মোদীকে রাহুলের জড়িয়ে ধরা: সংসদীয় গণতন্ত্রে ইতিহাস সৃষ্টি করতে করতেও করল না
প্রধানমন্ত্রীকে বোকা বানানোর খুশিটা নিজের মধ্যে আবদ্ধ রাখতে পারলেন না কংগ্রেস সভাপতি
- Total Shares
এই দৃশ্য সংসদীয় গণতন্ত্রে সৌজন্যতার একটি নিদর্শন হয়ে উঠতেই পারত। অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে বিতর্ক চলাকালীন সর্বভারতীয় কংগ্রেস কমিটির সভাপতি তথা প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী রাহুল গান্ধী ট্রেজারি বেঞ্চে উপস্থিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী তথা তাঁর রাজনৈতিক বিরোধী নরেন্দ্র মোদীকে জড়িয়ে ধরলেন।
এক প্রবীণ রাজনৈতিকবিদকে তরুন রাজনৈতিক নেতার সত্যিকারের সম্মান জানানোর নিদর্শন হিসেবে এই ছবিটি আদর্শ হয়ে ওঠার কথা।বিশেষ করে, যখন ওই তরুন রাজনৈতিক নেতার নাম রাহুল গান্ধী। যিনি তাঁর উদ্ধত আচরণের জন্য এর আগে বহুবার সমালোচিত হয়েছেন।
একে ওপরের বিরুদ্ধে বিষেদাগার বা পাপ্পু নাম নিয়ে মস্করা - এই দৃশ্য কিন্তু এই ধরণের অনেক নেতিবাচক বিষয় বন্ধ করে দিতে পারত।
দুর্ভাগ্যবশত তা আর হল না। কারণ এই দৃশ্যের অ্যান্টি ক্লাইম্যাক্সে দেখা গেল যে প্রধানমন্ত্রীকে জড়িয়ে ধরে তাঁর সঙ্গে হাত মিলিয়ে রাহুল নিজের আসনে ফিরে গিয়ে বেশ কায়দা করে চোখ মারলেন। ভাবখানা এমন, 'দেখ, কেমন দিলাম!'
ইতিহাস সৃষ্টি হতে হতে হলেও না
এই চোখ মারা দেখলে তো মূর্ছা যেতে হয়।
এই চোখ মারা দৃশ্যকে প্রিয়া প্রকাশ ভারিয়ারও 'মিষ্টি' বলে আখ্যা দিতে পারেননি। কিছুদিন আগে এই প্রিয়ার চোখ টেপার ছবি সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল হয়ে উঠেছিল।
এমনিতে রাজনৈতিক নেতা হিসেবে মোদী ও রাহুল দুজনেই দুই বিপরীত মেরুতে বসবাস করেন। তাঁদের এই জড়িয়ে ধরার দৃশ্য দেখে, তাও প্রায় মিনিট খানেক মতো, অনেকেই মনে করেছিলেন যে ভরতীয় রাজনীতিতে এই দৃশ্য এক নতুন ইতিহাস রচনা করবে। কিন্তু তার পরেই চোখ মারলেন রাহুল। ইতিহাস হয়ে উঠতে উঠতেও এই দৃশ্যটির আর ইতিহাস হয়ে ওঠা হল না।
কিন্তু উত্থানের সঙ্গে সঙ্গেই পতন হল রাহুলের।
যত জলদি দুজনের মধ্যে বরফ জমেছিল তার চাইতে দ্রুত গতিতে দুজনের মধ্যে বরফ গলল। রাজনীতির ময়দানে অপরিণত হওয়ার জন্য মোদীকে বোকা বানানোর খুশিটা আর নিজের মধ্যে আবদ্ধ রাখতে পারলেন না তিনি।লোকসভার অধক্ষ্য সুমিত্রা মহাজন তো পরিষ্কার বলেই দিলেন, সাংসদ ভবনে দেশের প্রধানমন্ত্রীকে জড়িয়ে ধরে একেবারে উচিৎ কাজ করেননি রাহুল। চোখ মারা নিয়েও তিনি রাহুলকে কটাক্ষ করে জানিয়েছেন যে রাহুলের এই আচরণ কোনও মতেই লোকসভার গরিমার সঙ্গে মাননসই নয়।
