পঞ্চায়েতে নিরাপত্তার ভারী বন্দুক এখন অন্যের কাঁধে রাখতেই ব্যস্ত সকলে
জনগণেশের প্রচণ্ড চাপ, আরও বেশি চাপে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সব স্তরের কর্মী-আধিকারিকরা
- Total Shares
পরিবর্তনের ঠিক সাত বছর।
২০১১ সালের এই দিনই ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে বাংলার মানুষ আস্থা জ্ঞাপন করেছিল তৃণমূল কংগ্রেসের উপরে। মা মাটি মানুষকে প্রণাম। টুইট করেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যে ত্রিস্তর পঞ্চায়েত ভোটের ঠিক আগের দিন।
On this day in 2011, the people of #Bengal reposed their faith on @AITCofficial and put an end to 34 years of CPI(M) rule. I bow to Maa, Mati, Manush on this occasion. #SevenYearsOfPoriborton
— Mamata Banerjee (@MamataOfficial) May 13, 2018
রাজ্যজয়ের সাত বছর পরে জনাদেশের জন্য অবশ্য ধৈর্য ধরতে চাইছিল না রাজ্যের শাসকদল। উন্নয়ন থমকে যাওয়ার আশঙ্কায় তারা বিরোধীদের প্রার্থী হতেই দিচ্ছিল না ৩৪ শতাংশের বেশি আসনে। সে সব তো পুরোনা কথা। নতুন কথাটা হল, এ রাজ্যে এখন নিরাপেক্ষ নির্বাচনের জন্য কেউ দায়বদ্ধ থাকতে চাইছে না। সকলেই চাইছে অন্যের ঘাড়ে বন্দুক রেখে কোনও ক্রমে এ যাত্রা পার হয়ে যেতে।
ভোটের প্রচার শেষ হওয়ার ২৪ ঘণ্টা আগে ভাঙড়ে যে হিংসা হয়েছে, তাতে এক জনের মৃত্যু এ রাজ্যের পঞ্চায়েত ভোটের নিরিখে খুব একটা বড় ঘটনা নয়, কিন্তু ভোটের দিনে এমন ঘটনা যদি ঘটে এবং ক্ষতিপূরণ যদি দিতেই হয়, তা হলে সেটি কার বেতন থেকে যাবে? নিরাপত্তা নিয়ে একদিন যাঁরা সব ঠিক হ্যায় বলেছেন আর শাসকদলের সঙ্গে গলা মিলিয়ে মঞ্জুর হ্যায় বলে মাথা নেড়েছেন, এখন তাঁরাই চিন্তায়।
সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার চিঠি লিখে নিরাপত্তার কথা জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যসচিবকে। ভাঙড়ে হিংসা নিয়ে তিনি নাকি টেলিফোন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাজ্যপুলিশের ডিজির কাছে। দায়িত্ব স্মরণ করিয়ে পুলিশের সদরদপ্তর থেকে চিঠি গেছে জেলাস্তরে, সেখান থেকে তার নীচের স্তরে... এই ভাবে দিস্তা-দিস্তা চিঠি গিয়েছে।
সকলেরই যেন একটাই কথা, কিছু হলে দায় তোমার। লোক মরলে আমার বেতন থেকে যেন টাকা কাটা না যায়। আদালতের রায়ে এখন ঘুম ছুটেছে তাঁদের, বিভিন্ন স্তর থেকে যাঁরা নিরাপত্তা নিয়ে সব ঠিক হ্যায় গোছের রিপোর্ট পাঠিয়েছিলেন।
ছবি সৌজন্যে: rarehistoryphotos.com
আদালত জানিয়ে দিয়েছে, নিরাপত্তা নিয়ে যদি রাজ্য নির্বাচন কমিশন সন্তুষ্ট হয়, তা হলে তাদের কিছু বলার নেই। তারপরেই সার্বিক ভাবে রাজ্য নামক প্রতিষ্ঠানের উপর দায় না রেখে কয়েকজন পদাধিকারী ও ব্যক্তির উপরে সেই দায় ন্যস্ত করে। আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে কেউ গলা তোলার মানেই হল, তিনি নিজের দেওয়া রিপোর্টের উপরে ভরসা করতে পারছেন না। তার উপরে রিপোর্ট একবার আদালতে পেশ করার পরে, কোনও সরকারি কর্মীই বলতে পারবেন না এই রিপোর্ট ভিত্তিহীন। তা হলে তা শ্বেতপত্র প্রকাশের সামিল হবে। যাঁরা নিরাপত্তা নিয়ে রিপোর্ট দিয়েছেন তাঁদের অবস্থা তাই উল্টানো কচ্ছপের মতো।
We strongly protest against this unilateral and autocratic circular lacking transparency issued by the SEC without any meaningful consultation with the stakeholders and demand it's immediate withdrawal. pic.twitter.com/5OoIhsp4kD
— Surjya Kanta Mishra (@mishra_surjya) 13 May 2018
বিরোধীরা এই নিরাপত্তার দায় সংসদীয় রাজনীতির চেনা ছকেই শাসকের দিকে ঠেলেছে শাসকদলের দিকে। শাসকদলের অবস্থান কী, তা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে দিয়েছেন একটি সাক্ষাৎকারে। সেখানে তিনি বলেছেন, শাসকদল কখনও হিংসা চায় না। অর্থাৎ হিংসায় দায় তিনি আবার ঠেলে দিয়েছেন বিরোধীদের দিকে। নিরাপত্তা ঠিকঠাক কিনা তা অবশ্য বোঝা যাবে ভোটগ্রহণের দিনই। এ বার পুলিশ কিন্তু চাইবে যে কোনও ভাবে হিংসা ঠেকাতে। বিরোধীরাও দেখতে চাইবে ভোটপ্রদান পর্ব সত্যিই অবাধ ও নিরপেক্ষ হচ্ছে কিনা।

