নেহরুর পর বর্ণাঢ্য রাজনীতিক তো বাজপেয়ীকেই বলা যায়

অযোধ্যার সৌধ ধ্বংসের ঘটনায় ক্ষমা চেয়েছিলেন বাজপেয়ী

 |   Long-form |   17-08-2018
  • Total Shares

তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ার গোড়া থেকেই লক্ষ্যনীয়। জনসঙ্ঘ থেকে বিজেপি, জনতা সরকারের বিদেশমন্ত্রী থেকে প্রধানমন্ত্রী, প্রথম অকংগ্রেসী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মেয়াদ পূর্ণ করার ঐতিহাসিক কৃতিত্ব, জোট সরকারের রূপকার, ভারতীয় রাজনীতির চাণক্য ছাড়াও তাঁর নামের পাশে রয়েছে ভারতরত্ন ও পদ্মভূষণ।

তরুণ সংসদ সদস্য অটলবিহারী বাজপেয়ীর বক্তৃতা শুনে দেশের ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রীকে দেখতে পেয়েছিলেন জওহরলাল নেহেরু। এর ৩৮ বছর পর বিজেপি সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তিনি। দুর্ভাগ্যবশত ১৯৯৬ সালের সেই সরকারের পতন হয় ১৩ দিনে, কাগজেকলমে আরও কয়েক দিন ছিল নতুন প্রধানমন্ত্রী শপথ না নেওয়া পর্যন্ত। কিন্তু জাতীয় নেতার উত্থানের সাক্ষী ছিল গোটা দেশ।

tapan_1_081718042603.jpg

তারুণ্যে অটলবিহারী বাজপেয়ী (ইন্ডিয়া টুডে)

পরবর্তীতে ১৯৯৮ সালে দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হন, দায়িত্ব পালন করেন ১৯ মাসের চেয়ে কয়েকদিন কম, যদিও সরকারের পতন হয়েছিল আগেই। তরুণ অটলের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় আর্য সমাজে। ওই সংগঠনের যুব শাখা আর্য কুমার সভার তিনি সাধারণ সম্পাদক হন। এর পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠতা বাড়ছিল তাঁর। বাবাসাহেব আপ্টের হাত ধরে স্বয়ং সেবক হিসেবে যোগ দেন আরএসএসে। সঙ্ঘের প্রশিক্ষণ শিবিরেও ছিলেন তরুণ অটলবিহারী। এরপর পূর্ণসময়ের কর্মী হিসেবে যোগ দেন আরএসএসে।

এই সব কিছুর মধ্যেই রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর হন অটলবিহারী বাজপেয়ী। তখনকার দিনে প্রথম শ্রেণীতে স্নাতকোত্তর হওয়া তাঁর মেধার পরিচয়বাহী। বিস্তারক হিসেবে তাঁকে উত্তর প্রদেশে পাঠায় আরএসএস। দীনদয়াল উপাধ্যায়ের রাষ্ট্রধর্ম পত্রিকায় কাজ শুরু করেন। একই সঙ্গে লেখালিখি চলতে থাকে পাঞ্চজন্য-সহ অন্য পত্রিকাগুলিতেও। বাজপেয়ী রাজনৈতিক পাঠ নিয়েছিলেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, দীনদয়াল উপাধ্যায় প্রমুখের কাছে। প্রথমদিকে হিন্দু পুনরুত্থানবাদী রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের প্রচারক হিসেবে কাজ শুরু করে পরবর্তীতে সঙ্ঘেরই রাজনৈতিক দল জনসঙ্ঘের সদস্য হন। ১৯৪৮-এর ৩০ জানুয়ারি নাথুরাম গডসের হাতে গান্ধীর হত্যার পর দেশ জুড়ে নিষিদ্ধ হয় আরএসএস। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জনসঙ্ঘে যোগ দেন বাজপেয়ী। ১৯৫৪ তে কাশ্মীরে শ্যামাপ্রসাদের কাশ্মীর যাত্রার আগে তাঁর সঙ্গে ছিলেন দুই তরুণ অটলবিহারী বাজপেয়ী ও লালকৃষ্ণ আডবাণী।

