কর্নাটক নির্বাচন থেকে কী ভাবে ২০১৯ সাধারণ নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে

জেডি(এস)-কে নিঃশর্ত সমর্থন জানিয়ে কংগ্রেস কিন্তু নিজের দুর্বলতা প্রকট করল

 |  4-minute read |   16-05-2018
  • Total Shares

জেডি(এস) কে নিঃশর্ত সমর্থন জানিয়ে এবং এইচডি কুমারস্বামীকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মেনে নিয়ে কংগ্রেস যে ওষুধ প্রয়োগ করল সেই ওষুধ বরাবরই বিজেপির প্রিয় ওষুধ ছিল। বহু উত্থান পতনের পর বিজেপি কর্নাটকের বৃহত্তম দলের আখ্যা পেলেও, একক সংখ্যা গরিষ্ঠতা পেল না।

তাহলে, উপায়?

প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, কর্নাটকের রাজ্যপাল প্রথমে আসনের নিরিখে বৃহত্তম দলটিকে বা বৃহত্তম জোটকে (নির্বাচনের আগের ঘোষিত জোট হতে হবে, ফলাফল ঘোষণার পরে নতুন জোট গঠন এক্ষত্রে প্রযোজ্য নয়) সরকার গঠনের জন্য ডেকে পাঠাবেন। এই প্রক্রিয়া যদি ব্যর্থ হয় শুধুমাত্র তাহলেই ফলাফলের পর গড়ে ওঠা কংগ্রেস-জেডি(এস) জোট সরকার গঠনের সুযোগ পাবে। রাজ্যের তিনটি প্রধান দলই এখন মরিয়া চেষ্টা করে চলেছে। তবে, পরিস্থিতির নিরিখে, কংগ্রেস-জেডি(এস) জোট অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে।

body_051618013834.jpgবিজেপির অনুকূলে খেলা ঘুরিয়ে দিলেও শেষ রক্ষা করতে পারলেন না মোদী

একটা বলা যেতেই পারে। বিজেপি সরকার গঠন না করতে পারলেও, কর্নাটক নির্বাচনের ফলাফল নরেন্দ্র মোদীর নির্বাচন জিতিয়ে দেওয়ার ক্ষমতাকে আবার প্রতিষ্ঠা করে দিল। গত ডিসেম্বরে গুজরাটে ভরাডুবির পর কর্নাটক নির্বাচন কিন্তু মোদীর কাছে নিজেকে প্রমান করবার লড়াই ছিল। একটা বা দুটো নয়, সপ্তাহ দু'য়েক ধরে কর্নাটক জুড়ে নয় নয় করে ২১টি জনসভায় অংশগ্রহণ করেছিলেন তিনি। কিছু মাস আগেও মনে করা হয়েছিল যে মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়ার নেতৃত্বে খুব সহজেই ফের কর্নাটক দখল করে নেবে কংগ্রেস।কিন্তু মোদী আসরে নামতেই বিজেপির অনুকূলে খেলা ঘুরতে শুরু করে দিল। যদিও শেষ রক্ষা হলো না।

কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী কর্নাটকে লড়াইটা 'মোদী বনাম রাহুল' লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ করে দিলেন। মোদীর সঙ্গে পাল্লা দিতে গিয়ে সরাসরি নিজেকে দেশের ভাবী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দাবি করলেন। কিন্তু লাভের লাভ খুব একটা হলো না। ডিসেম্বরে রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ ও ছত্তিশগড়ে বিধানসভা নির্বাচন। কর্নাটকে ভালো ফল কিন্তু ওই নির্বাচনগুলোতে কংগ্রেসের গতিবেগ বাড়িয়ে দিতে পারত। রাহুল ব্যর্থ হলেন।

২০১৯ লোকসভা নির্বাচনের জন্য পুঁজি প্রয়োজন কংগ্রেসের। পঞ্জাব নিঃস্ব হয়ে বসে রয়েছে। এছাড়া কংগ্রেসের দখলে রয়েছে শুধুমাত্র মিজোরাম ও কেন্দ্রীয় শাসিত অঞ্চল পন্ডিচেরী। তাই তো কংগ্রেস কর্নাটকে সরকার গঠন করতে এতটাই মরিয়া যে জোট সরকারেও শরিক দলের নেতা কুমারস্বামীকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মেনে নিচ্ছে। সরকারে থাকতে পারলেই পুঁজির সুরাহা হবে।

সরাসরি সরকারে না থেকে কংগ্রেস হয়ত জেডি(এস)কে বাইরে থেকে সমর্থন করতে পছন্দ করত। কিন্তু জেডি(এস) চায় কংগ্রেস সরাসরি সরকারে যোগ দিক। এর পিছনে কারণও রয়েছে। জেডি(এস) এখনও ভুলতে পারেনি কী ভাবে নিজেদের সমর্থন তুলে নিয়ে কংগ্রেস ১৯৯৭ সালে কেন্দ্রে এইচ ডি দেবগৌড়ার যুক্তফ্রন্ট সরকারকে ফেলে দিয়েছিল।

