নীতি-জিএসটির বৈঠকে না গিয়ে গান্ধী নিয়ে বৈঠকে মমতা, লাভ মোদীর

পঞ্চায়েত ভোট নিয়ে যখন বিস্তর অভিযোগ, তখন গান্ধী নিয়ে বৈঠকে মমতা

 |  3-minute read |   04-05-2018
  • Total Shares

দেশের আর কোনও সমস্যা নেই। দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা নিয়ে রাষ্ট্রপতি ভবনে বৈঠক হয়ে গেল। ২০১৯ সালের অক্টোবর মাস থেকে মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীর জন্মের সার্ধশতবর্ষ অনুষ্ঠান, সারা দেশ জুড়ে, একেবারে তৃণমূল স্তর পর্যন্ত। অতএব দেশে আর কোনও সমস্যা নেই। এত বড় একটা সমস্যার সমাধান করে এলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

রাজ্যের পঞ্চায়েত নির্বাচন নিয়ে ডামাডোল, কিন্তু ২০১৯ সালের অক্টোবর মাসের কর্মসূচি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। নবীন পট্টনায়ক ছাড়া অন্য কোনও অ-এনডিএ মুখ্যমন্ত্রী গেলেন না। আমন্ত্রিত হওয়া সত্ত্বেও সোনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধী গেলেন না। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গেলেন, শুধু গেলেন না, বৈঠক শেষে সবাই বেরিয়ে যাওয়ার ২০ মিনিট পরে বেরলেন। শুধু তাই নয়, বৈঠক শেষ হওয়ার ২০ মিনিট পরে বেরলেন। শুধু তাই নয়, উপস্থিত বহু আমন্ত্রিতের মধ্যে একমাত্র তিনিই বৈঠকের বিস্তারিত বিবরণ দিলেন সংবাদমাধ্যমকে।

জানা যায়নি, শেষ ২০ মিনিট অন্য কেউ রাষ্ট্রপতি ভবনে উপস্থিত ছিলেন কিনা। কিন্তু এই বৈঠক পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে এতটাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ছিল।

রাতের অন্ধকারে আরও এক ঐতিহাসিক সমস্যার সমাধান করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। চেষ্টা ছিল একেবারে লোকচক্ষুর অন্তরালে সংবাদমাধ্যমকে এড়িয়ে কাজটা সেরে ফেলবার। কিন্তু নাছোড় সংবাদমাধ্যম খুঁজেপেতে রাত ন'টার সময় রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে ৩ নম্বর তিনমূর্তি মার্গে হানা দেয়। এবং দেখা যায়, এমন একটা সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে যাতে রাজ্যে এক লক্ষ মানুষের কর্ম সংস্থান হবে। কিন্তু মমতা কাজটি করতে চেয়েছিলেন গোপনে।

body_050418035105.jpgরাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর এই দিল্লি সফর অত্যন্ত সাধাসিধে

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর এই দিল্লি সফর অত্যন্ত সাধাসিধে। তা হলে বিতর্ক কোথায়? বিতর্ক নয়, রয়ে গেল কয়েকটা প্রশ্ন বা উত্তর পাওয়ায় কৌতূহল। নীতি আয়োগের বৈঠক: অনুপস্থিত ছিলেন মমতা। জিএসটি বৈঠক: অনুপস্থিত ছিলেন মমতা। কৌতূহল হচ্ছে যে এই দুটি বৈঠকের থেকে গান্ধী সার্ধশতবর্ষ নিয়ে বৈঠক কতটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কৌতূহল হল, যখন বিজেপি বিরোধিতায় দেশকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন মমতা, সেখানে এই বৈঠক কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কৌতূহল হল, যখন চন্দ্রশেখর রাও এলেন না, চন্দ্রবাবু নাইডু এলেন না, তখন এই বৈঠক মমতার কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কৌতূহল হল বৈঠক শেষের ২০ মিনিট নিয়ে। কৌতূহল হল, যে বৈঠক থেকে রাজ্যে ১ লক্ষ বেকারের কর্মসংস্থান হয়, সেই বৈঠক সংবাদমাধ্যমে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা কেন। এত সব কৌতূহল নিরসন হওয়া সম্ভব নয়। তবে এই সব কৌতূহল অনুসরণ করে আরও একরাশ কৌতূহল হয়।

২০১৯ সালে কেন্দ্রের নির্বাচন। প্রধানমন্ত্রী মোদীর স্বপ্ন ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তন। আপাতদৃষ্টিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর পথের কাঁটা। স্বাভাবিক ভাবনায় রাজনৈতিক ভাবে এবং প্রশাসনিক ভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চক্রব্যুহের মাঝে ফেলাটা নরেন্দ্র মোদীর রণনীতি হওয়া উচিৎ। কৌতূহল হচ্ছে, সেটা কি আদৌ হচ্ছে?

রাজ্য বিজেপির অন্দরমহল প্রবল ধৈর্যশীল। তারা এখন দু-তিন মাস অপেক্ষায় থাকতে প্রস্তুত। কিন্তু কৌতূহল হচ্ছে মমতার বিজেপি বিরোধিতা এবং মোদীর নিরবতার কোনও সমীকরণ কি আদৌ আছে নাকি পুরোটাই শুধু কল্পনা? নিন্দুকেরা একটা উপসংহারে উপনীত হয়েছেন, এক, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কংগ্রেসের থেকে নিরাপদ দূরত্বে রাখা মোদীর রণনীতি। দুই, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কংগ্রেস ব্যতিরেকে ফেডেরাল ফ্রন্টের দিকে ঠেলে দেওয়া মোদীর রণনীতি। এতে সম্মিলিত ভাবে বিরোধিতার ভিতটা নড়বড়ে হয়ে যাবে।

তা না হয় হল, কিন্তু এই ফাঁদে তিনি পা দেবেন কেন? নিন্দুকেরা বলছেন, এটাই নাকি সমীকরণের সংবেদনশীল জায়গা। যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয় কোনও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যখন-তখন রাজধানীতে যেতে পারেন। কিন্তু একদিকে মমতা দিল্লি সফর, অন্য দিকে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলির আলস্য এবং মোদীর নীরবতা – সবই যেন কেমন কৌতূহলের উদ্রেক করে।

এটা প্রবল কৌতূহলের যে ২০১৯ সালের অক্টোবর মাসে মহাত্মার সার্ধ শতবর্ষ কার নেতৃত্বে পালন হবে, মোদী না মমতা। এর পরেই এই সংক্রান্ত্র আর কটা বৈঠকে মমতা ছুটে যাবেন, আর কটা ক্ষেত্রে বৈঠকের শেষে ২০ মিনিট অতিরিক্ত সময় কাটাবেন মমতা? এক লক্ষ কর্মসংস্থানের মতো জনপ্রিয় সমস্যার আর কতবার গোপনে করবার চেষ্টা করবেন মমতা?

If you have a story that looks suspicious, please share with us at factcheck@intoday.com or send us a message on the WhatsApp number 73 7000 7000

Writer

PRASENJIT BAKSI PRASENJIT BAKSI @baksister

The writer is a veteran journalist.

Comment