বাংলার পরিবর্তন থেকে কী শিক্ষা নিয়ে রাজ্য চালাচ্ছেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী?

মহাভারতের যুগে ইন্টারনেট – ব্যাখ্যা দিলেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব?

 |  3-minute read |   07-10-2018
  • Total Shares

ত্রিপুরায় পঞ্চায়েত ভোটে গণতন্ত্র নষ্ট হয়েছে বলে অনেকে অভিযোগ করছেন। ত্রিপুরায় মোট ৫৮টি ব্লক রয়েছে। বেশ কয়েকটি জায়গায় উপনির্বাচনও হয়েছে। কারও মৃত্যু হয়েছে বলে উপনির্বাচন হয়েছে, এ কথা মনে করার কোনও কারণ নেই। বিধানসভা নির্বাচনের পরে অনেকেই মনে করেন যে তাঁরা যখন বিজেপিকেই ভোট দিয়েছেন, তখন আর তাঁরা অন্য দলের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করবেন না। তাই তাঁরা ইস্তফা দেন।

জয়ী জনপ্রতিনিধি নিজেই চাইছেন না পুরোনো দলে থাকতে। তাই অনেক জায়গায় তাঁরা নিজেরাই ইস্তফা দিয়ে দিয়েছেন। বিধানসভা নির্বাচনেও কমিউনিস্ট পার্টি চার নম্বরে নেমে যায়। সেই জন্যই তারা প্রার্থী দিতে পারেনি। আমার রাজ্যে পঞ্চায়েত ভোটে কোথাও কোনও হিংসার কথা কেউ বলতে পারছেন না, রাজনৈতিক কারণে কারও মৃত্যুও ঘটেনি।

tripura-pti_100718063304.jpgগণতন্ত্র কোন পথে: ত্রিপুরায় পঞ্চায়েত ভোটে কোনও হিংসা হয়নি (পিটিআই)

এখানেই পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে পার্থক্য। পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক হিংসা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে ভারতীয় জনতা পার্টির কতজনের মৃত্যু ঘটেছে? কতজন মানুষ প্রহৃত হয়েছেন? বাড়িঘর জ্বালানো হয়েছে।

আমি তো বলেছি, কেউ যদি দেখাতে পারে ত্রিপুরায় নির্বাচনী হিংসায় কারও আঙুল ভেঙেছে তা হলে আমি পদত্যাগ করব! কেউ যদি দেখাতে না পারেন, তা হলে কী ভাবে তাঁরা বলছেন যে আমি হুমকি দিয়েছি?

ত্রিপুরায় কমিউনিস্টদের মুখপত্র বন্ধ করে দেওয়া নিয়েও অনেকে বলছেন। রাজ্যে বাম শাসনকালেই পশ্চিম জেলার জেলাশাসক প্রতিবাদী কলম নামে একটি পত্রিকা বন্ধ করে দিয়েছিলেন একই কারণে। আরএনআই রেজিস্ট্রেশনে যে ঠিকানা দেওয়া ছিল সেটি সেই ঠিকানায় নেই, মালিকানার পরিবর্তন হয়েছে। এই দুটির কোনওটিই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষতে জানানো হয়নি। এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও যোগ নেই। উপযুক্ত বৈধ নথি না থাকাই ওই দুই পত্রিকা বন্ধ হওয়ার কারণ, যার একটি বন্ধ হয়েছে মানিক সরকার ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন।

আমরা ত্রিপুরায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা করছি। আমি মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরে গাঁজা-সহ ৫০,০০০ কেজি মাদক উদ্ধার করেছি। রাজ্যে অপরাধের হার কমেছে, যদিও থানায় এফআইআরের সংখ্যা বেড়েছে। অর্থাৎ লোকে থানায় গিয়ে অভিযোগ জানাচ্ছে, আর পুলিশকে বলে দিয়েছি কোনও নেতা যেন থানায় ফোন করে মামলাটি হালকা করে দিতে বলার সাহস না পায়। এ ব্যাপারে কোনও রাজনৈতিক রং দেখা হচ্ছে না।

biplab-embed_100718063437.jpgইন্ডিয়া টুডে কনক্লেভের মঞ্চে বিপ্লব দেবের ফিটনেস চ্যালেঞ্জ: তরুণ মুখ্যমন্ত্রী চান তাঁর রাজ্যের স্বাস্থ্যও ফিট থাকুক (ইন্ডিয়া টুডে)

