২০১৯ লোকসভা ভোটে কেন কাউকে সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হিসাবে তুলে ধরছে না বিরোধীরা

কলকাতায় এসে কংগ্রেস সম্বন্ধে কী বললেন ওমর আবদুল্লা?

 |  3-minute read |   29-07-2018
  • Total Shares

অতি সম্প্রতি কলকাতায় এসেছিলেন ন্যাশনাল কনফারেন্সের নেতা তথা জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তিনি বৈঠক করেছেন। সেখানে স্থির হয়েছে, আপাতত কোনও নেতাকেই সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হিসাবে তুলে ধরা হবে না। ভোটের পরে জোটের নেতা স্থির হবে।

body1_072918051604.jpgনবান্নে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ওমর আবদুল্লা (সুবীর হালদার)

ওমর আবদুল্লার সঙ্গে গলা মিলিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। কারণ শুধু তিনি নন, প্রস্তাবিত ফেডারেল ফ্রন্টের সকলেই জানেন যে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে একজনকে তুলে ধরলেই ফ্রন্ট ভেঙে যাওয়ার সমূহ আশঙ্কা রয়েছে। তাই এখন তাঁরা আগে বিজেপিকে সরাতে উদ্যোগী হচ্ছেন। পরে তাঁরা প্রধানমন্ত্রীর নাম নিয়ে ভাববেন।

কেন মুখ ছাড়া লড়বে জোট?

কয়েক দিন আগে রাহুল গান্ধী বলেছিলেন, কেন্দ্রে জোট সরকার গড়া হলে মমতা ও মায়াবতী, প্রধানমন্ত্রী হিসাবে কোনও নামেই তাঁর আপত্তি নেই। বিজেপি ছাড়া সারা দেশে প্রার্থী দেওয়ার ক্ষমতা আছে একমাত্র কংগ্রেসের। দেশে বিজেপির পরাজয় মানে ঘুরিয়ে বলতে হয় তা কংগ্রেসের জয়। সবচেয়ে বড় দল হিসাবে রাহুল গান্ধীই তখন হবেন প্রধানমন্ত্রী পদে স্বাভাবিক প্রার্থী। কিন্তু এখন থেকে তিনি নিজেকে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে তুলে ধরলে বিরোধী জোট শুরুতেই মুখ থুবড়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এর কারণ, আঞ্চলিক দলের নেতারাও এখন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। তৃণমূল এ রাজ্যে প্রচার করছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধানমন্ত্রী হবেন। দিন কয়েক আগে বহুজন সমাজ পার্টির নেতা জয়প্রকাশ সিং বলেছিলেন, বিদেশি রক্ত থাকায় রাহুল প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না, দেশের লোক মায়াবতীকে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন।

রাহুল গান্ধীদের সঙ্গে ওমর আবদুল্লাদের পারিবারিক বন্ধুত্ব রয়েছে। রাহুলের সমর্থন নিয়ে কাশ্মীরে জোট সরকারও চালিয়েছেন ওমর আবদুল্লা। ওমরের বাবা ফারুক আবদুল্লা ছিলেন ইউপিএ জোটের মন্ত্রী। তাই কলকাতায় একটি অনুষ্ঠানে ওমর বলেই দিয়েছেন, বিজেপির সঙ্গে টক্কর দেওয়ার একমাত্র কংগ্রেসেরই আছে। সেই অনুষ্ঠানে অবশ্য বিরোধীদের একজোট হওয়ার ডাক দিয়েছেন ওমর।

বিরোধীরা জানে, রামধনু জোটে কাউকে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে তুলে ধরলে গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে সমস্যা হবে। ধরা যাক মমতাকে সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হিসাবে তুলে ধরা হল। তাতে পশ্চিমবঙ্গের ভোটাররা প্রভাবিত হলেও, অন্যরাজ্যে কোনও প্রভাব পড়বে না। মায়াবতী, কেসিআর প্রমুখের ক্ষেত্রও এ কথা প্রযোজ্য।

কোনও একজনকে সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হিসাবে তুলে ধরলে বিজেপিও তাঁকে আক্রমণ করতে পারবে, কিন্তু কাউকে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে তুলে না ধরলে, ভোট পরবর্তী সময়ের কথা মাথায় রেখে সম্ভাব্য জোটপ্রার্থীদের আক্রমণ নাও করতে পারে বিজেপি। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে, সরকার গড়ার জন্য তখন তাদের সঙ্গী দরকার হবে।

body_072918051734.jpgরাহুল গান্ধীর সঙ্গে বৈঠকে ওমর আব্দুল্লাহ

১৯-এর জনসভার প্রস্তুতি

ইতিমধ্যেই সেন্ট স্টিফেন্স কলেজে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তৃতা বাতিল হয়ে গিয়েছে, তাতে বিজেপির হাত দেখছে তৃণমূল। তবে মমতা দিল্লিতে যাচ্ছেন, সেখানে গিয়ে সোনিয়া গান্ধী তো বটেই, অন্য বিরোধী নেতাদের সঙ্গেও তাঁর দেখা করার কথা। মূলত ২০১৯ সালের জোট নিয়ে আলোচনা হবে।

মহারাষ্ট্রে শিবসেনা-বিজেপি সম্পর্ক যায় যায় অবস্থা। বিজেপি নেতা চন্দ্রকান্ত পাটিল মনপ্রাণ দিয়ে চেষ্টা করছেন যাতে এনডিএ জোটে থেকে যায় শিবসেনা। এর মধ্যেই রাহুল গান্ধী ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুভেচ্ছা জানিয়েছেন উদ্ধব ঠাকরেকে, তাঁর জন্মদিনে।

ডিএমকের প্রধান স্ট্যালিনের বাবা কথা তামিলনাড়ুর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী করুণানিধির আরোগ্য কামনা করেছেন মমতা। দক্ষিণ ভারতে স্ট্যালিনের জনসভাতেও তিনি যাচ্ছেন।

ব্রিগেডের শহিদসভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর দলকে নির্দেশ দিয়েছেন নভেম্বর মাস থেকেই ১৯ জানুয়ারির সভার জন্য প্রস্তুত হতে। আর তিনি নিজেও বসে না থেকে সেই সভাকে ঐতিহাসিক করার জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি শুরু করে দিচ্ছেন।

If you have a story that looks suspicious, please share with us at factcheck@intoday.com or send us a message on the WhatsApp number 73 7000 7000

Writer

SUMITRO BANDYOPADHYAY
Comment