গোয়ালিয়ের আর পাঁচটা সাধারণ পরিবারের ছেলের মতোই বড় হয়ে উঠেছিলেন তিনি। বাবা স্কুল শিক্ষক কৃষ্ণবিহারীও কবি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর কাছ থেকেই ছন্দের অনুরাগ পেয়েছিলেন অটল। বাবা আর ছেলে একই সঙ্গে আইন পড়েছেন একই বর্ষের ছাত্র হিসাবে, থাকতেনও একই হস্টেলে।

vajpayee_pti_081718042702.jpegঅটলবিহারী বাজপেয়ী (ইন্ডিয়া টুডে)

দীনদয়াল উপাধ্যায়ের মৃত্যুর পর জনসঙ্ঘের দায়িত্ব পান অটল। সঙ্গে ছিলেন বন্ধু লালকৃষ্ণ আডবাণী। দলীয় এই সতীর্থকে দিয়ে দিল্লির রিগ্যাল সিনেমা হলে বহু নতুন সিনেমার প্রথম দিনের প্রথম শো দেখতে যেতেন কবিতা প্রেমী, পুস্তক প্রেমী অটল। ১৯৭৫ সালে জরুরি অবস্থার সময়ে অন্য বিরোধী নেতাদের সঙ্গে গ্রেফতার হন বাজপেয়ী।

জয়প্রকাশ নারায়ণের ডাকে সাড়া দিয়ে কংগ্রেস বিরোধী জনতা দলে যোগ দেয় জনসঙ্ঘও। ৭৭-এর ভোটে ক্ষমতায় আসে জনতা দল। মোরারজি দেশাইয়ের মন্ত্রিসভায় বিদেশমন্ত্রী হন বাজপেয়ী। সেই সরকার বেশিদিন চলেনি। এরপর জনসঙ্ঘ থেকে তৈরি হল নতুন দল ভারতীয় জনতা পার্টি। জনতা সরকারের পতনের পর বাজপেয়ী-আডবাণী জুটির উদ্যোগেই জন্ম নেয় নতুন এই দল।

সাফল্য খুব তাড়াতাড়ি আসেনি। প্রথমবার মাত্র দু’টি আসন জেতে বিজেপি। ভিত শক্ত হয় অযোধ্যায় রাম মন্দির নির্মাণ আন্দোলনে ভর করে। বাজপেয়ীকে মুখ করে ১৯৯৬-এর ভোট লড়ে পদ্ম শিবির। ইউনাটেড ফ্রন্ট সরকারও বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। ১৯৯৮ সালে বেশ কয়েকটি আঞ্চলিক দল নিয়ে এনডিএ জোট তৈরি করে বিজেপি।

১৯৯৮ সালের মে মাসে পোখরানে পারমাণবিক বোমা পরীক্ষা করে ভারত। পাকিস্তানের সঙ্গে মৈত্রী বাড়াতে দিল্লি-লাহোর বাসযাত্রাও শুরু করেন বাজপেয়ী। এ সবের মাঝেই ঘরে-বাইরে দানা বাঁধছিল বিদ্রোহ। ১৯৯৯-এর মে মাসে হঠাৎ জোট ছেড়ে দেন জয়ললিতা। ১৩ মাসের মাথায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায় বাজপেয়ী সরকার। অন্যদিকে কাশ্মীর সীমান্তে অনুপ্রবেশ। শুরু হয়ে যায় কার্গিলের যুদ্ধ। সেই যুদ্ধ জয়ের পর বিপুল ভোটে জিতে ক্ষমতায় আসে এনডিএ।

