নওয়াজ শরিফের আদিবাড়ি ভারতে, সেই গ্রামের বাসিন্দারা আজও তাঁকেই সমর্থন করেন
আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ইমরান, কিন্তু এই গ্রামে সবচেয়ে বেশি আলোচিত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী
- Total Shares
সমগ্র পাকিস্তান যখন নির্বাচন যুদ্ধে মত্ত তখন ভারতের উত্তর পশ্চিম সীমান্তের কাছে অবস্থিত একটি গ্রামে উত্তেজনার কোনও অন্ত ছিল না। এই গ্রামের বাসিন্দারা বরাবরই দু'দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক যাতে অটুট থাকে তার হয়ে সওয়াল করে থাকেন। গ্রামটি পঞ্জাবের তোরণতর্নে অবস্থিত, নাম জাতি উমরা।
গুগল ম্যাপ থেকে
পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের ভিটে মাটি ছিল ভারতের এই গ্রামে। ১৯৪৭ সালের দেশভাগের সময় শরিফরা সেই ভিটে মাটি ত্যাগ করে পাকিস্তানে চলে যান। শরিফ পরিবার পাকিস্তানে চলে যাওয়ার পরে তাঁদের আদি বাড়িতে একটি গুরুদ্বার তৈরি করা হয়েছে। তবে এই গ্রামে নওয়াজের ঠাকুরদা মিয়াঁ মহম্মদ বকশের কবর আজও রয়েছে।
দেশভাগের পরে (ইন্ডিয়া টুডে)
গ্রামবাসীদের সঙ্গে নওয়াজ শরিফের পরিবারের সম্পর্ক বর্তমানেও অটুট। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য, এই সম্পর্ক অটুট থাকার পিছনে প্রধান কারণ গ্রামের উন্নয়ন।
অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি যে দেশভাগের পরেও শরিফ পরিবার এই গ্রামের উন্নয়নের জন্যে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছিলেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই বয়ঃজ্যেষ্ঠ গ্রামবাসী জানালেন যে ২০১৩ সালে নওয়াজের ছোট ভাই তথা পাকিস্তানের পঞ্জাব প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এই গ্রামে এসেছিলেন। সেই সময় তিনি এই গ্রামের সার্বিক উন্নয়নের জন্য পঞ্জাবের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী প্রকাশ সিং বাদলকে অনুরোধ করেছিলেন।
বাদল-পরিবারের সঙ্গে দেখা করলেন শাহবাজ শরিফ
এই অনুরোধে সাড়া দিয়ে প্রকাশ সিং বাদল সংশ্লিষ্ট বিভাগকে গ্রামের প্রতিটি রাস্তা পাকা করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। এর মধ্যে অবশ্য শরিফের ঠাকুরদা কবরস্থানের রাস্তাটাও ছিল। এই গ্রামে এখন নিজস্ব নিকাশি ব্যবস্থা রয়েছে। এ ছাড়া এই গ্রামে একটি রাত্রিকালীন আবাস ও একটি স্টেডিয়ামও রয়েছে।
গ্রামের পঞ্চায়েত প্রধান দিলবাগ সিং সান্ধু জানালেন, "শরিফ পরিবারের সঙ্গে এই গ্রামের সম্পর্ক আদতে এই গ্রামের উন্নয়নে সাহায্য করেছে। শরিফ পরিবারের সদস্যদের জন্যই রাজ্য সরকার এই গ্রামের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য অর্থ বরাদ্দ করেছে।"
কিন্তু তার মানে এই নয় যে এলাম দেখলাম জয় করলামের মতো শরিফ পরিবার শুধুই এই গ্রামে এসে উন্নয়নের কথা বলে ফিরে গেছেন। শরিফদের উপসাগরীয় দেশগুলোতে যে ব্যবসা রয়েছে সেই ব্যবসায় এই গ্রামের ২৪ জন মতো লোককে তাঁরা নিয়োগ করেছেন।
শরিফরা এই গ্রামে এতটাই প্রভাব বিস্তার করেছেন যে গ্রামবাসীরা এখনও শরিফকেই পাকিস্তানের মসনদে দেখতে চান যাতে পঞ্জাব সরকারের উপর প্রভাব বিস্তার করে গ্রামটির আরও উন্নতি সাধন করা যায়। বাদলের আমলে পঞ্জাব সরকার তো এতটাই শাহবাজ শরিফের উপর প্রভাবিত হয়েছিলেন যে পঞ্জাব সরকার তো পাকিস্তানের পঞ্জাবকে বিদ্যুৎ বিক্রিরও আগ্রহ প্রকাশ করেছিল। পরে, অবশ্য বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ায় সেই প্রকল্প বাতিল করতে হয়।
তবে শরিফদের অনুরোধে বাদল সরকার এই গ্রামে যে উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলো রূপায়ণ করেছিলেন তা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেকটাই ফিকে হয়ে গেছে। সেই সময় রাস্তাগুলো তৈরি হয়েছিল তা সবই ভেঙ্গে গেছে। তাই তো গ্রামবাসীরা আজও নতুন করে উন্নয়নের দাবি করছে।
এই গ্রামের বাসিন্দারা এখন আশায় বুক রয়েছে যে একদিন না একদিন সীমান্তের ওপারে শরিফদের ভাগ্যোদয় হবে এবং এর পর শরিফ পরিবারের কেউ না কেউ তাঁদের ফেলে যাওয়া ভিটে মাটি দেখতে এই গ্রামে আসবেন। আর শরিফ পরিবারের সেই সফরের পর এই গ্রাম আবার উন্নয়নের মুখ দেখবে।

