তৃণমূল দুর্গে দাঁড়িয়ে মোদী যখন মমতাকে চ্যালেঞ্জ জানালেন

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকে দেওয়াল লিখন পড়ার নির্দেশ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

 |  3-minute read |   18-07-2018
  • Total Shares

কৃষক কল্যাণ সমাবেশের মাধ্যমে দেশের কৃষকদের জন্য সরকারের দেওয়া এযাবৎ সেরা উপহার - নূন্যতম সহায়ক মূল্য বৃদ্ধি - ফলাও করে প্রচার করতে চেয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদী। এই অনুষ্ঠানেই তিনি ২০১৯ সালের নির্বাচনী যুদ্ধের দামামা বাজিয়ে দিলেন।

ত্রিপুরার পথে হেঁটে বাংলার জনগণও যেন তৃণমূল কংগ্রেসকে উৎখাত করে - মেদিনীপুর কলেজ মাঠে একটা বিরাট জনসভায় এই আহ্বান জানান মোদী। মোদীর কথায়, "ক্ষমতার লোভে আদালতের নির্দেশ থেকে শুরু করে দেশের সংবিধান, নির্বাচনী প্রক্রিয়া, সাধারণ মানুষের অনুভূতি এমনকি তাদের ভালো মন্দ সব কিছুই অগ্রাহ্য করে চলেছে তৃণমূল।"

প্রচুর হাততালির মাঝে মোদী জানালেন, "মা, মাটি, মানুষের নাম করে ওরা (পড়ুন তৃণমূল কংগ্রেস) কৃষকদের শোষণ করছে, বিরোধীদের হত্যা করছে এবং দরিদ্রদের উপর অত্যাচার করছে। হাসপাতাল, রাস্তা বা স্কুল এই রাজ্যে কোনও কিছুই সিন্ডিকেটকে টাকা না দিয়ে রূপায়ণ করা যায় না। চিট ফান্ড থেকে শুরু করে আলুর বন্ড যেখানে গরিব কৃষকরেরা উৎপাদন বিক্রি করে, এমনকি কলেজ ভর্তির প্রক্রিয়া সব কিছুই সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে।"

বাংলায় 'সিন্ডিকেট' বলতে এলাকায় গড়ে ওঠা এক দল বেকার দলীয় কর্মীদের বোঝায় যারা খুবই নিম্নস্তরের নির্মাণ সরঞ্জাম নিজেদের ইচ্ছে মত দামে সরবরাহ করে থাকে। বাঙালি মাত্রেই এই সিন্ডিকেট সমস্যায় জর্জরিত এবং এর প্রভাব শিল্প, ব্যবসা, বাণিজ্য এমনকি মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও পড়ছে।

মোদী এই সিন্ডিকেট রাজকে বেআইনি, অসাংবিধানিক এবং অনৈতিক বলে সম্বোধন করে শাসক দলের সঙ্গে এই সিন্ডিকেট ব্যবসার সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেছেন। তাঁর এই বার্তার মাধ্যমে মোদী মানুষের দৈনন্দিন দুঃখ দূরদর্শার কথাই তুলে ধরতে চেয়েছেন।

এর আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই সিন্ডিকেট রাজ নিয়ে সতর্ক করেছিলেন এবং তাঁর দলীয় নেতা-নেত্রীদের এর থেকে দূরে সরে থাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু এতে লাভের লাভ কিছুই হয়নি। এ বছর কলেজ ভর্তির সময়তেও মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময় কলেজের সিট বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আনতে পারার জন্যে মোদী সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে আক্রমণ করেছেন।

body_071818064130.jpgমোদী সিন্ডিকেট রাজকে বেআইনি, অসাংবিধানিক এবং অনৈতিক বলে সম্বোধন করেছেন

রাজ্যের ৪২টি আসনের মধ্যে ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে ২২টি আসন পেতে মরিয়া বিজেপি। তাই মোদী এখন কোনও সুযোগ হারাতে চাইছেন না।