পাঁচ বছরের শাসনকালে একাধিক আর্থিক সংস্কার করেন প্রধানমন্ত্রী বাজপেয়ী। চালু হয় প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনা, সর্বশিক্ষা মিশনের মতো প্রকল্প। সোনালি চতুর্ভুজ প্রকল্পে গোটা দেশকে একসূত্রে বাঁধার কৃতিত্ব বাজপেয়ীর। তবে শুধু পদ্মের পাপড়িই নয়, কাঁটাও ছিল এই পাঁচ বছরে। তেহলকা দুর্নীতি, গুজরাট হিংসার মতো ঘটনাও ঘটেছে। ২০০৪ সালে বাজপেয়ীর শাইনিং ইন্ডিয়াকে হারিয়ে ক্ষমতায় আসে ইউপিএ সরকার। শেষ হয় অটলযুগের। আর ফেরেননি বাজপেয়ী। ২০০৫ সালে রাজনীতি থেকে অবসর নেন। ২০০৯ সালে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। তারপর কার্যত গৃহবন্দি।

অটলবিহারী বাজপেয়ী সংসদের দু’কক্ষে মোট ১২ বার নির্বাচিত হয়েছিলেন। রাজ্যসভায় দু’বার এবং লোকসভায় ১০ বার। কিন্তু এর বাইরেও তাঁর দখলে রয়েছে এমন এক নজিরবিহীন রেকর্ড, যা ভারতের আর কোনও রাজনীতিকের নেই। ১৯৫৭ সালে প্রথমবার সাংসদ হিসাবে নির্বাচিত হওয়া থেকে সব মিলিয়ে ১২ বার, তিনিই এক মাত্র সাংসদ যিনি সংসদে দেশের ৪টি রাজ্য থেকে প্রতিনিধিত্ব করেছেন।উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, গুজরাত এবং দিল্লি মিলিয়ে ৪টি রাজ্য। শুধু ভারত নয়, গোটা পৃথিবীর রাজনীতিতে এটি বিরল কৃতিত্ব বলেই ধারণা করা যেতে পারে।

বাজপেয়ী যথন প্রধানমন্ত্রী তখন বামপন্থী দলগুলি বারবার তাঁর সমালোচনায় সরব হয়েছে। তা সত্ত্বেও বামপন্থীরা মনে করেন, তিনি আলোচনা-সমালোচনার সমস্ত পথই খোলা রাখার চেষ্টা করতেন। যে কোনও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে সমস্ত বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির বক্তব্যকে গুরুত্ব দিতেন।

যখন আমেরিকা ইরাক আক্রমণ করে তখন যুগ্ম শক্তির সঙ্গে ভারতের অংশগ্রহণের প্রসঙ্গে তিনি সিপিএম নেতা হরকিষেণ সিং সুরজিৎ এবং সিপিআই নেতা এবি বর্ধনকে নিয়ে সর্বদলীয় বৈঠকে বসেছিলেন। জননেতা এবং স্থিতপ্রজ্ঞ রাজনৈতিক অটল বিহারী বাজপেয়ী ১৯৯৯ সালের ১৩ অক্টোবর পর পর তৃতীয়বারের জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বভার নেন। জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট নামে এক নতুন জোট সরকারের প্রধান হিসাবে তিনি এই পদে মনোনীত হন। এর আগে, ১৯৯৬ সালেও অল্প সময়ের জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।

পণ্ডিত জওহরলাল নেহরুর পর তিনিই প্রথম প্রধানমন্ত্রী যিনি পরপর দু’বারের জন্য জনাদেশ পেয়ে এই পদে আসীন হন। খ্যাতনামা সংসদবেত্তা হিসাবে তাঁর রাজনৈতিক জীবন চার দশকের বেশি সময়ের। এটিও একটি রেকর্ড।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী, বিদেশ মন্ত্রী, বিরোধী দলনেতা, সংসদের বহু গুরুত্বপূর্ণ স্থায়ী কমিটির প্রধান হিসাবে তিনি স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে ভারতের অভ্যন্তরীণ এবং বিদেশ নীতির রূপরেখা নির্ধারণে অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছেন। তাঁর শাসনকালে অর্থনীতি থেকে প্রতিরক্ষা, একাধিক জায়গায় বিশ্বমানচিত্রে সগৌরবে দাপট দেখিয়েছে এই দেশ। জঙ্গি হামলার মতো বিপদ যেমন দেখেছে এই শাসনকাল, তেমনই দেখেছে শত্রুবিনাশের নয়া কৌশল।

