মুসলমান সমাজের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়?
মুসলমানদের বিজেপি ও দাঙ্গা জুজু দেখিয়ে যাচ্ছে তৃণমূল সরকার
- Total Shares
সরকারি তহবিল থেকে কোনও অর্থ কোনও ধর্মীয় কাজে ব্যবহার করার আমরা পক্ষপাতী নই। সরকারি অর্থ ইমামদের দেওয়ারও আমরা বিরোধী, সরকারি অর্থ পুজোকমিটিগুলোকে দেওয়ারও আমরা বিরোধী। আমরা এ সব সমর্থন করি না।
একটা বিষয় প্রথমেই জেনে রাখা দরকার যে ইমাম এবং মোয়াজ্জেনদের ৫৬,০০০ জন যে ভাতা পান সেটি ওয়াকফ সম্পত্তির আয় থেকেই দেওয়ার কথা। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন বিরোধী নেত্রী ছিলেন, বারবার তিনি বলতেন যে এই সম্পত্তি থেকে আয় বাড়িয়ে যাতে ইমাম ও মোয়াজ্জেনদের ভাতা বাড়ানো যায়।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর আস্থা হারাচ্ছে মুসলমান সমাজ? (ফাইল চিত্র)
একটি বেসরকারি সংস্থা সমীক্ষা করেছে, তাদের সমীক্ষা একশো শতাংশ না মিললেও মোটামুটি হিসাবটি এই রকম – রাজ্যে যে পরিমাণ ওয়াকফ সম্পত্তি আছে তার যদি বর্তমান বাজারদরে ভাড়া নির্ধারণ করে ওয়াকফ বোর্ডে জমা দেওয়ার ব্যবস্থা রাজ্য সরকার করে দেয়, তা হলে এ থেকে ১,১০০ কোটি টাকা আয় হতে পারে। আর ইমাম ও মোয়াজ্জেনদের ভাতা দিতে রাজ্য সরকারের বছরে খরচ হয় ১৫০ কোটি টাকা। বাকি টাকা দিয়ে মুলসিম সমাজের অনেক কল্যাণকর কাজ করা যায়।তবে সরকার সে ব্যাপারে উদ্যোগী হচ্ছে না।
ওয়াকফ সম্পত্তি নিয়ে বামফ্রন্ট সরকারের যে দৃষ্টিভঙ্গি ছিল, বামফ্রন্ট সরকার যে ভাবে নীরব থেকেছে, এই সরকার অনেকটা তাই-ই করছে। তবে কারও বিরুদ্ধে প্রথমেই যে রে-রে করে রাস্তায় নেমে পড়ব এমনটা আমরা মনে করি না।
আমরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে সুবিচার চেয়েছিলাম। আমরা ভেবেছিলাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় এলে মুসলমানদের বিরুদ্ধে অন্তত ন্যায় বা ইনসাফ করবেন। সেই জন্য রাজেন্দ্র সাচার কমিটির রিপোর্ট মূল্যায়ণ করে আমরা বামফ্রন্ট সরকারকে এ রাজ্য থেকে বিদায় জানিয়ে দিয়েছি।
বিজেপির অস্ত্রমিছিল না আটকানো নিয়ে প্রশ্ন তুলছে মুসলমান সমাজ (উপস্থাপনামূলক চিত্র)
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় আসার পরে যে ভাবে মুসলমান সমাজের উন্নতির জন্য ঘোষণা করেছিলেন তাতে মনে হয়েছিল আমরা সুবিচার পাব। উনি ঘোষণা করেছিলেন ওবিসি হিসাবে শিক্ষায় সংরক্ষণ পাব, চাকরিতেও সংরক্ষণ পাব। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে যে আমাদের চূড়ান্ত ভাবে ব্যবহার করা হল এবং আমাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হল। এটা একদম পরিষ্কার হয়ে গেছে।
দাবি জানানোর জন্য আমরা যাতে কোনও মিছিল না করতে পারি সে জন্য পুলিশ-প্রশাসনকে দিয়ে সব রকম ব্যবস্থা করেছেন। মিছিলের আগের রাত পর্যন্ত আমি যুগ্ন পুলিশ কমিশনারদের সঙ্গে কথা বলেছি। তাঁরাও আমাদের ডেকেছেন, মিছিলের অনুমতি দেবেন বলছেন – এ নিয়ে আমাদের প্রচেষ্টা চলেছে।
কিন্তু সরকার যে ভাবে ইমাম-মোয়াজ্জেন ও ধর্মগুরুদের সভায় বাধা দিল, সরকার তো এই ভাবে বিজেপির অস্ত্রমিছিলে বাধা দিতে পারেনি! আমাদের বাধা দেওয়া হচ্ছে কেন? এ প্রসঙ্গে আমাদের জানানো হয়েছে যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পুজো কমিটিগুলিকে টাকা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন বলে এখন ইমামভাতা বাড়ানো যাবে না, তাই এই মিছিলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। তাদের পরিষ্কার ঘোষণা ছিল যে রাস্তায় নামতে দেব না।
আমাদের রাস্তায় নামতে দেবেন না বলে বিভিন্ন থানা থেকে মিছিলের আগের রাত্ ফোন করে আমাদের আয়োজকদের নিষেধ করেছেন যে ওই মিছিলে যেন তাঁরা না যান।
ইমাম-মোয়াজ্জেনদের ভাতা না বাড়িয়ে দুর্গাপুজোর চাঁদা দেওয়া মানছেন না মুসলমানরা (উপস্থাপনামূলক চিত্র)
আমাদের এখন ভয় দেখানো হচ্ছে যে তৃণমূল যদি ক্ষমতা থেকে চলে যায় তা হলে বিজেপি আসবে। বিজেপি ও দাঙ্গার জুজু দেখিয়ে এ রাজ্যের ২৯ শতাংশ মুসলমানকে যে ভাবে বঞ্চিত করা হচ্ছে তাতে আমরা ব্যথিত। আমরা ভেবেছিলাম বিকল্প আসছে, কিন্তু টকের জ্বালায় পালিয়ে গিয়ে এখন আমাদের তেঁতুলতলায় বাস হয়েছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে ভাবে কথায় কথায় ইসলাম ধর্মকে ব্যবহার করেন তাতে তাঁর পেটোয়া লোকজন খুশি হতে পারেন, কিন্তু আমরা খুশি নই। তিনি মুসলমান নন, অছত ইসলামের কয়েকটা শ্লোক বলে দেবেন আর হাততালি কুড়োবেন, তাতে আমার মনে হয় উনি ইসলাম ধর্মকে ব্যবহার করেন এবং ছোট করেন। কিন্তু বর্তমানে কথা হচ্ছে তিনি কত রকম দেবতার পুজো করেন তা নিয়ে। তাতে মনে হচ্ছে যে তিনি মনে করছেন যে মুসলমানদের তো যাওয়ার কোথাও জায়গা নেই!
একসময় লোকে বামফ্রন্টের বিকল্প বামফ্রন্টই মনে করত, আজ হয়তো লোকে তৃণমূলের বিকল্প হিসাবে তৃণমূলকেই মনে করছে। কিন্ত একটা সময় আসবে যখন বিকল্প বেরিয়ে আসবে। সেটা সময়ের অপেক্ষা। পশ্চিমবঙ্গে দর্মনিরপেক্ষ শক্তি বলতে একমাত্র তৃণমূল, বাকিরা কোমায় গিয়েছে এমন কিন্তু নয়।

