির্দিষ্টকালের অবস্থান কর্মসূচি পালন করে ইমরান খানের দল। সারা দেশে আন্দোলন ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ে।
ইমরানকে প্রথম থেকেই মদত দিয়েছে সেনা, তাই তিনি কতটা স্বাধীন ভাবে কাজ করতে পারবেন এখন সেটাই প্রশ্ন
পাকিস্তানে ফের সামরিক শাসনের গুঞ্জন উঠতে থাকে। সেনাপ্রধান জেনারেল রাহিল শরিফ আলোচনায় আগ্রহী হলে ইমরান খান কোনও ধরনের সেনা হস্তক্ষেপ সমর্থন করবেন না বলে জানিয়ে দেন। ১২৬ দিন অবস্থান কর্মসূচি চলার পর পাকিস্তানের পেশোয়ার আর্মি স্কুলে তালিবানের সশস্ত্র হামলায় ১৪৬ জন স্কুল ছাত্র নিহত হলে ইমরান খান অবস্থান কর্মসূচি বাতিল ঘোষণা করেন।
এরপর ২০১৬ সালে গোটা দুনিয়ায় হইচই ফেলে দেওয়া পানামা পেপার্সে নওয়াজ শরিফ ও তার পরিবারের অবৈধ সম্পদের তথ্য ফাঁস হয়ে যায়। ইমরানের হাতে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার মোক্ষম হাতিয়ার চলে আসে। পাকিস্তান সুপ্রিমকোর্টে দীর্ঘ সাড়ে ৯ মাস ধরে চলে সেই মামলা। কিন্তু নওয়াজ বা তার ছেলেমেয়েরা পানামা পেপার্সে উঠে আসা সম্পদের পক্ষে কোনও প্রমাণই দিতে পারেনি। বরং ওই সম্পদ কাতারের আমিরের উপহার বলে তাঁর স্বাক্ষরিত যে চিঠি সুপ্রিমকোর্টে দাখিল করেন, পরবর্তীতে সেই চিঠি ভুয়ো প্রমাণিত হয়। পাকিস্তানের সংবিধানের ধারা ৬২(এফ) অনুচ্ছেদে জনগণের বিশ্বস্ত নন ও শপথ ভঙ্গ করেছেন এই মর্মে সেদেশের সুপ্রিমকোর্ট নওয়াজ শরিফকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অযোগ্য ও আজীবন রাজনৈতিক ও যে কোনও পদের জন্য অযোগ্য ঘোষণা করেন। নওয়াজ শরিফ অযোগ্য ঘোষিত হওয়ায় ওই মামলার বাদী ইমরান খানের প্রচেষ্টা সর্বমহলে প্রশংসিত হয়। ইতিমধ্যে নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু করে দেন ইমরান। মুসলিম লিগ (নওয়াজ)-এর শক্ত ঘাঁটি লাহোরে ২৯ এপ্রিল বিশাল গণজমায়েত করে ইমরান খান সে দেশের রাজনৈতিক বোদ্ধাদের হতবাক করে দেন। জনসভা দেখে ইমরানের সমালোচকরাও বলেছিলেন আগামী নির্বাচনে ইমরানই এক্স ফ্যাক্টর।
পানামা পেপার লিকে ক্ষমতা হারান নওয়াজ শরিফ
ভোটের আগে থেকেই জোর প্রচার ছিল, ইমরান যাতে দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন। সেই লক্ষ্যে তাঁর দলের প্রার্থীদের জেতাতে গোয়েন্দাবাহিনী যথেষ্ট তৎপর ছিল। অন্য দলের প্রার্থীরা হুমকি, শাসানি, ভীতিপ্রদর্শন, প্রাণসংশয়ের মুখে পড়লেও ইমরান খানের দলের প্রার্থীদের এ সব ঘটনার সম্মুখীন হতে হয়নি।
