হিন্দুত্ব নয়, এ রাজ্যে প্রচারের জন্য ইস্যুর অভাব নেই বিজেপির
বাজারে যাওয়ার আগে ভাবতে হচ্ছে মাথায় সেতু ভাঙবে নাকি বিস্ফোরণে প্রাণ যাবে!
- Total Shares
অনেকেই বলছেন পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি হিন্দুত্বকে ইস্যু করছে। তাঁরা এই দলটি সম্বন্ধে ঠিকমতো জানেন না। বিজেপি এমন একটি রাজনৈতিক দল যারা হজের জন্য প্রায় ৭০০ কোটি টাকা ভর্তুকি না দিয়ে সেই অর্থে মুসলমান নারীদের শিক্ষার আলোকে আলোকিত করতে চেয়েছে, বিজেপি এমন একটি রাজনৈতিক দল যারা তিন তালাকের বিরোধিতা করে তা নিয়ে অধ্যাদেশ বা অর্ডিন্যান্স জারি করেছে।
মুসলমান মহিলাদের স্বার্থে কাজ করছে বিজেপি (রয়টার্স)
আগে নিয়ম ছিল ৪৫ বছর পার হয়ে গেলে একা কোনও মহিলা হজে যেতে পারবেন না, এখন সেই নিয়ম আর নেই। এখন তাঁরা স্বাধীন ভাবে যেতে পারেন, কোনও বাধা নেই। তা ছাড়া এখন ১২ বছরের কম বয়সী কাউকে ধর্ষণ করলে তার সর্বোচ্চ সাজা এখন ফাঁসি। সব ব্যাপারেই মানুষের সমস্যায় মূলে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে বিজেপি সরকার প্রায় পাঁচ বছরে কেন্দ্রীয় সরকার কী করেছে, সেটা লোকজনকে জানানোই যথেষ্ট।
বিজেপি চায় প্রতিটি মানুষ ঘর পাক, প্রতিটি ঘরে আলো জ্বলুক, প্রতিটি ঘর ও প্রতিষ্ঠানে শৌচালয় থাকুক।
এখন প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকার জন্য অপেক্ষা করতে করতে হয় না, ট্রেনের টিকিটের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হয় না। অনেকে বলছেন সকলে তো আর ইন্টারনেট ব্যবহার করতে জানেন না, সকলের কাছে ইন্টারনেট নেইও। তবে ৫০০ জনের মধ্যে ৩০০ জন যদি ইন্টারনেটের মাধ্যমে ট্রেনের টিকিট কাটেন তা হলেও তো কাউন্টারে লাইন কমবে। এটাই ডিজিটাল ইন্ডিয়ার সুবিধা।
একটা দেশে স্বাধীনতার এত দিন পরে মানুষের মাথায় ছাদ ছিল না, সরকার উদ্যোগী হয়েছে যাতে সকলের বাড়ি থাকে। বাড়ি ও স্কুলে শৌচালয়ের ব্যবস্থা করতে হচ্ছে, বিদ্যুতের ব্যবস্থা করতে হচ্ছে। এখন সে সব হচ্ছেও। লোকে সে সব দেখতে পাচ্ছেন।
হিন্দুত্ব নয়, উন্নয়নই হতে চলেছে প্রচারের অস্ত্র (রয়টার্স)
রেশন কার্ড নিয়ে এ রাজ্যে কী হয়েছে সকলেই দেখেছেন। রেশনের জন্য পাঠানো চাল কালোবাজারে বিক্রি হয়েছে বছরের পর বছর। যাঁরা রাজনীতি ছাড়া অন্য কারণে গ্রামে যান তাঁরা জানেন এ রাজ্যের প্রকৃত চিত্র কী। অথচ এ রাজ্যে বিরোধী দলের কোনও সাংসদ তাঁর সাংসদ কোটার টাকায় এলাকার উন্নয়ন ঘটাতে চাইলে তা তাঁরা সহজে করতে পারেন না।
সুতরাং যাঁরা বলছেন এ রাজ্যে বা দেশে বিজেপি হিন্দুত্বকে ভোটের ইস্যু করছে, তাঁরা ঠিক বলছেন না।
এ রাজ্যে এখন রাষ্ট্রীয় নাগরিক পঞ্জীকরণকে অকারণ রাজনৈতিক রং লাগানো হচ্ছে। এটা ভোটপ্রচারের ব্যাপার নয়। এ রাজ্যের যিনি মুখ্যমন্ত্রী তিনিই সিপিএম আমলে অনুপ্রবেশ নিয়ে অভিযোগ করেছিলেন। এখন তিনি এর মধ্যে রাজনীতি করছেন। আর রাজ্যের কী অবস্থা? একজন ব্যক্তি বাড়ি থেকে বার হওয়ার আগে ভাবছেন তিনি অক্ষত অবস্থায় ফিরবেন তো নাকি মাথায় সেতু ভেঙে পড়বে, নাকি বিস্ফোরণ ঘটবে! কোনও রকম নিরাপত্তা নেই এই রাজ্যে। লোকে এখন বাজারে যেতেই ভয় পাবেন।

