সন্ত্রাস না হলে ওই ৩৪ শতাংশ আসনের সবকটিতে প্রার্থী দিতে পারত কোনও একটি বিরোধী দল?

আদালত-আদালত খেলা খেলে মানুষকে বোকা বানাবার ছলনা করাও সন্ত্রাসের মতো অপরাধ

 |  2-minute read |   11-05-2018
  • Total Shares

যাত্রাপালা শেষ। নিশ্চিন্ত রাজ্য নির্বাচন কমিশন। তাদের ঘোষিত দিনেই নির্বাচন। নিশ্চিন্ত শাসকদল। সংখ্যালঘু তোষণের বদনাম আর নিতে হল না। এবার দেখা হবে মাঠে-ময়দানে। রাজনীতি হয় মাঠে-ময়দানেই। রাজনীতি হয় মানুষের বাড়ির চৌকাঠে। রাজনীতিকে আদালতের পরিসরে নিয়ে গেলে খবরের শিরোনামে থাকা যায় কয়েকদিন, কোনও সন্দেহ নেই। কিন্তু বাস্তবে তাতে ভোটদাতাদের কাছে কোনও ইতিবাচক বার্তা পৌঁছায় কি?

আদালত কেন? কেন এত দিনের টানাপোড়েন?

এর আগের নির্বাচনে তৎকালীন রাজ্য নির্বাচন কমিশনের আদালত-যাত্রার প্রেক্ষিত ছিল প্রশাসনিক। কিন্তু এ বার যে ভাবে বিরোধী দলগুলি দল বেঁধে আদালতে পৌঁছে গেল তার প্রেক্ষাপট বেশ কিছু প্রশ্নের উদ্রেক করে।

বহুদলীয় গণতন্ত্রে বিরোধী রাজনীতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। মানুষ পর্যবেক্ষণ করে, এমনকি সরকারের নীতি নির্ধারণে অনেক সময়ই দিশা নির্দেশ করে বিরোধী রাজনীতির গতিপ্রকৃতি। পঞ্চায়েত নির্বাচনের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলার মাটিতে বিরোধী রাজনীতির কঙ্কালসার চেহারা প্রকট হয়েছে মাত্র।

bakshi-body2_051118075640.jpg

ভোটের প্রচারে সিপিএম রাজ্যসম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র

অজুহাত অনেক আছে। রাজ্যের পঞ্চায়েত আইন অনুসারে রাজ্যের নির্বাচন কমিশন ঠুঁটো জগন্নাথ। পুলিশ সরকারের হাতে। ইত্যাদি ইত্যাদি। এগুলো নতুন কথা কি! এ সবের মধ্যে থেকে বাংলার বিরোধীরা কোন ইতিবাচক এবং উৎসাহবর্ধক বার্তা রাজ্যের মানুষকে দিতে পেরেছেন? বহু বছর আগে সিপিএম নেতা প্রয়াত অনিল বিশ্বাস এক বিবৃতিতে বলেছিলেন, “বিরোধীরা প্রার্থী দিতে পারেনি তো আমরা কী করব?” আজকের শাসকদলও একই বিবৃতি দিচ্ছে। সত্যি কথা বলতে কি, এই বিবৃতির কোনও পাল্টা জবাব আছে কি?

এই মুহূর্তে যে কোনও অনুকুল পরিস্থিতিতে রাজ্যের সবকটা পঞ্চায়েত আসনে প্রার্থী দেওয়ার মতো কোমরের জোর কোনও একটা বিরোধী রাজনৈতিক দলের আছে কি? নেই। আগে এই বাস্তবটা মানতে হবে। আদালত প্রার্থী খুঁজে দেবে না।

প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী আদালতে গিয়েছিলেন। কী আশায়? আদালত রাজ্যের কংগ্রেসের কোন পুনর্জন্ম ঘটিয়ে দেবে? উদ্ধার তো একমাত্র রাজ্যের মানুষই করতে পারবে। অধীর চৌধুরীর কংগ্রেসকে রাজ্যের মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছে। ফিরে আসতে গেলে মানুষকে নিয়েই ফিরে আসতে হবে। টেলিভিশনের পর্দায় সুজন চক্রবর্তী বা রবীন দেব কিছু না কিছু বলছেন। রাজ্যের মানুষের মনে এই সব নামগুলি কোনও ভাবে অনুরণিত হয় কি?

body3_051118075910.jpg

গণতন্ত্রের দাবি কংগ্রেসের

যে কারণে বিপ্লব দেব আজ খবরের শিরোনামে, অনেকটা একই কারণে খবর হয়ে থাকেন দিলীপ ঘোষ। রাজ্যের বিজেপি শুধুমাত্র শূন্যস্থান পূরণ করে চলেছে। এদের প্রত্যেকের পিছন থেকে দলীয়পতাকা সরিয়ে নিলে সকলেই হরিপদ কেরানি। বিরোধী রাজনীতি একটা লড়াই, একটা অধ্যাবসায়, একটা সমর্পন। বিরোধী রাজনীতি মানে শুধু খবরে থাকা নয়।

বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবে যে ৩৪ শতাংশ আসন, যেখানে শাসকদল বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার রাস্তায়, সেখানে শুধুমাত্র সন্ত্রাসের কারণে প্রার্থী দেওয়া যায়নি? নাকি সন্ত্রাসকে অজুহাত করা হয়েছে নিজেদের দুর্বলতা ঢাকতে?

বাংলার রাজনীতিতে সন্ত্রাস একটা চরিত্র। সেটাকে মেনে নিয়েই রাজনীতি করতে হবে। তা হলে এই গেল গেল রব কেন? গত সাত বছরে বাংলায় কোন আন্দোলন হয়েছে? বিষয়ের কি অভাব রয়েছে? আদালতে গিয়ে চোখের জল ফেলার কি মানে আছে? ভাবটা এমন যেন আদালত একটু সক্রিয় হলেই রাজ্যে বিপ্লব ঘটে যাবে। আদালতকে নিয়ে রাজনীতি, সংবাদমাধ্যমকে নিয়ে রাজনীতি দুর্বলতার নজির নয় কি?

bakshi-body1_051118075725.jpg

পঞ্চায়েতের জনসভা বিজেপির রাহুল সিনহার

বিমান-সূর্য-সুজন-রবীন আজকে আস্ফালন করছেন। এই পঞ্চায়েত আইন কাদের তৈরি? কেন তাঁরা আইন বদলের দাবি করছেন না? বাম আমলের পঞ্চায়েত নির্বাচনের অপরাধ নিয়ে একবারও কি তাঁরা অনুশোচনা করেছেন? ক্ষমা চেয়েছেন গ্রামবাংলার মানুষের কাছে? আদালতের এই পদস্খলনের দায় নেই। পঞ্চায়েত আইন পরিবর্তন করে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের হাতে চূড়ান্ত ক্ষমতা তুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে বিজেপি। আদালত-আদালত খেলা খেলে মানুষকে বোকা বানাবার ছলনা করাটা সন্ত্রাসের মতোই অপরাধ।  

If you have a story that looks suspicious, please share with us at factcheck@intoday.com or send us a message on the WhatsApp number 73 7000 7000

Writer

PRASENJIT BAKSI PRASENJIT BAKSI @baksister

The writer is a veteran journalist.

Comment