পঞ্চায়েত ভোট নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বিড়ম্বনা কোথায়
বিপক্ষে গিয়েছে, তাই রায় দেখে অগ্নিশর্মা বিরোধীরা
- Total Shares
আদালত এক অদ্ভুত বিড়ম্বনায়। আদালতের রায় পক্ষে গেলে আদালত মহান, অথচ সেই আদালতেরই রায় বিপক্ষে গেলে আেদালত পক্ষপাতদুষ্ট অথবা ক্রয়যোগ্য। কিন্তু আদালতের সীমাবদ্ধতা আইন এবং আইনের নির্দিষ্ট পরিসর।
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পশ্চিমবঙ্গের ২০,০০০ আসনে নির্বাচন বৈধ। অতএব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উচ্ছ্বসিত। অন্যদিকে বিরোধীপক্ষ আদালতের সমালোচনায় মুখর। বারবারই প্রশ্ন উঠেছে যে আদালতেরই বা এক্তিয়ার কতটুকু এবং সংসদ ও বিধানসভার এক্তিয়ার কতটুকু। এ বিতর্ক থাকবেই যতক্ষণ স্বার্থের সংঘাত থাকবে।
সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে অখুশি বিরোধীরা (ছবি: পিটিআই)
পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত নির্বাচনের নিরিখে কতকগুলি বিষয় নির্দিষ্ট হওয়া খুব জরুরি। পঞ্চায়েত নির্বাচন যত না মাঠে-ময়দানে হয়েছে তার চেয়ে অনেক বেশি হয়েছে আদালতের চার দেওয়ালের ভিতরে, সওয়াল-জবাবের মধ্য দিয়ে। কেন এই প্রবণতা?
রাজনীতি তো মাঠে-ময়দানে কেরামতি দেখানোর জায়গা। রাজনীতি মানুষকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে চলার কৌশল। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচন পশ্চিমবঙ্গের কোনও নতুন ঘটনা নয়। তা হলে এত উত্তেজনা কিসের? দেশের সর্বোচ্চ আদালত আইনের পরিসরের মধ্যে থেকেই রায় ঘোষণা করেছে। যদি সত্যিই এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে হয়, তা হলে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরম্পরার একটি মৌলিক পরিবর্তন প্রয়োজন যার মধ্যে অন্যতম হল রাজ্য নির্বাচন কমিশনের আইন পরিবর্তন।
রাজনৈতিক ফায়দা তোলার জন্য বামফ্রন্ট যে আইন প্রণয়ন করে গেছে সেই আইনেরই ফাঁক-ফোকরকে কাজে লাহগিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। এটা কোনও নতুন প্রবণতা নয়। যে বিবৃতি এক সময় সিপিআইএমের তৎকালীন রাজ্যসম্পাদক প্রয়াত অনিল বিশ্বাস দিতেন হুবহু একই বিবৃতি আজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিচ্ছেন। কালকে যে দিলীপ ঘোষ দেবেন না তার নিশ্চয়তা কোথায়?
যে দিন থেকে তৃণমূল কংগ্রেস বিরোধী দল হিসাবে পশ্চিমবঙ্গের মাঠে-ময়দানে শক্তি অর্জন করেছে সেদিন থেকে আদালতের দরজায় খটখট করার প্রবণতা কমেছে। আজকে সেই শূন্যস্থান পূরণ করছে বামফ্রন্ট, বিজেপি এবং কংগ্রেস।
ই-মনোনয়নে মান্যতা দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট (ছবি: পিটিআই)
২০১৯ সালে বিজেপি নাকি রাজ্যে চমক সৃষ্টি করবে। অছত আজ তারা তাদের গ্রামপঞ্চায়েতর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সুরক্ষা দিতে পারছে না। এই যদি সংগঠনের নমুনা হয়, তা হলে আদালতের দায় নয় যে রাজ্যে তারা বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করবে। এ বারের পঞ্চায়েত নির্বাচনে বেশ কয়েকজন বিজেপি প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁরা কতদিন বিজেপির পতাকাতলে থাকবেন তা দেখবার কৌতূহল রয়েই গেছে। অথবা উল্টোদিক দিয়ে বিজেপি কতদিন তাদের নিজের শিবিরে রাখতে পারবে সেটাও বড় প্রশ্ন।
বিধানসভা বা রাজ্যস্তরের বিরোধী নেতারা যদি সরকারপক্ষের চাপ সহ্য করতে না পারে তা হলে একজন সাধারণ পঞ্চায়েত সদস্যকে দোষারোপ করার কোনও কারণ নেই। পুলিশ এবং প্রশাসন দিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তোলা – এটা পশ্চিমবঙ্গের স্বাধীনোত্তর যুগ থেকেই দগদগে ঘায়ের মতো। এ নিয়ে বহু আলোচনা হয়েছে, বহু বিতর্ক হয়েছে। কিন্তু সরকারপক্ষে থাকা কোনও রাজনৈতিক দল এই অপচেষ্টার ঊর্ধ্বে ওঠার চেষ্টা করেনি।
আর আদালত স্বপক্ষে রায় দেয়নি বলে বিরোধীপক্ষ আজ অগ্নিশর্মা। কাল আবার আদালতের পক্ষে সাধু রব উঠবে যদি পছন্দমতো রায় পাওয়া যায়।
এই খণ্ডচিত্র গুলোই তৃণমূলের শাসনে বাংলার তথাকথিত 'অবাধ ও শান্তিপূর্ণ' পঞ্চায়েত নির্বাচনের মুখোশ উন্মোচন করে দেয়। সুপ্রিম কোর্টের যে রায় মমতা ব্যানার্জির প্রশান্তির কারণ হয়েছে, তা গণতন্ত্রের পক্ষে বিপজ্জনক হলো কি? লুম্পেনদের আরও দুঃশাসন হয়ে ওঠায় উৎসাহিত করল কি? pic.twitter.com/41FtXyivIw
— CPI(M) WEST BENGAL (@CPIM_WESTBENGAL) August 25, 2018
পুলিশী জুলুম ও শাসক @AITCofficial-র জবরদখলের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে নকশালবাড়ি পঞ্চায়েতে বামফ্রন্টের প্রতি আস্থা জ্ঞাপনের জন্য, জনগণ কে অভিনন্দন জানিয়ে, মহামান্য কোলকাতা হাইকোর্টের রায় কে স্বাগত জানিয়ে গতকাল নকশালবাড়িতে দার্জিলিং জেলা বামফ্রন্টের দৃপ্ত মিছিল। #WestBengal pic.twitter.com/Oe4wVcZTUE
— CPI(M) WEST BENGAL (@CPIM_WESTBENGAL) August 27, 2018
কিন্তু বিরোধী রাজনীতি এতে করে সুসংহত করা যায় না। বিরোধী রাজনীতির একমাত্র হাতিয়ার হল আন্দোলন, আন্দোলন এবং শুধুমাত্র আন্দোলন, যা গত সাত বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গে অনুপস্থিত। বিরোধীপক্ষ অলৌকিক কোনও ঘটনার অপেক্ষায়।

