তৃণমূল কংগ্রেস ও মমতার প্রতি কেন কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন মোদী?

গণতন্ত্রে আস্থা নেই মুখ্যমন্ত্রীর, পঞ্চায়েত ভোটে বঞ্চিত কৃষকরা

 |  3-minute read |   16-07-2018
  • Total Shares

কংগ্রেসের মণিশঙ্কর আইয়ার তাঁকে চা-ওয়ালা বলে কটাক্ষ করেছিলেন। নরেন্দ্র মোদী তার বিরোধিতা না করে সেটাকেই নিজের পক্ষে টেনে নিয়ে প্রচার করেছিলেন। তিনি নিজেকে শ্রমিক-মজদুরের প্রতিনিধি হিসাবে তুলে ধরলেন। বিজেপিতে পরিবারতন্ত্র নেই বলে তুলে ধরলেন আর দেশ জুড়ে শুরু হয়ে গেল চায়ে পে চর্চা।

এ রাজ্যে নরেন্দ্র মোদী আসছেন। তাঁকে আর তাঁর দলকে অস্বস্তিতে ফেলতে বিজেপির পতাকা ছাপিয়ে লাগিয়ে দেওয়া হল তৃণমূলের পতাকা। সঙ্গে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রীর হাত জোড় করে হাসি মুখের ব্যানার। এটাকেও নিজের দিকে টেনে নিলেন মেদিনীপুরে কৃষক সমাবেশে যোগ দিতে আসা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তৃণমূল যে ভাবে তাঁকে স্বাগত জানিয়েছে এবং মুখ্যমন্ত্রী যে ভাবে জোড়-হাতে তাঁকে স্বাগত জানিয়েছেন, সে জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন।

body2_071618070310.jpgকৃষকদের উদ্দেশে বলছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (সৌজন্য: টুইটার)

প্রত্যাশিত ভাবেই বাংলায় দু’চার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। কৃষকদের জন্য তাঁর সরকার কী করেছে সে কথা বলার পাশাপাশি এ দিন তিনি তৃণমূলের সিন্ডিকেট নিয়ে সবচেয়ে বেশি সরব ছিলেন। রাজ্যে সব কিছু ঠিক করে দিচ্ছে সিন্ডিকেট। একই সঙ্গে এ রাজ্যে ফড়েদের জন্য কী ভাবে কৃষকরা তাঁদের ফসলের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না, সে কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

পঞ্চায়েতের বড় সংখ্যক ভোটার কৃষিজীবী। তাই গ্রামপঞ্চায়েতে ৩৪ শতাংশ আসনে জুলুম করে তৃণমূল প্রার্থী দিতে না পারায় কৃষকরাই যে নিজের মত জানাতে বঞ্চিত হয়েছেন সে কথা বলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। পরে সেই প্রসঙ্গ তোলেন প্রধানমন্ত্রীও। রাজ্যের শাসকদলের গণতন্ত্রের প্রতি ও জনমতের প্রতি আস্থা নেই বলেও মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

মেদিনীপুরের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস টেনে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, মাতঙ্গিনী হাজরা ও ক্ষুদিরাম বসুর নাম তিনি করেছেন প্রত্যাশিত ভাবেই। নন্দীগ্রামের কথা সরাসরি উল্লেখ না করলেও এই জোলার মাটিকে পরিবর্তনের মাটি বলে উল্লেখ করে রাজ্যের শাসকদলকে উৎখাত করার ডাক এই ময়দান থেকেই দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বন্দেমাতরম্ ও জনগণমন প্রসঙ্গ ছুঁয়ে যাওয়ার পাশাপাশি চিত্তরঞ্জন দাশ, সুভাষচন্দ্র বসু ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের কথা তিনি বলেন।

body3_071618070330.jpgপ্রধানমন্ত্রী জনসভায় শ্রোতারা (সৌজন্য: টুইটার)

জনসঙ্ঘ প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই মেদিনীপুর থেকে তারা দুটি আসন পেয়িছিল। রাজ্যের ন’জন জনসঙ্ঘ বিধায়কের মধ্যে ছ’জন নির্বাচিত হয়েছিলেন অবিভক্ত মেদিনীপুর জেলা থেকেই। এ বার সাবেক অবিভক্ত মেদিনীপুরে পঞ্চায়েত ভোটে দারুণ ফল করেছে বিজেপি। তাই এই জায়গাকে বেছে নিয়ে ভোটের প্রচার শুরু করে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

তাঁর বক্তৃতা চলাকালীন মঞ্চের একাংশ ভেঙে পড়ে। তিনি কিছুক্ষণের জন্য বক্তৃতা থামিয়ে দেন। পরে আহতদের দেখতে হাসপাতালে যান। হাসপাতালে আলোর অভাব তিনি দেখেছেন। হয়তো পরের বারে রাজ্যের হাসপাতালের বেহাল দশা নিয়ে বলতে পারেন প্রধানমন্ত্রী।

২০১৪ সালে সারা দেশে বিজেপি ভালো ফল করলেও পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা, অন্ধ্রপ্রদেশ ও তেলাঙ্গনা থেকে প্রায় শূন্য হাতে ফিরেছে বিজেপি। তাই এ বার তাদের লক্ষ্য এই চার রাজ্যে যথাসম্ভব আসন বাড়ানো। এই চার রাজ্যের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে পঞ্চায়েত ভোটে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বিজেপি। ওড়িশাতেও সর্বেশষ জেলাস্তরের ভোটে আসনসংখ্যার নিরিখে বিজেডির সঙ্গে নিজেদের প্রায় সমান করে ফেলেছে বিজেপি। এই দুই রাজ্যের পাশাপাশি অন্ধ্রপ্রদেশ ও তেলাঙ্গনাও যথেষ্ট ভাবে কৃষিনির্ভর। তাই কৃষকদের উজাড় করে দিচ্ছে বিজেপি।

If you have a story that looks suspicious, please share with us at factcheck@intoday.com or send us a message on the WhatsApp number 73 7000 7000

Writer

SUMITRO BANDYOPADHAY
Comment