স্নেহপদার্থের বিকল্পে খাদ্যে কাঠের গুঁড়োর কি সত্যি কোনও প্রয়োজন আছে?

গাছের বাকল থেকে নতুন একটি উপাদান তৈরি করা হয়েছে

 |  3-minute read |   11-09-2018
  • Total Shares

তোমাকে একদিন নিমন্তন্ন করে কেক খাওয়াব। না, বলতে চাই কাঠ খাওয়াব।

সত্যি বলছি কাঠই খাওয়াব।

গাছের বাকল থেকে নতুন একটি উপাদান তৈরি করা হয়েছে। এতে প্রচুর পরিমাণে আঁশ জাতীয় পদার্থ রয়েছে, এমনটাই দাবি করেছেন যাঁরা এই উপাদানটি বানিয়েছেন।

কাঠও যে কোনও খাদ্য হতে পারে এ হেন অকল্পনীয় পদ্ধতিটি নরওয়ের একটি সংস্থা আবিষ্কার করেছে।

সংস্থাটি কাঠকে প্রক্রিয়াকরণ করে একটি গুঁড়ো তৈরি করেছে যা খাওয়া যায়। কাঠের বাকলে যে সেলুলোজ থাকে তাকেই ফাইবারে পরিণত করা হয়। গুঁড়োটিতে জল ধরে রাখার ক্ষমতা অনেক বেশি বলে তাকে জলের সঙ্গে মিশিয়ে একটি থকথকে ক্রিম জাতীয় দ্রবণ তৈরি করা হয়। দ্রবণটি অনেকটা স্নেহ পদার্থর মতো এবং খেতেও বেশ সুস্বাদু।

1_091118084656.jpg

সসেজ, মেয়নিজ, কেক, আইসক্রিম, কুলফি জাতীয় খাবার, প্রোটিন সম্ব্রিদ্ধ পানীয়, বিস্কুট, পাই প্যাকেট জাত খাবারদাবারে স্নেহপদার্থ ও ক্যালোরির মাত্রা কম করতে এবং ফাইবারের মাত্রা বৃদ্ধি করতে এই কাঠ গুঁড়ো ব্যবহার করা হয়।

নিঃসন্দেহে অসাধারণ, তবে অপরিহার্য নয়। আমার মনে হয়।

খাবারে ফাইবার নিয়ে আমরা কেউ তেমন একটা মাথা ঘামাই না। মানলাম। বেশির ভাগ মানুষ মনে করেন ফাইবার আমাদের পেট ভরাতে সাহায্য করে। তবে সত্যিটা হল ফাইবার আমাদের প্রকৃত বন্ধু। তাই ফাইবারকে বাদ দিলে চলবে না।

কেন?

এটা খেলে আমাদের পেট অনেক্ষন ভরা থাকে ফলে বারে বারে খিদে পায় না।

কারণ পেটে থাকা খাবার ধীরে ধীরে হজম হয়। পেটের ভেতরে গিয়ে এই উপাদানটি পাকস্থলীতে থাকা জলের সঙ্গে মিশে গিয়ে জেলের মতো একটি পদার্থে রূপান্তরিত হয় ফলে খাবার ধীরে ধীরে হজম করায়। খাবার হজম হতে সময় লাগে বলে রক্তে গ্লুকোস বা শর্করা ধীরে ধীরে পৌঁছয়। তাই শরীরে ইনসুলিনের মাত্রা কম থাকে এবং শরীরে জমে থাকা স্নেহপদার্থর মাত্রা কম হয়। এর ফলে ভুঁড়ি হয় না এবং কোমরের অংশ পাতলা থাকে।

2_091118084709.jpg

শরীরে ইনসুলিন স্পাইকের সমস্যা ধরা পড়লে  বুঝতে হবে যে শরীর ঠিকমত ভাবে স্নেহপদার্থ জমা করতে পারছে না। শরীরে ইনসুলিন স্পাইক হলে ক্লান্তি বোধ হয় এবং বারে বারে খিদে পায়। খাদ্যতালিকায় যদি প্রচুর পরিমাণে ফাইবার রাখা যায় তাহলে এই সমস্যাগুলো থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

