রাজস্থান নির্বাচন: টিকিট বণ্টন নিয়ে কংগ্রেস মনমরা, আশার আলো দেখছে বিজেপি

রাহুল না চাইলেও উড়ে এসে জুড়ে বসা নেতারা বেশ কয়েকটি আসনে টিকিট পেয়েছেন

 |  3-minute read |   25-11-2018
  • Total Shares

২২ নভেম্বর রাজস্থান নির্বাচনের মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এই দিন ঘোষণার পর থেকেই রাজ্য জুড়ে নির্বাচনী প্রচার এখন তুঙ্গে। রাজস্থানে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ৭ ডিসেম্বর।

কংগ্রেস শিবিরের অনেক সদস্যই মনে করেছেন যে প্রার্থীদের টিকিট দেওয়া নিয়ে অকারণ জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। এই কাজটি সচিন পাইলট কিংবা অশোক গেহলটের উপর ছেড়ে দেওয়া উচিত ছিল।

এই দুই বরিষ্ঠ নেতা অশ্য এখনও পর্যন্ত এই নিয়ে কোনও রকম মন্তব্য করেননি। কিন্তু রাজ্যের বিরোধী দলনেতা রামেশ্বর দুড্ডি নিজের উষ্মা চেপে রাখেননি। তাঁর উষ্মার কারণ, প্রথমে কে এল ঝাঁওয়ারকে টিকিট দিলেও পরে সেই টিকিট প্রত্যাহার করে বিডি কাল্লাকে ঝানওয়ারের পরিবর্তে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কংগ্রেস। ডুড্ডির অনুরোধেই সম্প্রতি কংগ্রেসে যোগ দিয়েছিলেন ঝাঁওয়ার।

এক সময়ের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বী ঝাঁওয়ারকে নিয়ে রীতিমতো আতঙ্কে ছিলেন দুড্ডি। দুড্ডির আতঙ্কের কারণ, ঝাঁওয়ারকে যদি টিকিট না দেওয়া হয় তা হলে নির্দল প্রার্থী হিসাবে ভোটে দাঁড়িয়ে কংগ্রেসকে চাপে ফেলে দেবেন ঝাঁওয়ার। শেষ পর্যন্ত অন্য একটি আসন থেকে ঝাঁওয়ারকে প্রার্থী করা হয়েছে।

body_112518072057.jpgপ্রার্থী তালিকা ঠিক করতে দেওয়া উচিত ছিল অশোক গেহলট ও সচিন পাইলটকে [ছবি: পিটিআই]

দলত্যাগীদের টিকিট দেওয়া নিয়ে বেশ বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে কংগ্রেস শিবিরে, বিশেষ করে দলের সভাপতি রাহুল গান্ধী যেখানে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে যে 'উড়ে এসে জুড়ে বসা' নেতাদের প্রার্থী করা হবে না। কংগ্রেসের অনেক নেতাই এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত, কারণ তাঁরা এ ব্যাপারে নিশ্চিত যে তাঁদের প্রত্যাশীদের টিকিট না দিলেও কংগ্রেস সিংহভাগ আসন জয়ের ক্ষমতা রাখে।

সংখ্যালঘু রাজনীতি নিয়ে বেশ পরিকল্পনা করেই এগোচ্ছে কংগ্রেস। মোট ১৫ জন মুসলমান নেতাকে টিকিট দেওয়া হয়েছে। এর ফলেও কংগ্রেস শিবিরে মান-অভিমানের সৃষ্টি হয়েছে। রাজ্যের পরিচিত অলঙ্কার ব্যবসায়ী তথা গেহলটের ঘনিষ্ট রাজীব অরোরা যেমন আদর্শ নগর আসন থেকে টিকিট না পেয়ে বেশ ক্ষিপ্ত। এই আসনটি থেকে প্রার্থী করা হয়েছে মদ ব্যবসায়ী রফিক খানকে।

body1_112518072214.jpgকংগ্রেস বসুন্ধরা রাজেকেই আক্রমণের নিশানা করে এগোচ্ছে [ছবি: পিটিআই]

যাই হোক, বেশ কয়েকজন নবীন ও অপরিচিত কংগ্রেস প্রার্থীদের জেতার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

অন্যদিকে, বিজেপি রাজ্যের তরুণ ভোটব্যাঙ্ককে হাতিয়ার করতে চাইছে। দলের সভাপতি অমিত শাহ রাজ্যের কয়েক লক্ষ তরুণ ভোটারকে সঙ্গে ভিডিয়ো কনফারেন্সের মাধ্যমে মত বিনিময় করেছেন। তরুণদের সরকরি প্রকল্পগুলোর কথা বুঝিয়েছেন। তিনি তরুণদের কাছ থেকে জানতে চেয়েছে যে তাঁরা কোন কোন প্রকল্প থেকে লাভবান হতে পারেননি।

রাজে সরকারের প্রকল্পগুলো অবশ্য বেশ ভালো। কংগ্রেস নেতা অশোক গেহলট তা স্বীকার করে নিয়ে বলেছেন ক্ষমতায় এলে কংগ্রেস সেই প্রকল্পগুলো বাতিল করে দেবে না।

বিজেপি আশা করছে যে কংগ্রেস শিবিরের এই টিকিট বিতর্ক এতটাই ছড়িয়েছে যে মানুষ সরকারের ব্যর্থতাগুলো খুব দ্রুত ভুলে যাবে। বিজেপির ব্যাখ্যা, মানুষ বুঝতে পেরেছে এত দলীয় কোন্দল থাকলে ক্ষমতায় এলে কংগ্রেস কী ভাবে কাজ করবে!

শাসক দল মনে করছে অমিত শাহ কিংবা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ রাজ্যে পা দিলেই মানুষের সমর্থন তাদের পক্ষে চলে যাবে। দলের ক্যাডার শক্তি দলকে আবার ক্ষমতায় নিয়ে আসবে বলে আশাবাদী বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব। বিজেপি জানে এখন কোনও রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির হার মানে মোদীর পুনরায় প্রধানমন্ত্রী হওয়ার উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

কংগ্রেস ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে যে রাজস্থানে মোদীর প্রচারের পাল্টা হিসেবে রাহুল গান্ধীকে নিয়ে আসা হবে না, বরঞ্চ তাঁরা এই মুহূর্তে বসুন্ধরা রাজের বিরুদ্ধে অলআউট আক্রমণে যাবে।

(সৌজন্য: মেল টুডে)

লেখাটি পড়ুন ইংরেজিতে

If you have a story that looks suspicious, please share with us at factcheck@intoday.com or send us a message on the WhatsApp number 73 7000 7000

Writer

ROHIT PARIHAR ROHIT PARIHAR @rohit0

The writer is Senior Editor, India Today. He is based in Jaipur.

Comment