রাজ্য রাজনীতি এখন কোন পথে, শুধুই কি তৃণমূল বনাম বিজেপি?
তাত্ত্বিক আলোচনাতেই মেতে সিপিএম এবং কংগ্রেস নেতারা
- Total Shares
লড়াইটা কি তাহলে বিজেপি বনাম তৃণমূলই হতে চলেছে?
ইন্ডিয়া টুডে কনক্লেভ ইস্ট-এ বিজেপি ১৬টি আসন পাবে নাকি এ রাজ্যের ৪২টি লোকসভা আসনের সবকটিই তৃণমূল কংগ্রেস পাবে, তা নিয়ে ভনায়ক লড়াই বাধল। সেখানে কংগ্রেসের সদ্যপ্রাক্তন প্রদেশ সভাপতিকে রাজ্যে কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ নয়, জিজ্ঞাসা করা হল তাঁর বিজেপিতে যাওয়ার কথা নিয়ে।
ইন্ডিয়া টুডে কনক্লেভ ইস্টের মঞ্চে বাঁ দিক থেকে শতরূপ ঘোষ, অধীররঞ্জন চৌধুরী, মুকুল রায়, সম্বিত পাত্র, চন্দন মিত্র
তাহলে সিপিএম ক’টা আসন পাবে? সাত বছর আগে যারা ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২৩৫টিতে ছিল, এখন তারা জোরের সঙ্গে বলতেই পারল না, তারা অন্তত একটি আসন পারেই। ইন্ডিয়া টুডে কনক্লেভ ইস্ট-এ সিপিএমের প্রতিনিধি ছিলেন শতরূপ ঘোষ, আদপে যিনি ছাত্রনেতা।
পরপর দু’টি মেয়াদ বিজেপির হয়ে রাজ্যসভায় প্রতিনিধিত্ব করা প্রবীণ সাংবাদিক চন্দন মিত্র এখন তৃণমূল কংগ্রেসে। বিজেপে যাঁরা ছাড়ছেন তাঁরা একটা কারণেই ছাড়ছেন: লালকৃষ্ণ আডবাণী ও অটলবিহারী বাজপেয়ীকে দেখেই বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন, এখন সেই নেতৃত্ব নেই, তাই ছেড়েছেন। আর আসন্ন নির্বাচন নিয়ে তাঁর মন্তব্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনপ্রিয়তায় বিন্দুমাত্র চিড় ধরেনি। তাই বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ যে এ রাজ্য থেকে লোকসভা ভোটে ২২টি আসন পাওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন তা তাঁর কাছে কষ্টকল্পনাও নয়।
বিজেপির কেন্দ্রীয় মুখপাত্র সম্বিৎ পাত্র অবশ্য ত্রিপুরার উদাহরণ তুলে ধরেছেন। ত্রিপুরায় আগের ভোটে যেখানে তাদের প্রাপ্ত ভোট ছিল ১.২৫ শতাংশ, সেখানে এ বার ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে ক্ষমতায় এসেছে। তবে এ রাজ্যে যে তাঁদের বিপ্লব দেবের মতো কর্মঠ নেতা নেই, সেই প্রশ্ন তুলে বিপ্লবকে নায়ক বানাতে চাননি অন্য প্রতিদ্বন্দ্বী নেতারা।
বারবার অস্বস্তিকর প্রশ্নের মুখে এ দিন পড়তে হয়ে মুকুল রায়কে। একদিন তাঁর নামে “ভাগ মুকুল ভাগ” স্লোগান তুলেছিল বিজেপি, এখন তিনি বসছেন সেই সিদ্ধার্থনাথ সিংদের পাশে। সিবিআই থেকে বাঁচতেই কি বিজেপিতে ভিড়েছেন? মুকুল সব প্রশ্নের উত্তরেই দেশের আইন দেখিয়ে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। নারদ মামলায় যে ভিডিয়োতে তাঁকে দেখা গেছে সেখানে তাঁকে টাকা নিতে দেখা যায়নি। আর আইন আইনের পথে চলবে।
(বাঁ দিক থেকে) মুকুল রায়, সম্বিত পাত্র, চন্দন মিত্র: লড়াইটা এখন তৃণমূল বনাম বিজেপি, অস্বস্তিকর প্রশ্নের মুখে পড়ছেন মুকুল
দলত্যাগের প্রসঙ্গ উঠতে একেবারে অজয় মুখোপাধ্যায়-জ্যোতি বসুদের থেকে শুরু করে নিজের বিজেপিতে যোগ দেওয়া ব্যাখ্যা করেন।
তিনি মনে করেন রাজ্যের ভোটে বিজেপি ২৪টি আসনও পেতে পারে। এ ব্যাপারে তিনি তাঁর আগের দল তৃণমূল কংগ্রেসের উদাহরণ তুলে ধরেছেন – কী ভাবে ৩০টি আসনের দল থেকে তারা ২০১১ সালে ক্ষমতায় এল।
রাজ্যে কংগ্রেসের অবস্থা কী সেই ব্যাখ্যায় না গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কী ভাবে এ রাজ্যে বিজেপিকে এনেছেন, সেই পুরোনো ব্যাখ্যা নতুন করে শুনিয়েছেন অধীররঞ্জন চৌধুরী। অতিসম্প্রতি তাঁকে সরিয়ে দিয়ে প্রদেশকংগ্রেস সভাপতি করা হয়েছে সোমেন মিত্রকে। এখন কি তিনি দল বদলের কথা ভাবছেন? সেই প্রশ্নের কোনও উত্তর দেননি অধীর।
যে কংগ্রেসের জন্য দেশের এই দুরবস্থা বলে তিনি মনে করেন, সেই কংগ্রেসের প্রাক্তন প্রদেশ-প্রধান যদি বিজেপিতে যোগ দিতে চান তা হলে তিনি কি নেবেন? প্রস্তাব এলে তখন ভাববেন বলে জানান সম্বিত পাত্র।
রাজ্যে পঞ্চায়েত ভোটে হিংসার কথা তুলে ধরেন সম্বিত পাত্র, তিনি একেবারে একটি পত্রিকা তুলে ধরে দেখান কী ভাবে প্রহৃত হয়েছেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। প্রসঙ্গ ওঠে সাঁইবাড়ি হত্যারও।
এ দিন বিজেপি দেখানোর চেষ্টা করে সিপিএমের অত্যাচারের ধারাবাহিকতা, পঞ্চায়েতে গণতন্ত্র হত্যার ট্র্যাডিশন বয়ে চলেছেন বামপন্থী মনোভাবাপন্ন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, যদিও তার তীব্র বিরোধিতা করেন চন্দন মিত্র।
রাজ্যে বিজেপিই যে এখন প্রধানবিরোধী শক্তি সে কথা সকলেই বিনা বিরোধিতায় মেনে নিয়েছেন। কেন রাজ্য গেরুয়া হয়ে যাচ্ছে তার কারণ খোঁজার কথা বলেছেন অধীররঞ্জন চৌধুরী।