পাকিস্তানের মদতে ভারতের মাটিতে জঙ্গি আক্রমণ, কান্দাহারে বিমান অপহরণের মতো একাধিক আপৎকালীন পরিস্থিতির সম্মুখে দাঁড়িয়েছে এদেশ। ২০০১ সালে ২৬ জানুয়ারির সকালে কেঁপে উঠেছিল গুজারাটে ভুজ-সহ বিস্তীর্ণ এলাকা। রিখটার স্কেলে ৭.৭ কম্পনের মাত্রা সেদিন শেষ করে দিয়েছিল ২০ হাজার মানুষের প্রাণ। পরিস্থিতিতি সামলাতে বাজপেয়ী সরকার ঝুঁকি কাঁধে নিয়ে আন্তর্জাতিক মহল থেকে ১.৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ নেয়।

বিদেশ নীতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটা সময়ে ভারতের সম্পর্ক তলানিতে পৌঁছতে শুরু করে। পরিস্থিতির হাল ধরেন অটলবিহারী। শুরু হয় দু'দেশের মধ্যে নতুন করে পথ চলা।

১৯৯৯ সালের লাহোর ঘোষণা ভারত-পাক সম্পর্ককে যেমন নতুন দিশা দেখায়, তেমন বিশ্বের আঙিনায় শান্তিকামী ভারতের এক নতুন ছবি তুলে ধরতে সক্ষম হন অটলবিহারী বাজপেয়ী। এই চুক্তির ফলে দুদেশের সম্পর্ক মজবুত হয়, শান্তি প্রতিষ্ঠার দিকে এগোতে থাকে নওয়াজ শরিফের শাসনাধীন তৎকালীন পাকিস্তান। কিন্তু এর পরবর্তীকালে পরিস্থিতি সমস্যাসঙ্কুল করে তোলেন তৎকালীন পাক প্রেসিডেন্ট পরভেজ মুশারফ।

কার্গিল যুদ্ধ ১৯৯৯ সালের মে থেকে জুলাই মাস। ভারতের সাম্প্রতিক ইতিহাস দেখেছে সীমান্তের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। পাকিস্তানের মদতে কাশ্মীর সীমান্ত দিয়ে ঢুকে পড়তে শুরু করে পাক জঙ্গিরা। ভারতের মাটিতে প্রবেশ করতে থাকে পাকিস্তানি সেনাও। চুপ করে থাকেনি ভারত। যাবতীয় আন্তর্জাতিক ভ্রুকুটি উপেক্ষা করে কড়া জবাব দেয় অটলবিহারীর ভারত। রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শেষে জয় লাভ করে ভারতীয় সেনা। গর্বের জয়ের উদাহরণ রেখে যায় '৯৯ এর কার্গিল যুদ্ধ। যা অটলবিহারী বাজপেয়ীর রীজনৈতিক জীবনের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায়।

tapan-kargilbd_intod_081718042810.jpgকার্গিলে জয়ের পর (ইন্ডিয়া টুডে)

এর আগে ১৯৯৮ সালে রাজস্থানের পোখরানে নিরীক্ষামূলক পরমাণু বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। আন্তর্জাতিক মহলকে অস্ফুটে অটলবিহারীর ভারত বার্তা দেয়... এদেশ আত্মরক্ষায় সক্ষম। সর্বশিক্ষা অভিযান ও সামাজিক উন্নতি অটলবিহারী বাজপেয়ীর আমলে প্রবাসী নাগরিকদের উন্নয়নে যেমন কাজ করেছে, তেমনই দেশে সর্বশিক্ষা অভিযানের মতো গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ চালু করা হয়।