স্বভাবসিদ্ধ ঢঙে মোদী উপস্থিত শ্রোতাদের 'বন্ধুগণ' বলে সম্বোধন করে নিজের ভাষণ শুরু করলেন। এর পরেই তিনি ফুটবল বিশ্বকাপের প্রসঙ্গ উত্থাপন করে উপস্থিত জনতাকে জিজ্ঞেস করলেন যে তারা বিশ্বকাপ উপভোগ করেছেন কি না। বাঙালির ফুটবল প্রেম সম্পর্কে মোদী যথেষ্টই ওয়াকিবহাল। দর্শকদের সঙ্গে জনসংযোগ বাড়াতে তাঁর বক্তব্যে বেশ কয়েকবার বাংলা শব্দ ব্যবহার করলেন তিনি।

মেদিনীপুরের 'ঘরের সন্তান' ক্ষুদিরাম বোস, মাতঙ্গিনী হাজরা ও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের কথাও উল্লেখ করলেন মোদী। দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে বাংলার অবদানের কথা শোনা গেল মোদীর ভাষণে। স্বাধীনতা সংগ্রামের কথা তুলে ধরে পঞ্চায়েত ভোটে যে ভাবে মেদিনীপুরে বিরোধীদের আটকে দেওয়া হয়েছে তার উপমা টানলেন মোদী।

তাঁর ভাষণের এক জায়গায় মোদী বললেন, "বাংলার বীর সন্তানেরা যে ভাবে সন্ত্রাস, গণতন্ত্র হত্যা ও ভয়কে জয় করে বিজেপিকে সাহায্য করলেন তার জন্য আমি আপনাদের প্রণাম জানাই।"

২০১৮ সালের মে মাসে অনুষ্ঠিত পঞ্চায়েতে ঝাড়গ্রাম জেলা থেকে ৪২ শতাংশ আসন জিতেছেন বিজেপি। ২০১৯ লোকসভায় ঝাড়গ্রাম, মেদিনীপুর ও ঘাটাল আসনগুলোকে এখন পাখির চোখ দেখছে বিজেপি।

মোদীর ভাষণে কৃষক ও আদিবাসীদের কথাও বলা হয়েছে। আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় প্রচার করতে এসে মোদী আদিবাসীদের অনুভূতি কে হাতিয়ার করতে চেয়েছিলেন। সম্প্রতি দেখা গিয়েছে যে আদিবাসীরা কোনও মতেই শাসকদের সমর্থন করতে চায় না। বিজেপি সেই ফায়দাটাই তুলতে চাইছে।

মোদী তাই ঘরের ছেলেদের ধন্যবাদ জানালেন। যারা মঞ্চের একাংশ ভেঙে পড়ার পরেও ধৈর্য ধরে তাঁর বক্তব্য শুনল।

ওই দুর্ঘটনায় ৩০ জনের বেশি আহত হয়েছে।

উপস্থিত দর্শকদের সুশৃঙ্খল আচরণের প্রশংসা করে মোদী বললেন, "প্যান্ডেল ভেঙ্গে পড়েছে অথচ একটি লোকও নিজের জায়গা থেকে নড়েননি। প্রতিকূল আবহাওয়া, বৃষ্টির মধ্যেও মানুষ মাঠের উপর বসে রয়েছে। আশাকরি দিদি মানুষের সাহস আন্দাজ করতে পেরে দেওয়াল লিখনটা বুঝতে পারছেন।"

এর পর অবশ্য মোদী হাসপাতালে আহতদের সঙ্গে দেখা করতে যান।

If you have a story that looks suspicious, please share with us at factcheck@intoday.com or send us a message on the WhatsApp number 73 7000 7000

Writer

ROMITA DATTA ROMITA DATTA

The writer is Associate Editor, India Today.

Comment