রাজ্যসভাতেও দানা বাঁধল না বিরোধী ঐক্য, কংগ্রেসের ভূমিকা কী হতে পারে?
দু’টি পরপর ঘটনা সংসদের অন্দরমহলে বিরোধী ঐক্যের চেহারাটাকে কঙ্কালসার হিসাবে প্রকট করেছে
- Total Shares
একটা করে দিন পেরচ্ছে এবং ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের দিন সমাগত প্রায়। এখনও লড়াইয়ের দিশা নির্দিষ্ট নয়। একপক্ষ প্রস্তুত নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহের নেতৃত্বে। কিন্তু অপর পক্ষের চেহারা নিয়ে যতই আলোচনা হোক, কায়া কিছুতেই স্পষ্ট হচ্ছে না।
বিরোধী ঐক্যের প্রকাশ্য প্রদর্শনের প্রকৃত মঞ্চ সংসদের অন্দরমহল। কোনও রাজ্য সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানও নয়, অথবা কোনও রাজনৈতিক দলের ধরনা বা জনসমাবেশও নয়। মাঠে-ময়দানে বিরোধীপক্ষের ঐক্য এবং জোটবদ্ধ লড়াইয়ের বিবৃতি আসছে অনেক, কিন্তু কার্যক্ষেত্রে বার বার মুখ থুবড়ে পড়ছে ঐক্যের এই নিনাদ।
राज्यसभा के उप सभापति चुने जाने पर श्री हरिवंश नारायण सिंह जी को बधाई दी। pic.twitter.com/VJhCf6EkR0
— Amit Shah (@AmitShah) August 9, 2018
অতি সাম্প্রতিক কালে দু’টি পরপর ঘটনা সংসদের অন্দরমহলে বিরোধী ঐক্যের চেহারাটাকে কঙ্কালসার হিসাবে প্রকট করেছে, নিম্ন ও উচ্চকক্ষ—দু’টি ক্ষেত্রেই। লোকসভার অনাস্থা প্রস্তাব একটি হাস্যকর পর্যায়ে পর্যবসিত হয়েছে। রাজ্যসভার উপসভাপতি নির্বাচন বিরোধীপক্ষের অনৈক্যের ফাটলকে নগ্ন করেছে। কোন ভরসায় এবং কিসের ভরসায় এবং কোন নীতির ভিত্তিতে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে সুসংহত বিরোধী ঐক্য প্রকট হবে, সেটাই এখও স্পষ্ট নয়।
উপরাষ্ট্রপতি বেঙ্কাইয়া নাইডু ও সদ্য নির্বাচিত রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যান হরিবংশ নারায়ণ সিং
বিরোধীপক্ষের সামগ্রিক ঐক্যের বদলে অনেক বেশি নজর উত্তরপ্রদেশে সমাজবাদী পার্টি এবং বহুজন সমাজপার্টির প্রতি। ভাবটা এমন যে ৮০ আসন বিশিষ্ট উত্তরপ্রদেশে এই দুই দলের আসন সমঝোতা সম্পন্ন হতে পারলে যেন মোদী সরকারের পতন নিশ্চিত।
কিন্তু ধ্বংসের পরে একটি সৃষ্টির অধ্যায় আছে। সেই সৃষ্টির রূপরেখাটি কী হবে? মায়াবতী বা অখিলেশ যাদব যদি বাজি মাত করতে পারেন, তা হলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবস্থান কী হবে?
ভারতে সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাস বলছে যে মায়াবতী ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি বিশ্বাসযোগ্য না হয়ে থাকেন তা হলে কংগ্রেসও কিছু কম যায় না। চৌধরী চরণ সিং, চন্দ্র শেখর, এইচডি দেবেগৌড়া এবং ইন্দর কুমার গুজরাল—কংগ্রেসের অবিশ্বাসের বিস্তৃত ইতিহাস আছে ভারতের রাজনীতিতে।
তাই জনমানসের মধ্যে একটি প্রশ্ন আছে, যদি কর্নাটকের সূত্র ধরে এবং পুরোনো ইতিহাস মেনে কংগ্রেস যদি কোনও জোট সরকারের সমর্থক হয়ে উঠতে বাধ্য হয়, তা হলে দেশ কি আবার অনিশ্চয়তার অতলে ডুবে যাবে?
রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যানকে অভিনন্দন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর
এই অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তির একমাত্র রাস্তা হিসাবে কংগ্রেস মনে করে তাদের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা। কংগ্রেসের শিরা-ধমনীতে জোট রাজনীতি এখনও তেমন ভাবে জায়গা করে নিতে পারেনি, যতই তারা প্রকাশ্যে দাবি করুন না কেন। উল্টোদিকে বরং বিজেপির পূর্বসূরি জনসঙ্ঘ ঐতিহাসিক জোট রাজনীতির সঙ্গী হিসাবে নিজেদের প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। ভারতের স্বার্থে একটি ২৫ বছরের রাজনৈতিক দল তাদের অস্তিত্ব বিলীন করে নতুন দলে সমিল হয়েছে।
১৯৫২ সালে তৈরি হওয় জনসঙ্ঘ ইন্দিরা গান্ধীর কুশাসন থেকে দেশকে মুক্ত করতে জয়প্রকাশ নারায়ণের নেতৃত্বে ১৯৭৭ সালে জনতা পার্টিতে বিলীন হয়ে গিয়েছিল। সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে এই ঐতিহাসিক আত্মত্যাগ, তাও আবার স্বাধীন ভারতে, কোনও রাজনৈতিক দল দেখাতে পারেনি।
আজ যদি ভারত সত্যিই ১৯৭৭ সালের মতো সঙ্কটময় পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গিয়ে থাকে, তা হলে দেশবাসী অবশ্যই কংগ্রেসের কাছ থেকে কোনও একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ আশা করবে।
মাত্র আট মাস বাদে নির্বাচন। কংগ্রেস তার পুনরুত্থানে মনোনিবেশ করেছে। বিরোধীপক্ষ পৃথক পৃথক ভাবে নিজেদের রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা চরিতার্থ করতে আঞ্চলিক অঙ্ক কষতে ব্যস্ত। পরিণতিতে সংসদের ভিতরে লোকসভা নির্বাচনের প্রাক্কালেও আরও বেশি শক্তি প্রদর্শন করতে সক্ষম হয়েছে সরকারপক্ষ।
श्री हरिवंश जी को राज्यसभा का उपसभापति चुने जाने पर हार्दिक बधाई और शुभकामनाएं।
— Nitish Kumar (@NitishKumar) August 9, 2018
নির্বাচনের আগে সম্ভবত সংসদের ভিতরে আর কোনও সুযোগ বিরোধী পক্ষের হাতে আসবে না যা দিয়ে তারা তাদের সঙ্ঘবদ্ধ চেহারাটিকে দেশবাসীর সামনে তুলে ধরতে পারে। সামনে প্রচুর জনসভা আসবে। সেখানে বহু নেতৃত্বের উদ্বাহু চিত্র সংবাদমাধ্যমের প্রথম পাতায় ছাপা হবে। কিন্তু লড়াইয়ে একপক্ষ নির্দিষ্ট থাকলও অপরপক্ষ যে কে অথবা কারা, সেটা এখনও দেশবাসীর কাছে স্পষ্ট নয়।