২০০৩ সালে অটল বিহারী সরকারের শাসনকালে পাশ হয় চন্দ্রযান-১ -এর প্রকল্প। মহাকাশ বিজয়ের নতুন স্বপ্ন দেখতে শুরু করে ভারত। চন্দ্রযান পাড়ি দেয় ২০০৮ সালে। ১৯৯৯ সালে ইন্ডিয়ান এয়ারলায়েন্স ফ্লাইট আইসি ৮১৪ অপহরণ করে কান্দাহারে নিয়ে যায় জঙ্গিরা। নেপাল থেকে আগত বিমানটিতে আফগানিস্তানের কান্দাহারে নিয়ে গিয়ে আটকে রাখে পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিরা। জঙ্গিদের গুলিতে মৃত্যু হয় এক যাত্রীর। এরপর আর কোনও ঝুঁকি নেয়নি অটলবিহারীর সরকার। ৭ দিনের লম্বা টালাবাহানার পর মুক্তি পায় ওই ভারতীয় বিমান। ঘরে ফেরেন বাকি অক্ষত যাত্রী ও বিমানকর্মীরা। এই ঘটনাও অটলবিহারীর শাসনকালের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

তবে এ কথাও ঠিক যে লালকৃষ্ণ আডবাণী যখন দলের প্রধান হিসাবে রামমন্দির নিয়ে আন্দোলনের মুখ হয়ে উঠলেন, যার পরিণতিতে কট্টর হিন্দুত্ববাদীরা অযোধ্যার বিতর্কিত সৌধ ভেঙে দিয়েছিল, তখন বাজপেয়ীকে বিশেষ মুখ খুলতে দেখা যায়নি।

উন্মত্ত করসেবকদের হাতে ধ্বংস হয়ে গেল সেই সৌধ। দেশ জুড়ে শুরু হয়ে গেল দাঙ্গা। প্রাণ গেল অসংখ্য মানুষের। সারা দেশে তৈরি হল এক অস্থির পরিস্থিতি। বাবরি মসজিদ নামে সেই সৌধ ধ্বংস করার সে দিনের সেই কাণ্ড কিন্তু কোনও ভাবেই মেনে নিতে পারেননি অটলবিহারী বাজপেয়ী। এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সেই ঘটনার জন্য গোটা দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন তিনি। বাজপেয়ী বলেছিলেন- এটা হওয়া উচিত হয়নি। আমরা আটকাতে গিয়েছিলাম, কিন্তু সফল হইনি। যা হয়েছে তার জন্য আমরা ক্ষমাপ্রার্থী।

কেন ধ্বংসের হাত থেকে আটকানো যায়নি মসজিদকে, প্রণয় রায়ের এই প্রশ্নের উত্তরে বাজপেয়ী বলেন- করসেবকদের একটা বড়ো অংশ আয়ত্তের বাইরে চলে গিয়েছিল। বিতর্কিত স্থাপত্যে কোনও ক্ষতি করা যাবে না, এ ব্যাপারে বারবার সতর্ক করা হলেও তারা তাতে কান দেয়নি।

 হিন্দি উর্দু মেশানো তুখোড় বক্তৃতা, নিমেষে মানুষকে আকর্ষণ করার ক্ষমতা ছিল এই প্রবীণ রাজনীতিকের। অনেকেই বলেন, ভোটারদের মন বোঝার ক্ষমতা, রাজনীতির পট পরিবর্তন দ্রুত বুঝে ফেলা নেহরুর পর তিনিই ভারতীয় রাজনীতির সবচেয়ে প্রভাবশালী চরিত্র।

tapan_2_081718043630.jpg

শেষশ্রদ্ধা (ইন্ডিয়া টুডে)

If you have a story that looks suspicious, please share with us at factcheck@intoday.com or send us a message on the WhatsApp number 73 7000 7000

Writer

TAPAN MALLICK CHOWDHURY TAPAN MALLICK CHOWDHURY

The writer is a journalist.

Comment