২১ জুলাই: সেদিন ঠিক কী হয়েছিল?
পুলিশের হাতে মমতার প্রহৃত হওয়ার খবর পৌঁছতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে যুব কংগ্রেস সমর্থকরা
- Total Shares
নির্বাচনে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে রিগিং করে থাকে বামফ্রন্ট। অভিযোগ তুলেছিল কংগ্রেস। রাজ্য কংগ্রেসের দাবি ছিল অবিলম্বে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সচিত্র পরিচয় পত্র বাধ্যতামূলক করা হোক। ১৯৯৩ সালের ২১শে জুলাই এই দাবি তুলেই রাইটার্স বিল্ডিং অভিযান করতে পথে নেমেছিল যুব কংগ্রেস।
পরিকল্পনা অনুযায়ী সেদিন শহরের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জমায়েত হয়ে রাইটার্স বিল্ডিং-এর উদেশ্যে এগিয়ে যাওয়ার কথা ছিল যুব কংগ্র্রেস কর্মীদের।
হাওড়া স্টেশনের সামনে বেশ কয়েক হাজার যুব কংগ্রেসকর্মীরা জমায়েত হয়েছিলেন। এর পর তাঁরা মিছিল করে ব্রেবোর্ন রোড ধরে রাইটার্স বিল্ডিং-এর উদ্দেশ্যে রওনা দেন। টি-বোর্ডের সামনে মিছিলের পথ আটকায় পুলিশ। যুব কংগ্রেসকর্মীরা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। পুলিশের ব্যারিকেড ভাঙ্গার চেষ্টা করেন। পাল্টা লাঠিচার্জ করে পুলিশ। টিয়ার গ্যাসও ব্যবহার করা হয়। মিছিল ছত্রভঙ্গ হয়। যুব কংগ্রেস কর্মীরা টি-বোর্ড ও ক্যানিং স্ট্রিট ক্রসিংয়ের মধ্যিখানে অলিতে গলিতে ঢুকে আশ্রয় খোঁজার চেষ্টা করেন। পুলিশও গলিগুলোর ভিতরে ধাওয়া করে তাঁদের লাঠিপেটা করতে থাকে।
এই পরিস্থিতিতেই একজন পুলিশকর্মীকে একটি গলির থেকে বেড়িয়ে আসতে দেখা যায়। তাঁর মাথায় চোট, কপাল দিয়ে গলগল করে রক্ত ঝরছে। লাল রক্তে ভেজা তাঁর সাদা পোশাক। সহকর্মীকে এই অবস্থায় দেখে আরও মারমূখী হয়ে পড়েন পুলিশ।



ঠিক সেই সময় তৎকালীন যুব কংগ্রেস সভাপতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কয়েকজন কংগ্রেস নেতা-নেত্রীকে সঙ্গে করে সেই জায়গায় উপস্থিত হন। ক্রসিংয়ের মাঝে ট্রাফিক পোস্টের উপর উঠে কর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করেন তাঁরা। তাঁকে দেখে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন উপস্থিত পুলিশকর্মীরা। ট্রাফিক পোস্টটি ঘিরে ফেলে শুরু হয় লাঠিচার্জ। মমতাকে রক্ষা করতে যুব কংগ্রেসের অন্যান্য নেতারা মমতাকে ঘিরে একটি সুরক্ষা বলয় তৈরি করেন। পুলিশ চড়াও হয়ে সেই সুরক্ষা বলয়ের উপর। পুলিশের লাঠি হাত থেকে রেহাই পাননি মমতাও। বেদম প্রহারে রাস্তায় জ্ঞান হারান তিনি। তাকে হাসপাতলে স্থানান্তরিত কর হয়।
সেই সময় আরও একটি দলকে মেয়ো রোড - রেড রোড ক্রসিংয়েও আটকে দেয় পুলিশ। শুরু হয় পুলিশের সঙ্গে খন্ডযুদ্ধ। সেই সময় সেখানে খবর পৌছয়ে যে পুলিশের মমতা হাতে প্রহৃত হয়েছেন। খবর শুনে ক্ষিপ্ত যুবকংগ্রেস কর্মীরা মারমূখী হয়ে ওঠেন। খন্ড যুদ্ধ তখন 'যুদ্ধে' পরিণত হয়েছে। সেদিন মেয়ো রোডে উপস্থিত কংগ্রেস কর্মীদের মরিয়া মনোভাব দেখে ভয় পায় পুলিশ। আক্রমণই নিয়ন্ত্রণের সেরা উপায় - এই মনোভাব নিয়ে পুলিশকে গুলি চালানোর নির্দেশ দেন পুলিশের শীর্ষকর্তারা।
সেদিন দুশোর উপরে যুব কংগ্রেস কর্মী আহত হন। পুলিশের গুলিতে প্রাণ যায় যুব কংগ্রেসের ১৩জন তরুণ কর্মীর।
২০১৯ সালে ভারতে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সচিত্র পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক। আর এই দাবি পূরণের আন্দোলনে যারা সেদিন প্রাণ দিয়েছিলেন তাঁদের ভোটাধিকারটাই আর নেই।

