কাতার কবে বলেছে ৭০০ কোটি দেবে? দিলেও কেন বিদেশি ত্রাণসাহায্য নেবে না ভারত

কেরলের জন্য বিদেশি সাহায্য আসেও, তা হলে ভারত তা নেবে না কেন

 |  3-minute read |   23-08-2018
  • Total Shares

কেরলে বন্যাত্রাণ ও পুনর্বাসনের জন্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন চেয়েছিলেন ২,৬০০ কোটি টাকা, তবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পরিস্থিতি দেখার পরে প্রাথমিক ভাবে ৬০০ কোটি টাকা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন। জানানো হয়, এটি প্রাথমিক। প্রয়োজনে আরও অর্থ দেওয়া হবে। ত্রাণের প্রয়োজনে আমদানিকৃত পণ্য থেকে জিএসটি প্রত্যাহার করে নেওয়ার কথাও ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় সরকার।

ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ফোন করেছেন সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর প্রধানমন্ত্রী শেখ মহম্মদ বিন রশিদ আল মাকতৌম।

তিনি ৭০০ কোটি টাকা ত্রাণ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন বলে দাবি করা হয়। সেই দাবি নিয়েও প্রশ্ন ওঠে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ত্রাণ দিতে ইচ্ছা প্রকাশ করে কাতার (৩৫ কোটি টাকা) ও মালদ্বীপ (৩৫ লক্ষ টাকা)। তিরুঅনন্তপুরমের সাংসদ কংগ্রেসের শশী থারুর ইতিমধ্যেই রাষ্ট্রসঙ্ঘে দরবার করেছেন ভারতের পাশে দাঁড়ানোর জন্য। সবই খবরে প্রকাশ। প্রশ্ন হল এই সব খবরের উৎস কী?

রাজ্যের শাসকদল সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এ দিন জানিয়েছেন, ভারত যদি বিদেশি সহায়তা নাই গ্রহণ করে তা হলে আমিরশাহী যে ৭০০ কোটি টাকা সাহায্য করার কথা বলেছিল, সমপরিমাণ অর্থ কেন্দ্রীয় সরকার কেরলকে প্রদান করুক। কেন্দ্রীয় সরকারের একটি বিবৃতি তুলে ধরে সিপিএম দেখিয়েছে, নীতিগত ভাবে কেন্দ্রীয় সরকার বিদেশি সাহায্য চাইবে না, তবে কোনও দেশ সহায়তা করতে চাইলে তা গ্রহণ করতে বাধা নেই দেশের।

বিজেপি বা কংগ্রেস নয়, ভারত দীর্ঘ দিন ধরেই বিদেশের বিপর্যয়ে পাশে দাঁড়ালেও, দেশের বিপর্যয়ে সবিনয়ে বিদেশি সাহায্য প্রত্যাখ্যান করে এসেছে। কেন্দ্রে ইউপিএ সরকারের আমলে যখন সুনামিতে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ, সেই ঢেউ আছড়ে পড়ে তামিলনাড়ুতেও (অন্তত ১২০০ মানুষের মৃত্যু হয়), তখনও বিদেশি অর্থসাহায্য নেয়নি ভারত। কাশ্মীরে ভূমিকম্পের পরেও বিদেশি সাহায্য প্রত্যাখ্যান করেছিল ভারত। উত্তররাখণ্ডে বন্যার সময়েও ভারত একই অবস্থান গ্রহণ করেছিল।

তবে উল্টো অবস্থায় দেখা যায় বিদেশের ক্ষেত্রে। ঘরের পাশে নেপাল-পাকিস্তান-মিয়ানমার-চিন তো বটেই, ফিলিপিন্স, হাইতি এমনকি আমেরিকাকেও সাহায্য করতে দেখা গেছে ভারতকে। যদিও রাশিয়া-আমেরিকার সহায়তাও সাম্প্রতিক অতীতে ভারত গ্রহণ করেনি।

ভারতের এই অবস্থানের দু’টি ব্যাখ্যা হতে পারে। প্রথমত, বিদেশি সাহায্য গ্রহণ না করে ভারত দেখাতে চাইতে পারে যে দেশের অভ্যন্তরে প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলার ক্ষমতা ভারতের রয়েছে। এতে দেশের অভ্যন্তরে আইনশৃঙ্খলা সমস্যা, অর্থাৎ বিচ্ছিন্নতাবাদের মতো সমস্যা কখনও মাথাচাড়া দিলেও আন্তর্জাতিক মহলে ভারত জানাতে পারবে যে দেশের অভ্যন্তরের যে কোনও সমস্যা মোকাবিলা করার ক্ষমতা ভারতের আছে।

আরেকটি কারণ হল কাশ্মীর ও অরুণাচলপ্রদেশ। জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট, এ নিয়ে চিরকালই তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা খারিজ করে এসেছে ভারত। অরুণাচলপ্রদেশকে দীর্ঘদিন তাদের অংশ বলে দাবি করে আসছে চিন। এই অবস্থায় ভারত যদি বিদেশি সহায়তা গ্রহণ করে তা হলে জন্মু-কাশ্মীরের বিপর্যয়ে সাহায্য করতে চাইত পাকিস্তান। অন্য দেশের সাহায্য গ্রহণ করে পাকিস্তানের সাহায্য গ্রহণ না করলে কূটনৈতিক ভাবে অস্তস্তিতে পড়তে হত, সাহায্য নিলেও অন্য সমস্যা হতে পারত।

চিনের সিচুয়ানে ২০০৮ সালে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ভারত যে ভাবে সহায়তা করেছে, ভারতের যে অংশ তারা দাবি করে আসেছ সেই অংশে কোনও বিপর্যয় হলে চিন সেটিকে সুযোগ করে নিয়ে সদ্ব্যবহার করতে পারে। তাই বিদেশি সহায়তা থেকে দূরে থাকাই ভারতের পক্ষে মঙ্গল।

kerala_082218050901_082318071648.jpgকেরলের ত্রাণ ও পুনর্বাসনে বিদেশি সহায়তা চাইছে না ভারত (ছবি: পিটিআই)

সহায়তা গ্রহণ করতে এত সমস্যা থাকলে এই পরিস্থিতিকে জাতীয় বিপর্যয় বলে ঘোষণা করতে সমস্যা কোথায়? এ ক্ষেত্রে সমস্যা হল আইন ও রাজনীতি -- দুটোই। ভারতে এমন কোনও আইন নেই যেখানে কোনও বিপর্যয়কে জাতীয় বিপর্যয় বলে ঘোষণা করা যায়। তাও সরকার যদি তা করে সে ক্ষেত্রে প্রতিটি ক্ষেত্রেই জাতীয় বিপর্যয় ঘোষণার দাবি করতে থাকবে রাজ্যগুলি, তা সামাল দেওয়াই মুশকিল হয়ে যাবে।

If you have a story that looks suspicious, please share with us at factcheck@intoday.com or send us a message on the WhatsApp number 73 7000 7000

Writer

SUMITRO BANDYOPADHYAY
Comment