ভোটে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকাও ছিল গৌণ। ভোটের আগে থেকেই বিরোধীরা অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনে রিগিং হবে। কমিশন তাতে কান দেয়নি। গণনার সময়ও বিরোধীদের দিক থেকে একই অভিযোগ এলে কমিশন কোনও দ্বিরুক্তি না করে সরাসরি তা নাকচ করে দেয়। গণনা সাঙ্গ হবার আগেই লোকমুখে চাউর হয়, সরকার গঠিত হলেও তার নেপথ্যে থাকবে সামরিক বাহিনী। কিছুদিন আগেই ইসলামাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি শওকত আজিজ সিদ্দিকী অভিযোগ করেছেন, আইএসআই বিচার বিভাগের কাজেও হস্তক্ষেপ করছে। আইএসআই-এর নির্দেশ ভোটের আগে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফকে কিছুতেই ভোটের ময়দানে ছেড়ে দেওয়া যাবে না। বিচারপতি সিদ্দিকী রাওয়ালপিণ্ডি বার অ্যাসোসিয়েশনের সভায় এই তথ্য ফাঁস করে জানান, আইএসআই অনেক শক্তিশালী। পাকিস্তানে যে দলই সরকার পরিচালনা করুক না কেন সামরিকবাহিনীর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ হস্তক্ষেপ থাকবেই।
১৯৪৭ সালে দেশ হিসেবে পাকিস্তান আআত্মপ্রকাশ করার পর থেকে অর্ধেকের বেশি সময় জুড়ে সে দেশের নেপথ্যে চলেছে সামরিক বাহিনীর খেলা। এবার কি তার কোনও পরিবর্তন ঘটবে? নতুন করে আবার সেই পুরনো প্রশ্ন, দেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া কি নির্বিঘ্নে চলবে নাকি মিলিটারি পোশাকই ছড়ি ঘোরাবে? বিজয়ী ইমরান খানের সামনে ভবিষ্যতে সেটা যেমন বড় চ্যালেঞ্জ পাশাপাশি তেমনি প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কতটা সহজ হবে, সেই প্রশ্নও উঠছে।
পাকিস্তান ভারতের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী। প্রতিবেশী দেশটির জাতীয় নির্বাচন নিয়ে তাই ভারতের আগ্রহ যেমন, তেমনি কমতি নেই ব্যস্ততার। নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার আগে থেকেই দিল্লির নর্থ ব্লক-সাউথ ব্লকে তোলপাড় শুরু হয়ে যায়। গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এবং আইবির কাছ থেকে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল দফায় দফায় রিপোর্ট নিতে থাকেন। ইমরান খান প্রধানমন্ত্রী হলে ভারতের লাভ নাকি লোকসান, সেই অঙ্ক কষা শুরু হয় দিল্লির নর্থ ব্লক-সাউথ ব্লকে।
‘র’-এর প্রাক্তন বাঙালি কর্মকর্তা রানা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, ইমরান হবেন পাক সেনার ‘রোবট’। ভারতের জন্য সেটা এক দিক থেকে শাপে বর হতে পারে। পাকিস্তানে আদালত থেকে আইএসআই সব কিছুই সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে। ২০১৩ সালে যখন সন্ত্রাসবাদ চরমে, তখন সাধারন নির্বাচনে মাত্র ৭০ হাজার সেনা মোতায়েন করা হয়েছিল। আর এবারের ভোটে মোতায়েন করা হয়েছে ৩ লক্ষ ৭০ হাজার সেনা। ভোট পর্যবেক্ষণের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা প্রতি বার নির্বাচনের অন্তত এক মাস আগে পাকিস্তানে পৌঁছায়। এ বার তাদের সেই অনুমতিই দেওয়া হয়েছে মাত্র এক সপ্তাহ আগে। নির্বাচনে সেনাবাহিনী প্রত্যক্ষ ভাবেই ইমরানকে সমর্থন দিয়েছে। ইমরানের সরকারকে সম্পূর্ণ ভাবেই সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন হতে হবে। গণতন্ত্র থাকবে শুধু নামেই।