প্রথমে থতমত খেয়ে বিজেপি নেতৃত্ব পরে দাবি করেছে যে রাহুলের এই আচরণ সত্যিই খুব দৃষ্টিকটু। স্মৃতি ইরানি এক ধাপ এগিয়ে বলেছেন যে এহেন আচরণ করে রাহুল প্রমান করলেন এআইসিসি সভাপতি আগে ভাগে আত্মসমর্পণ করলেন। তিনি বুঝে গেছেন যে তাঁর খেল খতম। বিজেপি সাংসদ কিরণ খের যেমন বলেছেন যে হিন্দি ছবির নায়করা যে ভাবে সাংসদ ভবনে ঢুকছেন সেই ভাবে রাহুলেরও বলিউডে প্রবেশ কইরা উচিৎ।
রেকর্ডে অবশ্য এই আচরণ একটি মূর্খতাপূর্ণ আচরণ হিসেবেই নথিভুক্ত হবে। গালালগালি থেকে শুরু করে জুতো ছোড়া এর আগে লোকসভা এই ধরণের অনেক ঘটনার সাক্ষী থেকেছে।
এর পরে অনাস্থা প্রস্তাব প্রক্রিয়া কীভাবে শেষ হবে তা অনুমান করে রাজনীতিবিদদের হৃদস্পন্দন কিছুক্ষনের জন্য স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। চোখ মারার দৃশ্যের পর তাদের সম্বিৎ ফিরল।
বিজিপি নেতৃত্ব স্বস্তির নিস্বাশ ফেলেছিল। তাদের মতে, একমাত্র 'পাপ্পু' রাহুল গান্ধীই পারে এই ধরণের সস্তার প্রচার করতে। উল্টোদিকে কংগ্রেস নেতৃবৃন্দ মনে করছে যে তাদের নেতা ড্রামাবাজ নরেন্দ মোদীকে মোদীর মতো করেই উচিৎ শিক্ষা দিয়েছেন।
মোদী পর্যন্ত বেশ বিড়াম্বনায় পড়েছিলেন। রাহুল যখন এই পঞ্চানন ইঞ্চির ছাতির অধিকারীকে জড়িয়ে ধরে রয়েছেন তখন রাহুলের পিছনে মোদীর মুখ উঁকি মারছিল। সেই মুখ অভিব্যক্তিহীন ও বিহ্বল। রাহুল ফিরতি পথ ধরার সময় মোদীর আর খুব বেশি কিছু করবার ছিল না। তাঁকে দেখে পাঠিয়ে হাত মিলিয়ে একটি স্মিথ হাস্য হাসা ছাড়া।
পাপ্পু কে নিয়ে যতই মজা করা হোক না কেন, এই দৃশ্য দেখে অনেকেই বিশ্বাস করতে শুরু করে দিয়েছিলেন যে ২০১৯ সালে তিনিই পারবেন মোদীর স্থলাভিষিক্ত হতে।
কিন্তু উত্থানের সঙ্গে সঙ্গেই পতন হল রাহুলের।
উত্থানের সঙ্গে সঙ্গেই পতন হল রাহুলের
যত জলদি দুজনের মধ্যে বরফ জমেছিল তার চাইতে দ্রুত গতিতে দুজনের মধ্যে বরফ গলল। রাজনীতির ময়দানে অপরিণত হওয়ার জন্য মোদীকে বোকা বানানোর খুশিটা আর নিজের মধ্যে আবদ্ধ রাখতে পারলেন না তিনি।লোকসভার অধক্ষ্য সুমিত্রা মহাজন তো পরিষ্কার বলেই দিলেন, সাংসদ ভবনে দেশের প্রধানমন্ত্রীকে জড়িয়ে ধরে একেবারে উচিৎ কাজ করেননি রাহুল। চোখ মারা নিয়েও তিনি রাহুলকে কটাক্ষ করে জানিয়েছেন যে রাহুলের এই
আচরণ কোনও মতেই লোকসভার গরিমার সঙ্গে মাননসই নয়।
প্রথমে থতমত খেয়ে বিজেপি নেতৃত্ব পরে দাবি করেছে যে রাহুলের এই আচরণ সত্যিই খুব দৃষ্টিকটু। স্মৃতি ইরানি এক ধাপ এগিয়ে বলেছেন যে এহেন আচরণ করে রাহুল প্রমান করলেন এআইসিসি সভাপতি আগে ভাগে আত্মসমর্পণ করলেন। তিনি বুঝে গেছেন যে তাঁর খেল খতম। বিজেপি সাংসদ কিরণ খের যেমন বলেছেন যে হিন্দি ছবির নায়করা যে ভাবে সাংসদ ভবনে ঢুকছেন সেই ভাবে রাহুলেরও বলিউডে প্রবেশ কইরা উচিৎ।
রেকর্ডে অবশ্য এই আচরণ একটি মূর্খতাপূর্ণ আচরণ হিসেবেই নথিভুক্ত হবে। গালালগালি থেকে শুরু করে জুতো ছোড়া এর আগে লোকসভা এই ধরণের অনেক ঘটনার সাক্ষী থেকেছে।

