কর্নাটক নির্বাচন প্রসঙ্গেও তৃতীয় ফ্রন্টের বার্তা দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
রাহুল সম্পর্কে প্রচুর সীমাবদ্ধতা রয়েছে মমতার তাই রাহুলের নেতৃত্ব তিনি মেনে নিতে পারেন না
- Total Shares
কর্নাটক নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই টুইট করে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন কংগ্রেস যদি আগেই জেডিএসের সঙ্গে জোট বাঁধত তাহলে এই নির্বাচনের ফলাফল অন্যরকম কিছু হতেই পারত।
স্বীকার করে নিতে হচ্ছে, বিকেলের মধ্যে মমতার গণনা অক্ষরে অক্ষরে মিলে গেল যখন কংগ্রেস ও জেডি(এস) হাত মিলিয়ে রাজ্যপালের কাছে গিয়ে সরকার গঠনের আর্জি জানাল।
কংগ্রেস আর জেডি(এস) কি সত্যিই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর টুইট থেকে উজ্জীবিত হল?
Congratulations to the winners of the Karnataka elections. For those who lost, fight back. If Congress had gone into an alliance with the JD(S), the result would have been different. Very different
— Mamata Banerjee (@MamataOfficial) May 15, 2018
নির্বাচন শুরুর আগে এই জোট রীতিমতো অসম্ভব বলে মনে হচ্ছিল। অথচ গণনা শেষ হওয়ার আগেই এই জোট দিনের আলো দেখে ফেলল। তার উপর কংগ্রেস নিঃশর্ত ভাবে এই জোট গঠনের জন্য রাজি হয়েছিল। এমনকি জোট দল জেডিএসের নেতাকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মেনে নিতেও রাজি কংগ্রেস।
এই সিদ্ধান্তে নিশ্চয়ই মমতা যুদ্ধ জয়ের হাসি হেসেছেন। কারণ তিনিও তো চাননি কর্নাটকে বিজেপি সরকার গঠন করুক।
একই সঙ্গে, নির্বাচনের আগে জোট না করবার জন্য তিনি কংগ্রেসকে দুষেছেন। কংগ্রেসের সমালোচনা করে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে কর্নাটকের মানুষের মন বুঝতে ব্যর্থ কংগ্রেস। নির্বাচনে বেশ কয়েকটি আসন পেয়েছে জেডিএস। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মনে করেন নির্বাচনের আগে জোট গঠন করতে পারলে এই জোট নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করতে পারত।
এই বিশ্লেষণ করে মমতা আদতে বোঝাতে চেয়েছেন যে রাজনৈতিক দল হিসেবে কংগ্রেসের উপর আর ভরসা রাখা যায় না এবং কংগ্রেসের অহংবোধ নিজেদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এর আগেও ত্রিপুরা বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়ের পরেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন যে কংগ্রেস যদি নির্দলীয়, উপজাতি ও অন্যান্য দলের প্রার্থীদের সঙ্গে জোট বাঁধত তা হলে বিজেপি সরকার গঠন করতে পারত না।
কী ইঙ্গিত দিচ্ছেন মমতা?
তাঁর মতে শুধুমাত্র কংগ্রেসের ভুল রাজনীতির জন্য দেশজুড়ে অক্সিজেন পেয়ে চলেছে বিজেপি।
এর মধ্যে দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটি রাজনৈতিক পর্যালোচনা শুরু করতে চাইছেন। এই পর্যালোচনার মূল বিষয়, কংগ্রেসের মতো একটি দলের, যে দলের দূরদর্শিতার অভাব রয়েছে, সঙ্গে কি জোট বাধা বুদ্ধিমানের কাজ?
রাহুলকে ছোট করা ও তাঁর রাজনৈতিক বুদ্ধির সমালোচনা করবার এটি একটি প্রচেষ্টা। এর উপর রাহুলের বিরুদ্ধে বিজেপিকে অক্সিজেন জোগাবার অভিযোগ তুলে মমতা মানুষের মনে একটা প্রশ্ন জাগাবার চেষ্টা করছেন - বর্তমান সভাপতির নেতৃত্বে কি কংগ্রেসকে সমর্থন করা উচিৎ?
রাহুল সম্পর্কে প্রচুর সীমাবদ্ধতা রয়েছে মমতার। তাই রাহুলের নেতৃত্বকে তিনি কোনওদিনও মেনে নিতে পারবেন না। সে জন্য ২০১৯ নির্বাচনের দু'বছর আগে থেকেই মমতা তৃতীয় ফ্রন্ট রূপায়ণের দাবি তুলে এসেছেন। সমস্ত বিরোধী দলকে এই ফ্রন্টের ছাতার তলায় এনে কংগ্রেস-মুক্ত বিরোধী জোট গড়ে তুলতে চাইছেন তিনি।
কর্নাটক নির্বাচনের পরে নিজের টুইটের মাধ্যমে আরও একটি বার্তা দিতে চেয়েছেন মমতা - রাহুলের নেতৃত্বে কংগ্রেস বারংবার ভুল করে বাস মিস করতে পারে, কিন্তু কোনওদিনও ভুল শোধরাবে না।

