বৈঠকে তিস্তা নিয়ে জল গড়াল কিনা তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটল না

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিচারে তিস্তার জল বণ্টন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

 |  2-minute read |   27-05-2018
  • Total Shares

শান্তিনিকেতনের সমাবর্তন অনুষ্ঠানের পর শনিবার বাংলাদেশ ফেরার আগে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে বসলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঢাকা যাওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন সে কথাটা সামনে এলেও বৈঠকে দু'পক্ষর মধ্যে তিস্তার জল নিয়ে কোনও রকম আলোচনা হল কী না সে বিষয় দুজনেই একেবারে নীরব রইলেন।

বৈঠক সেরে বেরিয়ে এসে মুখ্যমন্ত্রী এই বিষয় কোনও কথাই বললেন না। যদিও নবান্নের এক শীর্ষ কর্তা জানান যে দুজনের মধ্যে তিস্তার জলবণ্টন নিয়ে কোনও কথা হয়নি।

meet_body1_052718024137.jpgযে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে ব্যক্তিগত কথাই হয়েছে অনেক বেশি

ভারত ও বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নিরিখে এই বৈঠক যেমনই গুরুত্বপূর্ণ ঠিক একই ভাবে বৈঠকে তিস্তার জল নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কী কথা হল সে বিষয়টির দিকে দুদেশের কূটনৈতিক মহল তাকিয়ে ছিল। বাংলাদেশে এ বছরের শেষের দিকে ভোট আর যেখানে দু'দেশের মধ্যে তিস্তার জল বণ্টন একটা বড় বিষয়। তাই প্রত্যাশা ছিল যে বৈঠককে এ নিয়ে কথোপকথন হবে। তিস্তার বদলে মমতা আত্রেয়ীর জল দেওয়ার কথা বলেছেন অনেক আগে। তাতে বাংলাদেশ রাজি নয়। দু'দেশের মধ্যে তিস্তা ও আত্রেয়ী এই দুটি নদীর জল ঠিক কী ভাবে ভাগ করা হতে পারে সে নিয়ে শেখ হাসিনা ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বিমত পোষণ করেছেন। কেন্দ্রীয় সরকার তেমন আপত্তি না করলেও, যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয় এ নিয়ে রাজ্যের বক্তব্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই শেখ হাসিনা সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলে সমাধানসূত্রে আসতে চাইবেন বলেই মনে করা হচ্ছিল। 

এ দিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিমান ছাড়ার আগে চার ঘণ্টা সময় ফাঁকা ছিল তখনই তাঁদের এই বৈঠকটি শহরের একটি পাঁচতারা হোটেলে তড়িঘড়ি আয়োজন করা হয়।

প্রায় ঘণ্টাখানেক চলে তাঁদের বৈঠক। গোড়ার দিকে বিদেশমন্ত্রকের আধিকারিকরা উপস্থিত থাকলেও পরের দিকে একান্তেই তাঁরা কথাবার্তা বলেন। নবান্ন সূত্রে যেমনটা জানান হয়েছে যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে ব্যক্তিগত কথাই হয়েছে অনেক বেশি।

meet_body2_052718024203.jpgএদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেতাজি ভবন পরিদর্শন করতে যান (ছবি সুবীর হালদার)

এদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেতাজি ভবন পরিদর্শন করতে যান। নেতাজি ভবন পরিদর্শন করতে এসে বেশ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, "নেতাজির আত্মত্যাগই স্বাধীনতা এনে দিয়েছিল এ দেশকে।" তিনি জানান যে, ভারতের স্বাধীনতার জন্য সুভাষচন্দ্র বসুর দেখানো পথ অনুসরণ করেছে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও সেই যুদ্ধের যোদ্ধারা। তাঁর বোন ভারতে এলে সব সময় নেতাজি ভবন ও জোড়াসাঁকো ঠাকুর বাড়িতে যান। এবার তাঁরও সেই ইচ্ছেটা পূরণ হল। 

If you have a story that looks suspicious, please share with us at factcheck@intoday.com or send us a message on the WhatsApp number 73 7000 7000

Writer

Comment