এখন আর মামলা হালকা করে দেওয়ার উপায় নেই। তাই অপরাধ কমছে রাজ্য জুড়ে। ত্রিপুরা ছোট রাজ্য, তাই বিশেষ বিশেষ অভিযোগ যেমন, নারী নির্যাতন, পণপ্রথার জন্য অত্যাচার প্রভৃতির সঙ্গে যুক্ত সব মামলার ব্যাপারে আমি নিজে খোঁজ রাখি। নারীদের উপরে অত্যাচারের সংখ্যা এখন কমেছে। নারীদের সুরক্ষাই প্রশাসনের মাপকাঠি। রাজ্যে রাজনৈতিক হানাহানিও নেই। খুনের মামলা, মাদক সংক্রান্ত মামলা, নারী নির্যাতন, জমির দালালি ও জমি মাফিয়া সংক্রান্ত মামলার গতিপ্রকৃতির দিকে আমি নিজে নজর রাখি। এগুলি রাজ্য থেকে নির্মূল করার ব্যাপারে আমি নিজে উদ্যোগী হয়েছি।

পশ্চিমবঙ্গে পরিবর্তনের পরে কী হয়েছে তা দেখে আমি শিক্ষা নিয়েছি। এ জন্য আমি কাউকে দোষারোপ করছি না, তবে ওই ব্যাপারটা যাতে আমাদের রাজ্যে না আসে, সে জন্য আমি ব্যবস্থা করেছি। আমি চাইছি না যে সেই ব্যাপারটা যাতে আমাদের দলকে কোনও ভাবে প্রভাবিত করতে না পারে। রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা বজার রাখার জন্য পুলিশকে স্বাধীন ভাবে কাজ করতে দিয়েছি। কোনও থানা এলাকায় অপরাধ হলে থানার ওসিকে তার জন্য জবাবদিহি করতে হবে বলে জানিয়ে দিয়েছি।

tripura_indiatoday_100718063631.jpegত্রিপুরায় অপরাধ কমেছে, বলছেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব (ফাইল চিত্র)

একই সঙ্গে সরকারি কৌঁসুলিকেও জিজ্ঞাসা করছি অভিযুক্তরা কী ভাবে জামিন পাচ্ছে। কোন অভিযোগে কোন ধারা প্রয়োগ করা হচ্ছে সে দিকেও নজর রাখছি। ত্রিপুরা খুব ছোট রাজ্য বলেই হয়তো সব দিকে নজর রাখা সম্ভব হচ্ছে।

মহাভারতের যুগে ইন্টারনেট ছিল আমি এমন মন্তব্য করেছি বলে প্রচার করা হচ্ছে, এটা ঠিক নয়। আমার মন্তব্যের একটা অংশ তুলে ধরে প্রচার করা হচ্ছে। আমি বলেছিলাম সঞ্জয় যে ধৃতরাষ্ট্রকে কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের বর্ণনা দিচ্ছিলেন তখন সে যুগে ইন্টারনেট ছিল বা তা না থাকলেও অন্যকিছু ছিল। না হলে এ ভাবে বলা সম্ভব হল কী করে? আমার এই বক্তব্যের একাংশ তুলে ধরা হচ্ছে।

আমাদের দেশে প্রাচীন কালে সভ্যতা ছিল, তা যথেষ্ট উন্নত ছিল। সেই ইতিহাসকে মনে রেখেই আমাদের ভবিষ্যতের পথে চলতে হবে। বামপন্থী বুদ্ধিজীবীদের স্বভাব ভারতবর্ষকে হেয় করা। আমি যখন বলেছি অতদিন আগে ইন্টারনেটের মতো কোনও প্রযুক্তি ছিল, তখন সেটা সত্যিই ছিল কিনা, থাকা সম্ভব কিনা সেটা খতিয়ে না দেখে, সে জন্য গর্ববোধ না করে তাকে নস্যাৎ করে দেওয়া হচ্ছে। নিজের দেশকে ছোট করার মানসিকতায় কোনও দিনও প্রতিষ্ঠিত হওয়া যায় না তা রাজনীতির ক্ষেত্রেই হোক, শিক্ষার ক্ষেত্রেই হোক বা শিল্পের ক্ষেত্রে।

If you have a story that looks suspicious, please share with us at factcheck@intoday.com or send us a message on the WhatsApp number 73 7000 7000

Writer

BIPLAB KUMAR DEB BIPLAB KUMAR DEB

Chief Minister, Tripura

Comment