পাকিস্তানের অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে সন্ত্রাসবাদ নিয়ন্ত্রণে রাখার দায় সেনাবাহিনীরই। সেই কারণে ইমরানের জয়কে সেনাবাহিনীর জয় বলেই মনে করছে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। অন্যদিকে ইমরান খান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী থেকে শুরু করে বিরোধী সাংসদদের অধিকাংশই ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের উন্নতির লক্ষণ দেখতে পাচ্ছেন না। আসলে ইমরানের নির্বাচন জয় থেকে প্রধানমন্ত্রী হওয়া সবই পাক সেনার হাত ধরে, অতএব তাঁকে কাজ করতে হবে সেনার হাতের পুতুল হয়েই। তাই ইমরান কী চান, তিনি কী বলছেন, সেটা বড় কথা নয়, আসল কথা হল পাকিস্তানের সেনা কী বলছে।
জয় নিশ্চিত হওয়ার পরে পাকিস্তানের মানুষের উদ্দেশে বক্তৃতা
তাই প্রাথমিক পর্যায়ে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে পাকিস্তানের মনোভাব যে বদলাবে তার কোনও সম্ভাবনা নেই৷ তারা আগের মতোই জঙ্গিদের পাশে দাঁড়াবে, সেনাবাহিনীই নীতি ঠিক করবে৷ ফলত এই মুহূর্তে ভারত-পাক সম্পর্ক উন্নত হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম৷ তবে পরে যদি কোনও সময় ওদেশের সামরিক বাহিনী মনে করে, সম্পর্ক কিছুটা সহজ হওয়া দরকার, তবে হতে পারে। কারণ বিষয়টা ইমরান বা কোনও অসামরিক প্রধানমন্ত্রীর হাতে নেই। এতদিন পাকিস্তানের ক্ষমতা ছিল তিনটি কেন্দ্রে- সেনা, আইএসআই এবং প্রধানমন্ত্রীর হাতে। এ বার যেহেতু প্রধানমন্ত্রীকে সেনার কথায় চলতে হবে, তাই তৃতীয় ক্ষমতার কেন্দ্রের বিষয়টি আর মুখ্য থাকছে না। সামনে অসামরিক সরকারকে রেখে পুরোটাই বকলমে নিয়ন্ত্রণ করবে সেনা। এই অবস্থায় ভারত-পাক সম্পর্ক নিয়ে কোনও আলোচনা শুরু হওয়াও স্পম্ভব নয়। যদিও অনেক সময়ই পাকিস্তানে যিনিই সরকার গঠন করেছেন, তাঁদের সঙ্গে কথাবার্তা বলার চেষ্টা করতে হয়েছে৷ যেমন মোশারফের সঙ্গে কথা বলেছিলেন অটলবিহারী বাজপেয়ী৷ মনমোহন সিংও ব্যাক চ্যানেলে মোশারফের সঙ্গে কথা বলেছিলেন৷ তাই ভবিষ্যতে কী হবে তা এখনই বলা যায় না৷ তবে এই মুহূর্তে ইমরান যাঁদের সাহায্যে প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন, তাঁরা কোনও আলোচনা চাইবেন বলে মনে হয় না৷ আর এটা ইমরানের হাতেও নেই৷