কর্ণাটকের ত্রিদলীয় লড়াই কিন্তু কংগ্রেসের বিরুদ্ধে গেছে কারণ জেডি(এস) কংগ্রেসের নিশ্চিত আসনগুলোর মধ্যে অনেকগুলো জিতে নিয়েছে। গুজরাটে দুটি দলের মধ্যে লড়াই হয়েছিল যেখানে দলিত-ওবিসি-পতিদার জোট সঙ্গে নিয়ে বিজেপিকে ভয় পাইয়ে দিয়েছিল কংগ্রেস। ত্রিদলীয় লড়াই হলে বিজেপির সুবিধা হবে। এই শিক্ষাই কর্নাটক নির্বাচনে পেল কংগ্রেস।

বিজেপির অবশ্য নিজস্ব চিন্তার কারণও রয়েছে। প্রচার প্রসঙ্গে দলটি এখনও মাত্র দু'জনের উপর নির্ভরশীল - নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহ। বিজেপিকে বুঝতে হবে, মোদী-শাহ ও তৃণমূল স্তরের কর্মীদের মধ্যে একটা বিরাট ব্যবধান রয়ে গেছে। এই স্ট্রাটেজি পরিবর্তন না করতে পারলে ২০১৯ নির্বাচনে সমস্যায় পড়তে পারে বিজেপি।

উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা নির্বাচনে ৮০টি আসনের মধ্যে ৭১টি পেয়েছিল বিজেপি। কিন্তু আগামী লোকসভা নির্বাচনে এসপি, বিএসপি ও কংগ্রেস জোট বেঁধে বিজেপির বিরোধিতা করবে।এই জোট গঠন হলে বিজেপি কিছুটা সুবিধা হয়ত পাবে কারণ সেক্ষেত্রে উত্তরপ্রদেশ রাজনীতির দুই চিরশত্রু মায়াবতী ও মুলায়ম সিং যাদবের এক জোট হওয়া নিয়ে নরেন্দ্র মোদী প্রচার করতে পারবেন। কিন্তু, পাশাপাশি, এই জোটের ফলে লোকসভায় বেশ কয়েকটি আসন হারাতে হতে পারে বিজেপিকে।

রাজস্থান, গুজরাট, মধ্যপ্রদেশে আর নতুন করে উত্থানের কোনও জায়গা নেই বিজেপির। এই তিনটে রাজ্যেও ডজন খানেক আসন হারতে হবে বিজেপিকে।

body1_051618013915.jpgকংগ্রেস কর্নাটকে সরকার গঠন করতে এতটাই মরিয়া যে জোট সরকারেও শরিক দলের নেতা কুমারস্বামীকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মেনে নিচ্ছে

সরকার গঠন করতে পারুক বা না পারুক, কর্নাটকের ফলাফল কিন্তু ২০১৯ নির্বাচনে দক্ষিণ ভারতে বিজেপির কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। এই ফলাফল থেকেই পরিষ্কার কেন রজনীকান্ত বিজেপির দিকে ঝুঁকেছেন। ২০১৯ সালে তিনি যদি সত্যি সত্যি সংসদীয় নির্বাচনে প্রবেশ করেন তাহলে তামিলনাড়ুতে ভালো ফলের আশা করতেই পারে বিজেপি।

কর্নাটক নির্বাচনের পর বিজেপিকে কিন্তু নতুন করে নীতি নির্ধারণ করতে হবে। এই নির্বাচনে বিজেপির সঙ্গে দুর্নীতিপরায়ণ রেড্ডি ভাতৃদ্বয় ছিল। বিজেপির ভাগ্য ভালো কর্নাটকে কংগ্রেস সহ বিজেপির বাকি বিরোধীরাও দুর্নীতিতে কম যায় না। কিন্তু ২০১৯ নির্বাচনের আগে বিজেপিকে যোগ্য লোকজন খুঁজে বের করতে হবে। এই বিষয়টি মাথায় রেখে কিন্তু সম্প্রতি নিজের মন্ত্রিসভার রদবদল করেছেন মোদী।

কর্নাটকে মরণ-বাচন লড়াই শুরু করেছিলেন রাহুল গান্ধী।এর ফলে কংগ্রেস বেশ কয়েকটি আসন হারাল আর তাঁর প্রধানমন্ত্রী হওয়ার লক্ষও খানিকটা ক্ষতিগ্রস্ত হলো।

জেডি(এস)-কে নিঃশর্ত সমর্থন জানিয়ে কংগ্রেস কিন্তু নিজের দুর্বলতাই তুলে ধরল। ইতিমধ্যেই, কংগ্রেসের সম্ভাব্য শরিকরা তা বুঝে গেছে। এই পদক্ষেপের খেসারত কিন্তু কংগ্রেসকে ২০১৯ নির্বাচনে বহন করতে হতে পারে।

লেখাটা পড়ুন ইংরেজিতে

If you have a story that looks suspicious, please share with us at factcheck@intoday.com or send us a message on the WhatsApp number 73 7000 7000

Writer

MINHAZ MERCHANT MINHAZ MERCHANT @minhazmerchant

Biographer of Rajiv Gandhi and Aditya Birla. Ex-TOI & India Today. Media group chairman and editor. Author: The New Clash of Civilizations

Comment