আমরা যদি খাদ্যতালিকায় প্রচুর পরিমাণে ফলমূল, শাকসবজি, মটরশুটি ও শস্য জাতীয় খাবার বেশি রাখি তাহলে এই সমস্যার সমাধান হতে পারে। কারণ এই খাবারগুলতে ফাইবারের পরিমাণ অনেক বেশি।

তবে যেসব ফাস্ট ফুডে ফাইবারের মাত্রা বেশি সেসব খাবার খাওয়া কোনও কাজের কথা নয়। ফলে যেসব খাবার খেলে শরীরের উপকার হয় বা যে সব পুষ্টিকর খাবারদাবার খেলে আমাদের শরীর ভালো থাকে সেই খাবার কম খেয়ে প্রক্রিয়াজাত খাবার খাবার দিকে আমাদের ঝোঁক হবে অনেক বেশি।

যদিও এইসব প্রক্রিয়াজাত খাবারে পুষ্টিগুণ কম থাকে এবং প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে ও স্নেহপদার্থও থাকে অনেক কম। অতিরিক্ত পরিমাণে প্রক্রিয়াজাত খাবারদাবার খাওয়া কোনও কাজের কথা নয়।

3_091118084723.jpg

ব্যক্তিগত ভাবে আমার মনে হয় এইসব খাবার যুক্ত খাবারের খবর পড়তে যতটা ভালো লাগে বাস্তবে ঠিক ততটা হয়তো নয়। কারণ প্রচুর পরিমাণে ফাইবার যুক্ত খাবার খেতে হবে বলেই আমরা এই নতুন  জিনিসটি যদি খাই তাহলে পুষ্টিকর খাবারদাবার খাবার আর কোনও অভ্যাস আমাদের থাকবে না। ফলে যেমন শরীরের ওজন বাড়বে ঠিক তেমনভাবেই আমাদের শরীরে পুষ্টির অভাব দেখা দেবে।

কী ভাবে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার যুক্ত খাবারদাবার খাবেন?

প্রচুর পরিমাণে ফলমূল ও শাকসবজি খান।

দিনে নির্দিষ্ট সময় ফল খান, যেমন প্রাতরাশে খান একটা আপেল, বিকেলে এক বাটি পাকা পেঁপে বা কয়েক টুকরো কমলালেবু খান এবং রাতের খাবারের সঙ্গে কিছুটা সবজি অল্প তেলে নাড়াচাড়া করে নিয়ে খান।

আর একটা ভালো উপায় হল বেশ কয়েকটি বীজ যেমন তিসি, চন্দ্রমুখীফুলের বীজ, তিল এবং কুমড়োর বীজ সঙ্গে কয়েকটা কাঠ বাদাম একসঙ্গে গুঁড়ো করে নিন। এই গুঁড়োটি প্রত্যেকদিন দু'টেবিল চামচ করে খান।

4_091118084736.jpg

এছাড়াও খাদ্যশস্য দিয়ে বিভিন্ন পদ রান্না করার সময় বা সুপ অথবা দইতে মিশিয়ে খেতে পারেন।

বিভিন্ন ধরণের ডাল, নানা ধরণের খোসা সমেত শস্য যেমন  ব্রাউন রাইস, আটার পাউরুটি, জই (ওটস), বার্লি প্রভৃতি পাশাপাশি মটরশুটি জাতীয় খাবারদাবার বেশি করে খান। প্রত্যেকদিন সকালে প্রাতরাশে কিছুটা ফাইবার যুক্ত খাবার খান এর ফলে দুপুরের দিকে বারে বারে খিদে পাবে না।

সারাদিন ধরে বারে বারে জল খান যাতে ফাইবার যুক্ত খাবার ঠিকঠাক হজম হয় এবং শরীরে তা যেন ভালোভাবে কাজ করতে পারে।

লেখাটি ইংরেজিতে পড়ুন

If you have a story that looks suspicious, please share with us at factcheck@intoday.com or send us a message on the WhatsApp number 73 7000 7000

Writer

KAVITA DEVGAN
Comment