যাদের হাতে ক্ষমতা সেই পাক সেনাবাহিনীর মদতেই যে কাশ্মীরে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা কাজকর্ম চালাচ্ছে তা সকলেরই জানা। ইমরানের পক্ষে সেই নীতির বিপরীতে চলা সম্ভব নয়। কাশ্মীর বা জঙ্গি হামলার ইস্যুতে ইমরান যে পাক সেনার লাইন অনুসরণ করবেন তা একপ্রকার নিশ্চিত। ইমরান যে আমেরিকার সঙ্গে দূরত্ব বাড়িয়ে চিনের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়বেন সে সম্ভবনাই বেশি। পাকিস্তানের জেহাদি সংগঠনগুলি এই নির্বাচনে অবাধে যোগ দিয়েছিল, তাতে সেনা ও ইমারনের প্রচ্ছন্ন মদতও ছিল। ফলে পাক জঙ্গিদের দমনের বদলে নতুন সরকার যে তাদের বাড়তে ইন্ধন দেবে এমনই আশঙ্কা কূটনৈতিক মহলের। ইমরান খান প্রাক্তন পাক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফকে ক্রমাগত আক্রমণ করেছেন তাঁর ভারত ঘেঁষা নীতির পরোক্ষে সমালোচনা করে এতেও ইমারন নিজের অবস্থান অনেকটা বুঝিয়ে দিয়েছেন।
ভারতনীতি স্থির করবেন ইমরান নাকি সেনা, সেটাই প্রশ্ন
তবে এ কথাও ঠিক, ইমরান জানিয়েছেন যে তিনি কাশ্মীর নিয়ে কথা বলতে চান, আলোচনায় সমাধান খুঁজতে চান। কাশ্মীর আর বালুচিস্তান নিয়ে পারস্পরিক দোষারোপের পালা বন্ধ করতে চান। দু’দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়াতে চান। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কুর্সিতে বসার আগে দেশবাসীর উদ্দেশে বক্তৃতায় ইমরান খান তাঁর ভবিষ্যৎ কর্মসূচির যে রূপরেখা দিয়েছেন, তাতে ভারত সম্পর্কে প্রত্যাশিত কথাগুলোই আরও এক বার শোনা গিয়েছে।
তবে সন্ত্রাস বন্ধ না হলে আলোচনা নয়, এই অবস্থানেই এখনও অবধি অনড় ভারত। ইমরানের বক্তৃতায় ভারতের প্রসঙ্গে সন্ত্রাস শব্দটি সে ভাবে ইমরানের মুখে শোনা যায়নি। পড়শি দেশগুলির সঙ্গে সম্ভাব্য নীতি নিয়ে বলতে শুরু করে চিন, আফগানিস্তান, ইরান, সৌদি আরব নিয়ে বলা শেষ করার পর তিনি ‘হিন্দুস্তান’ নিয়ে মুখ খুলেছিলেন। কাশ্মীরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের কথাও তুলেছেন। কিন্তু সন্ত্রাস নিয়ে সরাসরি একটি শব্দও উচ্চারণ করেননি। তাই নরেন্দ্র মোদীর পক্ষে এখনই অত্যুৎসাহী হওয়া সম্ভব নয়। কারণ এটা স্পষ্ট, ইমরান মুখে যাই বলুন, চলবেন সেই সেনা ও আইএসআই নির্দেশিত পথেই।
এর আগে নওয়াজ় শরিফের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক দৌত্য বাড়িয়ে নিতে গিয়ে মোদীর চার বছর যে জলে গিয়েছে— সেটা ঘরোয়া ভাবে স্বীকার করেছে বিদেশ মন্ত্রকের বড় অংশ। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার দিন নওয়াজকে ডাকা বা বিনা আমন্ত্রণে নওয়াজের বাড়ি গিয়েও কাজের কাজ কিছু হয়নি। বরং তার পরই পাঠানকোটের সেনা ছাউনিতে আক্রমণ চালায় পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিরা।
আপাতত দু’দেশের সেনার মধ্যে যাতে ন্যূনতম যোগাযোগ বজায় থাকে, সে কারণে ভারত ও পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার মধ্যে বৈঠক চলবে। ইমরানের সঙ্গে সাধারণ পর্যায়ে ‘সফট এনগেজমেন্ট’ করা যেতে পারে কি না, সেটাও ভেবে দেখা হবে।

