জাতীয় রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিক হতে ভরসা ইয়েচুরির লাইনে জোট

শেষ পর্যন্ত দলকে বাস্তবতার কথা বোঝাতে পেরেছেন ইয়েচুরি

 |  2-minute read |   08-06-2018
  • Total Shares

২০০৮ সালে প্রথম ইউপিএ সরকার থেকে সমর্থন তুলে নেওয়ার পরে যত দিন গেছে জাতীয় রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিকতা হারিয়েছে সিপিএম। ওই সময় মুলায়ম সিং যাদব, মায়াবতী ও জয়ললিতাদের উপর ভরসা করে আস্থা ভোটে মনমোহন সিং সরকারকে ফেলতে গিয়ে সিপিএমের মুখ পুড়েছিল। জাতীয় রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিকতা হারাবার পাশাপাশি তিন বছরের মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গও হাতছাড়া হয়েছে সিপিএমের।

এই ২০১৮ সালে দাঁড়িয়ে ত্রিপুরাও হারিয়েছে সিপিএম। এখন শুধুমাত্র কেরলে সরকারে রয়েছে তারা। জাতীয় রাজনীতির প্রেক্ষাপটে ভেসে থাকার জন্য আন্তর্পার্টি সংগ্রাম করতে হয়েছে দলের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরিকে। দলের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের সমর্থন ছিল দলের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ কারাটের দিকে। প্রকাশ গোষ্ঠীর বক্তব্য ছিল কংগ্রেসের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক না রেখে বিজেপি বিরোধিতায় অন্য বামদলগুলোকে নিয়ে চলতে হবে।

body1_060818073054.jpgপ্রকাশ লবিকেও বোঝাতে সফল হয়েছেন সীতারাম

বাস্তববাদী সীতারাম বুঝেছেন সারা দেশে দলের সাংগঠনিক অবস্থা যে রকম দুর্বল তাতে জাতীয় রাজনীতির মূলস্রোত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে লড়াই করলে স্বখাত সলিলে ডুবতে হবে। তাই, সীতারামের সওয়াল ছিল কংগ্রেস সহ অন্যান্য গণতান্ত্রিক দলগুলোর সঙ্গে জোট বেঁধে বিজেপির বিরোধিতা করতে হবে। শেষ পর্যন্ত দলের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশকে নিজের মত বোঝাতে পেরেছেন সীতারাম। এই কারণেই কর্নাটকে বিজেপি বিরোধী দলগুলোর ঐক্যের মঞ্চে ঠাঁই হয়েছিল সিপিএমের।

প্রকাশ কারাট যে কেরল লবির সমর্থন নিয়ে ছড়ি ঘোরাচ্ছিলেন সেই কেরলেরও বোধোদয় হয়েছে। কেরলের গুরুত্বপূর্ণ নেতা কোডিয়ারি বালকৃষ্ণন সম্প্রতি প্রকাশকে জানিয়েছেন লোকসভা নির্বাচনে সারা দেশে ১৫০টির বেশি আসনে সিপিএম প্রার্থী দিতে পারবে না। যেখানে সিপিএমের প্রার্থী থাকবে না সেখানে কংগ্রেস সহ অন্যান্য গণতান্ত্রিক ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলোকে তাঁরা সমর্থন দেবেন।

body_060818073158.jpgজোটে রাজি বলেই কর্নাটকে বিরোধী দলগুলোর ঐক্যের মঞ্চে ঠাঁই হয়েছিল সিপিএমের

এখান থেকে একটা কথা পরিষ্কার, সিপিএম নিজের ওজন বুঝে এগোতে চাইছে। সম্প্রতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাহুল গান্ধীকে পরামর্শ দিয়েছিলেন বিজেপিকে রুখতে হলে একের বিরুদ্ধে এক প্রার্থী দিতে হবে। এই ফর্মুলায় ইতিমধ্যেই উত্তরপ্রদেশ ও বিহারে ফল পাওয়া গিয়েছে। সিপিএম যদি এই শিবিরে থাকতে পারে তাহলে তাদের লাভই হবে।

এই মুহূর্তে বামেদের কাছে টানার তাগিদ অন্যান্য বিজেপি-বিরোধী দলগুলোর খুব একটা নেই। সিপিএমকেই আগ্রহ দেখিয়ে বিজেপি বিরোধী যে জোট দানা বাঁধছে সেখানে জায়গা করে নিতে হবে।

সীতারাম ইয়েচুরি এই পথেই দলকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইছেন। ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে এই পথে গেলে বামেরা জাতীয় রাজনীতিতে কিছুটা প্রাসঙ্গিকতা ফিরে পাবে তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

If you have a story that looks suspicious, please share with us at factcheck@intoday.com or send us a message on the WhatsApp number 73 7000 7000

Writer

BISWAJIT BHATTACHARYA BISWAJIT BHATTACHARYA

Veteran journalist. Left critic. Political commentator.

Comment